আফ্রিকান ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা কনফেডারেশন অব আফ্রিকান ফুটবল (সিএএফ)–এর মহাসচিব ভেরন মোসেঙ্গো-ওমবা পদত্যাগ করেছেন। দীর্ঘদিন ধরে তাঁর পদত্যাগের দাবি থাকলেও সাম্প্রতিক সময়ের ফুটবল অস্থিতিশীলতা এবং বিতর্কিত সিদ্ধান্তের প্রেক্ষাপটে তা আরও জোরদার হয়। অবশেষে সেই চাপের মুখে তিনি সিএএফ থেকে সরে দাঁড়ান।
মোসেঙ্গো-ওমবা পদত্যাগের ঘোষণা দেন একটি বিবৃতির মাধ্যমে। সেখানে তিনি উল্লেখ করেন, “আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ৩০ বছরেরও বেশি সময় ধরে মানুষকে একত্রিত করা, শিক্ষা দেওয়া এবং প্রত্যাশার নতুন দ্বার খোলার পর আমি সিএএফ মহাসচিবের দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এখন ব্যক্তিগত উদ্যোগে মনোযোগ দিতে চাই।” তিনি আরও যোগ করেন, “যদিও আমার বিরুদ্ধে অনেক সন্দেহ ও সমালোচনা ছড়ানো হয়েছিল, তা দূর করতে পেরেছি। তাই শান্ত মনে অবসর নিতে পারছি এবং আরও শক্তিশালী সিএএফ রেখে যাচ্ছি।”
মোসেঙ্গো-ওমবার পদত্যাগের পেছনে আফ্রিকা কাপ অব নেশনস (AFCON)–এর বিতর্কও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। বিশেষ করে গত জানুয়ারিতে অনুষ্ঠিত ফাইনালে মরক্কোর বিরুদ্ধে ১-০ গোলে জয়ী হওয়া সত্ত্বেও সেনেগাল দল ম্যাচ ত্যাগ করে। এর ফলে সিএএফের আপিল বোর্ড সেনেগালের শিরোপা কেড়ে মরক্কোকে বিজয়ী ঘোষণা করে। এই সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে সেনেগাল কোর্ট অব আরবিট্রেশন ফর স্পোর্ট (CAS)–এ আপিল করেছে।
সিএএফ সভাপতি প্যাট্রিস মোতসেপে বলেন, “CAS যে সিদ্ধান্ত দেবে, আমরা তা সম্মান জানাব এবং বাস্তবায়ন করব। আমার ব্যক্তিগত মতামত এ ক্ষেত্রে প্রাসঙ্গিক নয়।”
মোসেঙ্গো-ওমবার নিয়ন্ত্রণে থাকা সংস্থায় অন্যও নানা বিতর্ক এবং সমালোচনা ছিল। প্রধান বিষয়গুলো নিম্নে সংক্ষেপে তুলে ধরা হলো:
| বিষয় | বিস্তারিত |
|---|---|
| বাধ্যতামূলক অবসরের বয়স | ৬৩ পার হওয়া সত্ত্বেও তিনি দায়িত্বে ছিলেন |
| দুর্নীতির অভিযোগ | সিএএফে আর্থিক ও প্রশাসনিক স্বচ্ছতার অভাবের অভিযোগ এবং তদন্তের দাবি |
| আফকন ২০২৫ বিতর্ক | সেনেগাল ম্যাচ ত্যাগের কারণে শিরোপা মরক্কোকে দেওয়া, সেনেগাল CAS-এ আপিল |
| নির্বাহী কমিটির সমালোচনা | সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং সিএএফ কমিটির মধ্যে দায়িত্ব পালন নিয়ে প্রশ্ন |
| নেতৃত্ব সংকট | সংস্থার প্রতি আস্থা কমে যাওয়ার কারণে অবসর নেওয়া অনিবার্য হয় |
মোসেঙ্গো-ওমবার পদত্যাগের মাধ্যমে সিএএফের শীর্ষ নেতৃত্বে বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে। তবে আফ্রিকা ফুটবলের সর্বোচ্চ সংস্থা এখনও CAS–এর রায় এবং আফ্রিকান ফুটবল নীতি ও শৃঙ্খলা নিয়ে চলমান বিতর্কের কারণে চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি।
ফুটবল সমালোচকরা মনে করছেন, এই পদত্যাগ সিএএফের ভাবমূর্তির জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত, যা সংস্থার স্বচ্ছতা ও নেতৃত্ব পুনর্গঠনে নতুন দিক নির্দেশনা দিতে পারে।
