আবদুল আলীম ছিলেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল এর রাজনীতিবিদ এবং জয়পুরহাট-১ এর সাবেক সংসদ সদস্য এবং মন্ত্রী। তাকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছিল এবং যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডিত করা হয়েছে।
Table of Contents
আবদুল আলীম | বাংলাদেশী রাজনীতিবিদ

শৈশবকাল
আলিম জন্ম ১৯৩০ সালের ১ নভেম্বর ব্রিটিশ ভারতের পূর্ববঙ্গ জয়পুরহাট জেলায়। তার বাবা আবদুল ওয়াহেদ ছিলেন ইসলামিয়া রাইস মিলের মালিক। তাঁর পরিবার হুগলি জেলায় থাকতেন তবে ১৯৫০ সালে ভারত বিভাগের পরপরই জয়পুরহাট জেলায় চলে আসেন।
কর্মজীবন
আলিম ১৯৫৮ সালে মুসলিম লীগ যোগ দিয়েছিলেন এবং শীঘ্রই লীগের যুগ্ম-সচিব হন। তিনি মুসলিম লীগের বগুড়া জেলা শাখার ভাইস চেয়ারম্যান হিসাবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
আলীম ১৯৭৫ সালে জয়পুরহাট পৌরসভার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন এবং ১৯৭৭ সালে পুনরায় নির্বাচিত হন। ১৯৭৯ সালের দ্বিতীয় জাতীয় নির্বাচনে তৎকালীন বগুড়া-১ আসন থেকে ও ১৯৯৬ ও ২০০১ সালের জাতীয় নির্বাচনে জয়পুরহাট-১ আসন থেকে তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের প্রার্থী হিসাবে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৭৮ সালে তিনি জিয়াউর রহমানের সরকারে প্রথমে বস্ত্রমন্ত্রী এবং পরে যোগাযোগ মন্ত্রী ছিলেন আলীম।
অভিযোগ
বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি পাকিস্তানের পক্ষে ছিলেন এবং পূর্ব পাকিস্তান কেন্দ্রীয় শান্তি কমিটির জয়পুরহাট জেলা শাখার চেয়ারম্যান ছিলেন। তিনি জয়পুরহাটে রাজাকার আধাসামরিক ইউনিট গঠনে সহায়তা করেছিলেন। বাংলাদেশের স্বাধীনতার পরে তার বিরুদ্ধে সহযোগী আইনে অভিযোগ আনা হয়েছিল।
২১ শে মার্চ ২০১১-এ তাকে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। ৯ জুলাই ২০১২-এ, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে তার বিচার শুরু হয়েছিল । তিনি যুদ্ধাপরাধের ১৭ টি মামলায় দোষী সাব্যস্ত হন এবং যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডিত হন।

মৃত্যু
তিনি ৩১ আগস্ট ২০১৪ সালে মৃত্যুবরণ করেন।
সংসদ সদস্য সম্পর্কে তথ্যঃ
সংসদ সদস্য জনপ্রতিনিধি হিসেবে পার্লামেন্ট বা জাতীয় সংসদে সরকার কিংবা বিরোধীদলীয় সদস্য হিসেবে অংশগ্রহণ করে থাকেন। এর ইংরেজি প্রতিরূপ হচ্ছে ‘মেম্বার অব পার্লামেন্ট’ বা ‘এমপি’ এবং বাংলায় ‘সংসদ সদস্য’ কিংবা ‘সাংসদ’। এছাড়া, ফরাসী ভাষায় সংসদ সদস্যকে ‘ডেপুটি’ নামে অভিহিত করা হয়।
পরিচিতি
সংসদীয় গণতন্ত্রে একজন সংসদ সদস্য আইন-প্রণয়ন বিশেষতঃ রাষ্ট্রীয় আইন ও নাগরিক অধিকার প্রণয়নে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। সাধারণ অর্থে নির্দিষ্ট সংসদ কিংবা জাতীয় সংসদের সদস্যই এমপি বা সংসদ সদস্য হিসেবে আখ্যায়িত হন।
বিশ্বের বিভিন্ন গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে দ্বি-স্তরবিশিষ্ট সংসদীয় গণতন্ত্র রয়েছে। সেগুলো হচ্ছে – উচ্চ কক্ষ এবং নিম্ন কক্ষ। সেক্ষেত্রে জনপ্রতিনিধি হিসেবে ‘সংসদ সদস্য’ পদটি নিম্নকক্ষের জন্য প্রযোজ্য। সচরাচর জনপ্রতিনিধি হিসেবে সংসদ সদস্য পদটি উচ্চ কক্ষে ভিন্ন পদে উপস্থাপন ও চিহ্নিত করা হয়। উচ্চ কক্ষ হিসেবে সিনেটে সংসদ সদস্য তখন তিনি ‘সিনেটর’ পদের ভূমিকায় অবতীর্ণ হন।

অবস্থান
সংসদ সদস্য হিসেবে ব্যক্তিকে প্রাথমিকভাবে দলের সদস্যরূপে তাঁর অবস্থানকে নিশ্চিত করতে হয়। পরবর্তীতে দলীয় সভায় মনোনয়নের মাধ্যমে সরাসরি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা ও জনমতের যথার্থ সংখ্যাগরিষ্ঠ প্রতিফলনে তিনি এমপি হিসেবে নির্বাচিত হন। কখনোবা প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর অভাবে তিনি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়ে থাকেন। সাধারণতঃ সংসদ সদস্য কোন একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের সদস্য হয়ে থাকেন। দলীয়ভাবে মনোনয়নলাভে ব্যর্থ হলে কিংবা দলীয় সম্পৃক্ততা না থাকলেও ‘স্বতন্ত্র প্রার্থী’ হিসেবে অনেকে নির্বাচিত কিংবা মনোনীত সংসদ সদস্য হন।
সংসদ সদস্যকে অনেকে ‘সাংসদ’ নামেও ডেকে থাকেন। তবে, নিত্য-নৈমিত্তিক বা প্রাত্যহিক কর্মকাণ্ডে ‘মেম্বার অব পার্লামেন্ট’ হিসেবে সংসদ সদস্যকে ‘এমপি’ শব্দের মাধ্যমে সংক্ষিপ্ত আকারে ব্যবহার করা হয়। বর্তমানকালে প্রচারমাধ্যমে সাধারণ অর্থেই এমপি শব্দের প্রয়োগ লক্ষ্যণীয়।
আরও দেখুনঃ