আবু শারাফ হিজবুল কাদের সাদেক , এ এস এইচ কে সাদেক নামে পরিচিত, জন্মঃ ৩০ এপ্রিল, ১৯৩৪ – ৯ সেপ্টেম্বর, ২০০৭) ছিলেন একজন বাংলাদেশী সরকারি আমলা ও রাজনীতিবিদ। তিনি বাংলাদেশ সরকারের শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাননীয় মন্ত্রী ছিলেন। একুশে ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস এবং সুন্দরবনকে বিশ্ব ঐতিহ্যের স্বীকৃতি প্রদানের জন্য তিনি কাজ করেছেন এবং সফল হয়েছেন। এই কাজ এবং শিক্ষা বিস্তারে অবদানের জন্য বাংলাদেশ সরকার তাকে ২০১০ সালে মরণোত্তর একুশে পদকে ভূষিত করে।
Table of Contents
আবু শারাফ হিজবুল কাদের সাদেক | বাংলাদেশী রাজনীতিবিদ

প্রাথমিক জীবন
সাদেক ১৯৩৪ সালের ৩০ এপ্রিল তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের বেঙ্গল প্রেসিডেন্সি (বর্তমান বাংলাদেশ) যশোরের কেশবপুর উপজেলার বড়েঙ্গা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা ইয়াহিয়া সাদেক ছিলেন বাংলা সরকারের যুগ্ম কমিশনার। সাদেক ১৯৪৯ সালে ম্যাট্রিকুলেশন, ১৯৫১ সালে ইন্টারমিডিয়েট, ১৯৫৪ সালে অর্থনীতিতে স্নাতক (সম্মান) পাস করেন। তিনি ১৯৫৫ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতি বিষয়ে এম.এ পাস করেন। তিনি ১৯৫৭ সালে যুক্তরাজ্যের ক্যামব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয় অধীনস্থ কুইন্স কলেজ থেকে অর্থনীতি ও শাসনতন্ত্র বিষয়ে এবং ১৯৬৩ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটসের উইলিয়াম কলেজে অর্থনীতি বিষয়ে পড়াশুনা করেন।
কর্মজীবন
সাদেক ১৯৫৬ সালে সিভিল সার্ভিস অব পাকিস্তান (সিএসপি) ক্যাডারে যোগ দেন। এ সময় তিনি পাকিস্তান ইনস্টিটিউট অব ডেভেলপমেন্ট ইকোনমিক্সে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন।
১৯৫৯ থেকে ১৯৬১ সাল পর্যন্ত তিনি নীলফামারী ও নারায়ণগঞ্জে মহকুমা প্রশাসকের দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৬৬ থেকে ৬৭ সাল পর্যন্ত তিনি কুমিল্লার জেলা প্রশাসক এবং ১৯৬৯-৭০ সালে পূর্ব পাকিস্তানের গভর্নরের সচিব পদে নিযুক্ত হন। বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর তিনি প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দিন আহমদের সচিব এবং ১৯৭২ সালে রাষ্ট্রপতির মূখ্য সচিব ছিলেন। সরকারি চাকুরি জীবনে তিনি শিল্প মন্ত্রণালয়ের সচিব (জুন থেকে ডিসেম্বর ১৯৭২), গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সচিব (১৩ ফেব্রুয়ারি থেকে ৫ নভেম্বর ১৯৮৩),
প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব (১ নভেম্বর ১৯৮৩ থেকে ২ মে ১৯৮৫), ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব পাবলিক অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (নিপা)-এর পরিচালক, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব, পেট্রোলিয়াম ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব হিসেবে নিযুক্ত ছিলেন। তিনি জাতিসংঘে ইউনিডোর প্রশাসনিক বিশেষজ্ঞ এবং আঞ্চলিক শিল্প উপদেষ্টা হিসেবে ১৯৭৪-১৯৭৮ সালে কুয়ালালামপুরে, ১৯৮৫-১৯৯০ সালে ব্যাংককে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেন। তিনি ১৯৮৮ সালে স্বেচ্ছায় চাকরি থেকে অবসর গ্রহণ করেন।

অবসর গ্রহণের পর ১৯৯২ সাল থেকে সাদেক আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে সক্রিয় হন। ১৯৯৬ সালে সপ্তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে যশোর-৬ (কেশবপুর) আসন থেকে জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৯৬ সালের ২৩ জুন মন্ত্রীপরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নেন এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা বিভাগ এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব লাভ করেন। তিনি শিক্ষামন্ত্রী থাকাকালীন বিভিন্ন পরীক্ষার ফলাফলে গ্রেডিং পদ্ধতি চালু হয়। তিনি ২০০১ সালে অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দ্বিতীয়বারের মত যশোর-৬ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। এ সময় তিনি সরকারি হিসাব এবং প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সদস্য ছিলেন।
মৃত্যু
সাদেক ২০০৭ সালের ৯ সেপ্টেম্বর মৃত্যুবরণ করেন।

প্রকাশনা
- স্মারক গ্রন্থ, বিশ্বসাহিত্য ভবন।
- শিক্ষানীতি ও শিক্ষাভাবনা, আগামী প্রকাশনী।
সম্মাননা
সমাজসেবায় একুশে পদক, ২০১০ (মরণোত্তর)।
আরও দেখুনঃ