এডভোকেট আবদুর রইছ হলেন বাংলাদেশের একজন প্রখ্যাত রাজনীতিবিদ ও পূর্ব পাকিস্তান প্রাদেশিক পরিষদ ও জাতীয় সংসদ সদস্য। ১৯৭৩ সালের তিনি ১ম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সাবেক সিলেট-৩ (বর্তমানঃ সুনামগঞ্জ-৩) আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।
Table of Contents
আবদুর রইছ | বাংলাদেশী রাজনীতিবিদ

জন্ম ও পারিবারিক পরিচিতি
আব্দুর রইছ ১৯৩১ সালের ১ মে তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের বেঙ্গল প্রেসিডেন্সির সুনামগঞ্জ মহুকুমার জগন্নাথপুরের পাটলী ইউনিয়নের বনগাঁও গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। রফিকা রইছ চৌধুরীর সাথে তিনি বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। তাদের সন্তান হলেন সুনামগঞ্জের ১ম জেলা পরিষদ প্রশাসক ব্যারিষ্টার এম. এনামুল কবির ইমন।তার স্ত্রী ছিলেন সুনামগঞ্জ জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের আমৃত্যু সভানেত্রী।
কর্ম ও রাজনৈতিক জীবন
তিনি বাংলাদেশের সংবিধান রচনায় গুরত্বপূর্ন ভূমিকা পালন করেন। ১৯৮৭ সালে জেলা বারের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন।
আব্দুর রইছ রাজনীতিতে গনতন্ত্র ও এলডি এফ এর সাথে ছিলেন। তিনি ১৯৬৯ সালে আওয়ামীলীগে যোগদান করেন। ১৯৭০ সালে প্রাদেশিক পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৭৩ সালের ৭ মার্চ অনুষ্ঠিত ১ম জাতীয় সংসদ-নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়নে তৎকালীন সিলেট-৩ (বর্তমানঃ সুনামগঞ্জ-৩) আসন থেকে এমপি নির্বাচিত হন। ১৯৭৩ থেকে ১৯৮৮ সাল পর্যন্ত ছিলেন সুনামগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের আমৃত্যু সভাপতি। এর আগে সুনামগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের দ্বায়িত্ব পালন করেন তিনি।

স্বাধিকার আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধে অবদান
তিনি স্বাধীনতা সংগ্রামে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন।তিনি মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়ে সুনামগঞ্জ এ সর্বদলীয় সংগ্রাম কমিটির সদস্য সচিবের দায়িত্ব পালন করেন।
মুত্যু
১৮ ডিসেম্বর ১৯৮৮সালে মৃত্যু বরণ করেন।
সংসদ সদস্য সম্পর্কে তথ্যঃ
সংসদ সদস্য জনপ্রতিনিধি হিসেবে পার্লামেন্ট বা জাতীয় সংসদে সরকার কিংবা বিরোধীদলীয় সদস্য হিসেবে অংশগ্রহণ করে থাকেন। এর ইংরেজি প্রতিরূপ হচ্ছে ‘মেম্বার অব পার্লামেন্ট’ বা ‘এমপি’ এবং বাংলায় ‘সংসদ সদস্য’ কিংবা ‘সাংসদ’। এছাড়া, ফরাসী ভাষায় সংসদ সদস্যকে ‘ডেপুটি’ নামে অভিহিত করা হয়।
পরিচিতি
সংসদীয় গণতন্ত্রে একজন সংসদ সদস্য আইন-প্রণয়ন বিশেষতঃ রাষ্ট্রীয় আইন ও নাগরিক অধিকার প্রণয়নে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। সাধারণ অর্থে নির্দিষ্ট সংসদ কিংবা জাতীয় সংসদের সদস্যই এমপি বা সংসদ সদস্য হিসেবে আখ্যায়িত হন।
বিশ্বের বিভিন্ন গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে দ্বি-স্তরবিশিষ্ট সংসদীয় গণতন্ত্র রয়েছে। সেগুলো হচ্ছে – উচ্চ কক্ষ এবং নিম্ন কক্ষ। সেক্ষেত্রে জনপ্রতিনিধি হিসেবে ‘সংসদ সদস্য’ পদটি নিম্নকক্ষের জন্য প্রযোজ্য। সচরাচর জনপ্রতিনিধি হিসেবে সংসদ সদস্য পদটি উচ্চ কক্ষে ভিন্ন পদে উপস্থাপন ও চিহ্নিত করা হয়। উচ্চ কক্ষ হিসেবে সিনেটে সংসদ সদস্য তখন তিনি ‘সিনেটর’ পদের ভূমিকায় অবতীর্ণ হন।

অবস্থান
সংসদ সদস্য হিসেবে ব্যক্তিকে প্রাথমিকভাবে দলের সদস্যরূপে তাঁর অবস্থানকে নিশ্চিত করতে হয়। পরবর্তীতে দলীয় সভায় মনোনয়নের মাধ্যমে সরাসরি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা ও জনমতের যথার্থ সংখ্যাগরিষ্ঠ প্রতিফলনে তিনি এমপি হিসেবে নির্বাচিত হন। কখনোবা প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর অভাবে তিনি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়ে থাকেন। সাধারণতঃ সংসদ সদস্য কোন একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের সদস্য হয়ে থাকেন। দলীয়ভাবে মনোনয়নলাভে ব্যর্থ হলে কিংবা দলীয় সম্পৃক্ততা না থাকলেও ‘স্বতন্ত্র প্রার্থী’ হিসেবে অনেকে নির্বাচিত কিংবা মনোনীত সংসদ সদস্য হন।
সংসদ সদস্যকে অনেকে ‘সাংসদ’ নামেও ডেকে থাকেন। তবে, নিত্য-নৈমিত্তিক বা প্রাত্যহিক কর্মকাণ্ডে ‘মেম্বার অব পার্লামেন্ট’ হিসেবে সংসদ সদস্যকে ‘এমপি’ শব্দের মাধ্যমে সংক্ষিপ্ত আকারে ব্যবহার করা হয়। বর্তমানকালে প্রচারমাধ্যমে সাধারণ অর্থেই এমপি শব্দের প্রয়োগ লক্ষ্যণীয়।
আরও দেখুনঃ