আবদুল মোমিন | বাংলাদেশী রাজনীতিবিদ

আবদুল মোমিন (১৯২৯-১৬ জুলাই ২০০৪) বাংলাদেশের নেত্রকোণা জেলার রাজনীতিবিদ, আইনজীবী ও মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক যিনি তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান প্রাদেশিক পরিষদ সদস্য, সংসদ সদস্য ও মন্ত্রী ছিলেন।

আবদুল মোমিন | বাংলাদেশী রাজনীতিবিদ

 

আবদুল মোমিন | বাংলাদেশী রাজনীতিবিদ

 

জন্ম ও প্রাথমিক জীবন

আবদুল মোমিন ১৯২৯ সালে নেত্রকোণার মোহনগঞ্জের কাজিয়াটিতে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা খান আবদুল আজিজ আহমদ। তিনি ১৯৪৫ সালে মোহনগঞ্জ হাই স্কুল থেকে ম্যাট্রিক, ১৯৪৭ সালে কলকাতার প্রেসিডেন্সি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইএ, ১৯৫০ সালে ঢাকা বিশ্বাবদ্যালয় থেকে বিএ অনার্স, ১৯৫১ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমএ এবং ১৯৫৮ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এলএলবি ডিগ্রী অর্জন করেন।

রাজনৈতিক ও কর্মজীবন

আবদুল মোমিন আইনজীবী, মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক ছিলেন। তিনি ১৯৬৪ সালে আওয়ামীলীগে যোগদান করে ১৯৬৬ সালে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির প্রচার সম্পাদক ও নেত্রকোণা মহকুমা আওয়ামীলীগের সভাপতি নির্বাচিত হন। ৬ দফা আন্দোলন, ভাষা আন্দোলন, ১৯৫৪ সালের যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন ও বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে অংশগ্রহণসহ তৎকালীন সকল রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে তিনি সক্রিয় ভূমিকা রাখেন। ১৯৭০ সালের তৎকালীন পূর্বপাকিস্তান প্রাদেশিক নির্বাচনে তিনি আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে প্রাদেশিক পরিষদ সদস্য (এমএনএ) নির্বাচিত হন। ১৯৭২ সালে তিনি এম সি এ হিসেবে সংবিধান কমিটির সদস্য ছিলেন। ১৯৭৩ সালের প্রথম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে তৎকালীন ময়মনসিংহ-২২ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৭৪ সালে শেখ মুজিবুর রহমানের মন্ত্রিসভায় খাদ্য ও বেসামরিক সরবরাহ, ত্রাণ ও পুনর্বাসন মন্ত্রী নিযুক্ত হন।

 

google news
গুগোল নিউজে আমাদের ফলো করুন

 

১৯৭৯ সালের দ্বিতীয় জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে তৎকালীন ময়মনসিংহ-১৬ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।

তিনি ১২ জুন ১৯৯৬ সালের সপ্তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে নেত্রকোণা-৪ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।

২০০১ সালের অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে নেত্রকোণা-২ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।

১৯৯১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে নেত্রকোণা-৪ আসনে পরাজিত হয়েছিলেন।

মৃত্যু

আবদুল মোমিন ১৬ জুলাই ২০০৪ সালে বাংলাদেশ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেন।

সংসদ সদস্য সম্পর্কে তথ্যঃ

সংসদ সদস্য জনপ্রতিনিধি হিসেবে পার্লামেন্ট বা জাতীয় সংসদে সরকার কিংবা বিরোধীদলীয় সদস্য হিসেবে অংশগ্রহণ করে থাকেন। এর ইংরেজি প্রতিরূপ হচ্ছে ‘মেম্বার অব পার্লামেন্ট’ বা ‘এমপি’ এবং বাংলায় ‘সংসদ সদস্য’ কিংবা ‘সাংসদ’। এছাড়া, ফরাসী ভাষায় সংসদ সদস্যকে ‘ডেপুটি’ নামে অভিহিত করা হয়।

পরিচিতি

সংসদীয় গণতন্ত্রে একজন সংসদ সদস্য আইন-প্রণয়ন বিশেষতঃ রাষ্ট্রীয় আইন ও নাগরিক অধিকার প্রণয়নে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। সাধারণ অর্থে নির্দিষ্ট সংসদ কিংবা জাতীয় সংসদের সদস্যই এমপি বা সংসদ সদস্য হিসেবে আখ্যায়িত হন।

বিশ্বের বিভিন্ন গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে দ্বি-স্তরবিশিষ্ট সংসদীয় গণতন্ত্র রয়েছে। সেগুলো হচ্ছে – উচ্চ কক্ষ এবং নিম্ন কক্ষ। সেক্ষেত্রে জনপ্রতিনিধি হিসেবে ‘সংসদ সদস্য’ পদটি নিম্নকক্ষের জন্য প্রযোজ্য। সচরাচর জনপ্রতিনিধি হিসেবে সংসদ সদস্য পদটি উচ্চ কক্ষে ভিন্ন পদে উপস্থাপন ও চিহ্নিত করা হয়। উচ্চ কক্ষ হিসেবে সিনেটে সংসদ সদস্য তখন তিনি ‘সিনেটর’ পদের ভূমিকায় অবতীর্ণ হন।

 

আবদুল মোমিন | বাংলাদেশী রাজনীতিবিদ

 

অবস্থান

সংসদ সদস্য হিসেবে ব্যক্তিকে প্রাথমিকভাবে দলের সদস্যরূপে তাঁর অবস্থানকে নিশ্চিত করতে হয়। পরবর্তীতে দলীয় সভায় মনোনয়নের মাধ্যমে সরাসরি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা ও জনমতের যথার্থ সংখ্যাগরিষ্ঠ প্রতিফলনে তিনি এমপি হিসেবে নির্বাচিত হন। কখনোবা প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর অভাবে তিনি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়ে থাকেন। সাধারণতঃ সংসদ সদস্য কোন একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের সদস্য হয়ে থাকেন। দলীয়ভাবে মনোনয়নলাভে ব্যর্থ হলে কিংবা দলীয় সম্পৃক্ততা না থাকলেও ‘স্বতন্ত্র প্রার্থী’ হিসেবে অনেকে নির্বাচিত কিংবা মনোনীত সংসদ সদস্য হন।

সংসদ সদস্যকে অনেকে ‘সাংসদ’ নামেও ডেকে থাকেন। তবে, নিত্য-নৈমিত্তিক বা প্রাত্যহিক কর্মকাণ্ডে ‘মেম্বার অব পার্লামেন্ট’ হিসেবে সংসদ সদস্যকে ‘এমপি’ শব্দের মাধ্যমে সংক্ষিপ্ত আকারে ব্যবহার করা হয়। বর্তমানকালে প্রচারমাধ্যমে সাধারণ অর্থেই এমপি শব্দের প্রয়োগ লক্ষ্যণীয়।

আরও দেখুনঃ

Leave a Comment