সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবিতে সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) ইরান-সম্পৃক্ত একটি ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় এক ফিলিস্তিনি নাগরিক নিহত হয়েছেন। স্থানীয় আল বাহিয়া এলাকায় একটি বেসামরিক গাড়ির ওপর ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত করলে ঘটনাস্থলেই ওই ব্যক্তি মারা যান। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, জরুরি সেবা দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে। হামলার প্রেক্ষাপট এখনও সম্পূর্ণভাবে স্পষ্ট নয়।
একই দিনে ফুজাইরাহ বন্দরে একটি ড্রোন হামলার কারণে তেল লোডিং কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ করতে হয়। হামলার ফলে ফুজাইরাহর পেট্রোলিয়াম শিল্পাঞ্চলে আগুন লেগে যায়। ফুজাইরাহ সরকারের গণমাধ্যম দপ্তর জানিয়েছে, সিভিল ডিফেন্সের সদস্যরা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে কাজ করছেন এবং এ ঘটনায় এখনও কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
ফুজাইরাহ বন্দর ওমান সাগরের তীরে এবং হরমুজ প্রণালির ঠিক বাইরে অবস্থিত, যা সংযুক্ত আরব আমিরাতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তেল রপ্তানি কেন্দ্র। এই বন্দর থেকে দৈনিক প্রায় ১০ লাখ ব্যারেল মুরবান ক্রুড তেল রপ্তানি করা হয়। নিরাপত্তা ঝুঁকি বৃদ্ধি পেলে বৈশ্বিক তেল বাজারেও প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
অপরদিকে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিভ্রান্তিকর ও মিথ্যা তথ্য ছড়ানোর অভিযোগে সংযুক্ত আরব আমিরাতে বাংলাদেশিসহ ৩৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অ্যাটর্নি জেনারেল ড. হামাদ সাইফ আল শামসি রোববার (১৫ মার্চ) তাদের গ্রেপ্তারের নির্দেশ দেন। তদন্তে দেখা গেছে, আসামিরা ইরান-যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল সম্পর্কিত ভুয়া ভিডিও ও তথ্য ছড়াচ্ছিল। গ্রেপ্তারদের মধ্যে ভারত, পাকিস্তান ও নেপালের নাগরিকরাও রয়েছেন।
সাম্প্রতিক হামলা ও গ্রেপ্তারের সংক্ষিপ্ত তথ্য নিম্নে দেওয়া হলো:
| তারিখ | স্থান | ঘটনা | প্রভাব |
|---|---|---|---|
| ১৬ ফেব্রুয়ারি | আবুধাবি, আল বাহিয়া | ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ফিলিস্তিনি নিহত | জরুরি সেবা কাজ, নিহত ১ |
| ১৬ ফেব্রুয়ারি | ফুজাইরাহ বন্দর | ড্রোন হামলা, তেল লোডিং সাময়িক বন্ধ | আগুন নিয়ন্ত্রণে, কোনো হতাহতের খবর নেই |
| ১৫ মার্চ | আবুধাবি ও অন্যান্য এলাকা | সামাজিক মাধ্যমে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো | ৩৫ জন গ্রেপ্তার, দ্রুত বিচারের মুখোমুখি হবে |
মধ্যপ্রাচ্যে এই ধরণের হামলা ও উত্তেজনা নিরাপত্তা ও অর্থনীতির ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলছে। বিশেষ করে গুরুত্বপূর্ণ তেল রপ্তানি কেন্দ্রগুলোতে হামলা গ্লোবাল তেল সরবরাহকে অনিশ্চয়তার মুখে ফেলতে পারে। নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা বলছেন, বর্তমান পরিস্থিতি থেকে বোঝা যাচ্ছে যে, মধ্যপ্রাচ্যে রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা এখনো গুরুতর এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সতর্কতার প্রয়োজন অপরিহার্য।
মোটের উপর, ইরান-সম্পৃক্ত ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, ফুজাইরাহয়ে ড্রোন হামলা এবং বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানোর ঘটনায় মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধি পেয়েছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জন্য সতর্ক থাকা এবং প্রতিক্রিয়ার পরিকল্পনা করা এখন অগ্রাধিকারের বিষয়।
