আফগানিস্তানের খোস্ট প্রদেশে পাকিস্তানের বোমা হামলায় অন্তত নয়জন আফগান নাগরিক নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে আটজন শিশু এবং একজন নারী রয়েছেন। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরা আফগান সরকারের বরাত দিয়ে এই তথ্য জানিয়েছে।
আফগানিস্তানের তালেবান সরকারের মুখপাত্র জাহিবুল্লাহ মুজাহিদ মঙ্গলবার (২৫ নভেম্বর) জানান, পাকিস্তান মধ্যরাতে খোস্ট প্রদেশে হামলা চালিয়েছে। একই সময়ে পাকিস্তান উত্তরের কুনার এবং পূর্বের পাকিটা প্রদেশেও হামলা চালিয়ে অন্তত চারজন সাধারণ নাগরিককে হত্যা করেছে।
মুজাহিদ এক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (পূর্ববর্তী টুইটার) লিখেছেন, “পাকিস্তান সাধারণ মানুষের ঘরে বোমা হামলা চালিয়েছে। এতে অন্তত নয়জন শিশু মারা গেছে—পাঁচজন ছেলে ও চারজন মেয়ে। অনেকের ঘর ধ্বংস হয়ে গেছে।” তিনি আরও বলেন, এই হামলায় স্থানীয় বসবাসকারীরা আতঙ্কিত ও নিরাপত্তাহীনতায় পড়েছে।
অন্যদিকে পাকিস্তান এই হামলা সম্পর্কে সরাসরি কোনো বিবৃতি দেয়নি। তবে পাকিস্তানের আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, সোমবার তাদের নিরাপত্তা বাহিনী তেহরিক-ই-তালিবান পাকিস্তান (টিটিপি) সদস্যদের উপস্থিতির খবর পেয়ে অভিযানে অংশ নেয়। পাকিস্তান ওই সন্ত্রাসীদের ‘ফিতনা আল খাওয়ারিজ’ হিসেবে উল্লেখ করেছে।
আইএসপিআর জানিয়েছে, তাদের অভিযানে ২২ খাওয়ারিজ সদস্যকে হত্যা করা হয়েছে এবং সন্ত্রাসীদের অবস্থান ধ্বংস করা হয়েছে। তারা আরও জানিয়েছে যে, “বিদেশি মদদপুষ্ট সন্ত্রাসবাদ নির্মূলে নিরাপত্তা বাহিনী ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থাগুলোর সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান পূর্ণ গতিতে চলবে।”
এই হামলার পর আফগান সরকারের কাছে স্থানীয়দের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। শিশু ও নারী নিহত হওয়ার খবর উদ্বেগজনকভাবে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলোর নজরে এসেছে। খোস্ট প্রদেশের স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে পাকিস্তানের সীমান্তবর্তী বোমা হামলা এবং সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান তাদের জীবনে নিরাপত্তাহীনতার নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
নিহত ও আহতদের পরিবারগুলো এখনও চরম শোক ও ভোগান্তির মধ্যে আছে। স্থানীয় সরকারি ও মানবাধিকার সংস্থা দ্রুত তাদের ত্রাণ ও পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করতে উদ্যোগ নিয়েছে। এছাড়া আন্তর্জাতিক পর্যায়ে এই ঘটনার নিন্দা জানানো হয়েছে এবং পক্ষপাতহীন তদন্তের আহ্বান জানানো হয়েছে।
