আপিল শুনানি শেষ, প্রার্থিতা প্রত্যাহারের সময়সূচি ঘোষণা

জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মনোনয়নপত্র বাছাই সংক্রান্ত আপিল শুনানির নবম ও শেষ দিন আজ রোববার অনুষ্ঠিত হচ্ছে। গতকাল শনিবার অষ্টম দিনে রিটার্নিং কর্মকর্তাদের দেওয়া বাতিল ও গ্রহণযোগ্যতার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিলের ৪৩টি মামলা মঞ্জুর এবং ৩৭টি নামঞ্জুর করা হয়। রোববারই ৬১১ থেকে ৬৪৫ নম্বর ক্রমিকের আপিলসহ অপেক্ষমাণ আপিলগুলো নিষ্পত্তি করা হবে।

আগামীকাল সোমবার প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন। এর পর মঙ্গলবার নির্বাচন কমিশন (ইসি) চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করে প্রতীক বরাদ্দ করবে। এরপরই বুধবার থেকে নির্বাচনী প্রচারণা শুরু হবে। নির্বাচনের জন্য নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী ভোটগ্রহণ হবে ১২ ফেব্রুয়ারি সকাল ৭:৩০ থেকে বিকেল ৪:৩০ পর্যন্ত।

গত অষ্টম দিনে সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনের মিলনায়তনে শোনানি অনুষ্ঠিত হয়। প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিনের সভাপতিত্বে চারজন কমিশনার শুনানি পরিচালনা করেন। ইসির জ্যেষ্ঠ সচিব আখতার আহমেদ ও আইন শাখার কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

শুনানির ফলাফল অনুযায়ী:

  • মনোনয়নপত্র বাতিলের বিরুদ্ধে ৪৩টি আপিল মঞ্জুর করা হয়।

  • মনোনয়নপত্র গ্রহণের বিরুদ্ধে দুটি আপিল মঞ্জুর।

  • ৩৭টি আপিল নামঞ্জুর, যার মধ্যে বাতিলের বিরুদ্ধে ১৩টি এবং গ্রহণের বিরুদ্ধে ২৪টি।

  • ৯টি আপিল প্রত্যাহার করা হয়।

  • ১৯টি আপিল পরবর্তী শুনানির জন্য অপেক্ষমাণ রাখা হয়।

এর আগে ৩০ ডিসেম্বর থেকে ৪ জানুয়ারি পর্যন্ত মোট ২,৫৬৮টি মনোনয়নপত্র বাছাই করা হয়। এর মধ্যে ১,৮৪২ প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষিত হয়েছে এবং ৭২৩ প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়। বিশেষ ক্ষেত্রে বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে তিনটি আসনে দাখিল করা তিনটি মনোনয়নপত্র বাছাই ছাড়াই রাখা হয়েছিল।

ইসির প্রাথমিক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, স্বতন্ত্র প্রার্থীদের মধ্যে বেশির ভাগ বাদ পড়েছেন—প্রধানত এক শতাংশ সমর্থনপত্র না থাকায়। এছাড়া দ্বৈচয়নের ভিত্তিতে ভোটার সনাক্তকরণ না করা, সার্টিফিকেট ও রিটার্নের কপি দাখিল না করা, হলফনামায় ম্যাজিস্ট্রেটের স্বাক্ষর না থাকা ইত্যাদিও কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

সার্বিকভাবে, ৫–৯ জানুয়ারি মনোনয়নপত্র গ্রহণ ও বাতিলের বিরুদ্ধে আপিলের সুযোগ দেওয়া হয়। এই সময়ে মোট ৬৪৫টি আপিল জমা পড়ে। অনেকগুলোই মনোনয়নপত্র গ্রহণের বিরুদ্ধে ছিল।

মূল সময়সূচি সংক্ষেপে:

বিষয়তারিখ / সময়
অষ্টম দিনের আপিল শুনানি১৬ জানুয়ারি, সকাল ১০টা–বিকেল ৫টা
নবম দিনের আপিল শুনানি১৭ জানুয়ারি, সকাল ১০টা–দুপুর ১টা
প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন১৮ জানুয়ারি
চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা ও প্রতীক বরাদ্দ১৯ জানুয়ারি
নির্বাচনী প্রচারণার শুরু২০ জানুয়ারি
নির্বাচনের তারিখ১২ ফেব্রুয়ারি, সকাল ৭:৩০–বিকেল ৪:৩০

এই পর্যায়ে আপিল শুনানি সম্পন্ন হওয়ার পর প্রার্থিতা চূড়ান্তভাবে স্থির হবে এবং নির্বাচনী প্রচারণা শুরু হবে। ইতোমধ্যে মোট ৩৯৭ জন প্রার্থিতা ফিরে পেয়েছেন, তবে ১৪৫ জন প্রার্থী আপিলের পরে বৈধতা হারিয়েছেন। ভোট প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও সময়সূচি অনুযায়ী এই ধাপগুলো সমাপ্ত হওয়ার পরই জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক প্রস্তুতি সম্পন্ন হবে।