আবারও বিপদ সীমার ৬ সেন্টিমিটার নিচে তিস্তার পানি। বৃহস্পতিবার (১০ আগষ্ট) সকাল ৯টায় দেশের বৃহত্তম সেচ প্রকল্প লালমনিরহাট জেলার হাতীবান্ধা উপজেলার তিস্তা ব্যারাজের ডালিয়া পয়েন্টে পানি প্রবাহ রেকর্ড করা হয় ৫২ দশমিক ৯ মিটার মিটার রেকর্ড করা হয়। যা বিপদসীমার ৬ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এদিন ভোর থেকে পানি বিপদসীমার কিছুটা নিচে থাকলেও, বেলা ১২টার পর থেকেই তিস্তা নদীর পানি প্রবাহ বারছে বলে জানিয়েছেন নদী তীরবর্তী এলাকার লোকেরা।
আবারও বিপদ সীমার ৬ সেন্টিমিটার নিচে তিস্তার পানি
ইতিপূর্বে পানি প্রবাহ বেড়ে যাওয়ায় তিস্তা নদীর তীরবর্তী লালমনিরহাট জেলার পাটগ্রাম উপজেলার দহগ্রাম, হাতীবান্ধা উপজেলার সানিয়াজান, গড্ডিমারী, সিন্দুর্না, পাটিকাপাড়া, সিংগিমারী, ডাউয়াবাড়ী, কালীগঞ্জ উপজেলার ভোটমারী, কাকিনা, আদিতমারী উপজেলার মহিষখোচা, পলাশী, লালমনিরহাট সদর উপজেলার খুনিয়াগাছ, রাজপুর, গোকুন্ডা ইউনিয়নের অর্ধলক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েন। ফসলী জমি ঘরদোর রাস্তাঘাট বন্যার পানিতে তলিয়ে যায়। এতে কৃষিতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

পানি প্রবাহ আবারো বৃদ্ধি পাওয়ায় তিস্তা নদীর তীরবর্তী ৫টি উপজেলার যে সকল পানিবন্দি পরিবারগুলো ধিরে ধিরে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসছিলো তারা আবারো বন্যার আশংকা করছেন।
এদিকে, বন্যা সতর্কীকরণ কেন্দ্রের দাবি, তিস্তায় আর বড় ধরনের বন্যার কোনো আশঙ্কা নেই। বৃষ্টির কারণে পানির প্রবাহ বেড়েছে। ব্যারাজের জলকপাট খুলে দিয়ে পানি নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আসফাউদ্দৌলা।

লালমনিরহাট পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী শুনীল কুমার বলেন, উজানে কয়েক দিনের ভারী বর্ষণে তিস্তা নদীর পানি প্রবাহ বাড়ছে। বর্তমানে তিস্তা ব্যারাজের জলকপাটগুলো খুলে দিয়ে পানি নিয়ন্ত্রন করা হচ্ছে। তবে ভারতে বৃষ্টিপাত কমলে তিস্তার পানি আরও কমবে বলেও জানান তিনি।এদিকে ধরলা, রত্নাই, স্বর্ণামতি, সানিয়াজান, সাকোয়া, চাতলা, মালদহ, ত্রিমোহীনি, মরাসতি, গিরিধারী, গিদারী, ধোলাই, শিংগীমারী, ছিনাকাটা, ধলাই ও ভেটেশ্বর নদীতে পানি কমেছে অনেক।