ইরানজুড়ে সাম্প্রতিক সরকারবিরোধী আন্দোলনের সময় আধুনিক স্যাটেলাইটভিত্তিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে পরিকল্পিতভাবে অপতথ্য ছড়ানো হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত ইরানি রাষ্ট্রদূত জলিল রহিমি জাহনাবাদি। তাঁর দাবি, যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক স্যাটেলাইট ইন্টারনেট সেবা স্টারলিংক ব্যবহার করে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে সাধারণ মানুষের অসন্তোষকে সহিংসতায় রূপ দেওয়া হয়েছে, যার ফলে দেশজুড়ে প্রাণহানির ঘটনা বেড়েছে।
সোমবার সকালে ঢাকায় ইরান দূতাবাসে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন রাষ্ট্রদূত। ইরানে চলমান রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করতেই এই মতবিনিময়ের আয়োজন করা হয় বলে দূতাবাস সূত্রে জানা গেছে।
রাষ্ট্রদূত বলেন, “বিক্ষুব্ধ জনগোষ্ঠীর অনুভূতিকে কাজে লাগিয়ে সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। তারাই প্রথমে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপর হামলা চালায়। পরবর্তী সময়ে সেই পরিস্থিতিকে পশ্চিমা শক্তিগুলো নিজেদের স্বার্থে ব্যবহার করেছে।” তাঁর মতে, পুরো প্রক্রিয়াটি ছিল সুপরিকল্পিত এবং এর পেছনে ছিল মার্কিন গোয়েন্দা ও কৌশলগত পরামর্শ।
তিনি আরও দাবি করেন, স্টারলিংকের মতো অত্যাধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে ইরানের অভ্যন্তরে ইন্টারনেট নিয়ন্ত্রণ এড়িয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে বিভ্রান্তিকর প্রচারণা চালানো হয়। এতে করে পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়।
স্টারলিংক কী এবং কেন বিতর্কে
স্টারলিংক হলো যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক প্রতিষ্ঠান স্পেসএক্স পরিচালিত একটি স্যাটেলাইট ইন্টারনেট সেবা। এর প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হলেন প্রযুক্তি উদ্যোক্তা ইলন মাস্ক। বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে, বিশেষ করে সংকটময় বা ইন্টারনেট-নিয়ন্ত্রিত এলাকায়, স্টারলিংক বিকল্প যোগাযোগমাধ্যম হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে।
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| সেবার নাম | স্টারলিংক |
| পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান | স্পেসএক্স |
| প্রতিষ্ঠাতা ও সিইও | ইলন মাস্ক |
| প্রযুক্তির ধরন | স্যাটেলাইটভিত্তিক ইন্টারনেট |
| ইরানের অভিযোগ | অপতথ্য ও প্রোপাগান্ডা ছড়াতে ব্যবহৃত |
গোয়েন্দা ব্যর্থতা ও প্রাণহানি প্রসঙ্গ
ইরানে সরকারবিরোধী আন্দোলনের সময় গোয়েন্দা ব্যর্থতা ছিল কি না—এমন প্রশ্নের সরাসরি উত্তর এড়িয়ে যান রাষ্ট্রদূত। তবে তিনি বলেন, “বিদেশি স্যাটেলাইটের মাধ্যমে প্রোপাগান্ডা ছড়ানোর প্রচেষ্টা এখন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে।”
আন্দোলনে নিহত ব্যক্তিদের সুনির্দিষ্ট সংখ্যা জানতে চাইলে তিনি কোনো নির্দিষ্ট পরিসংখ্যান দেননি। তবে তাঁর বক্তব্য থেকে ইঙ্গিত পাওয়া যায়, পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে ইরান সরকার এখন কঠোর নজরদারি ও নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করছে।
রাষ্ট্রদূত জলিল রহিমি জাহনাবাদির বক্তব্য অনুযায়ী, ইরানের সাম্প্রতিক অস্থিরতা কেবল অভ্যন্তরীণ অসন্তোষের ফল নয়; বরং আন্তর্জাতিক রাজনীতি, প্রযুক্তি ও তথ্যযুদ্ধের একটি জটিল বাস্তবতার প্রতিফলন। তাঁর মতে, অপতথ্য ও ডিজিটাল প্রোপাগান্ডা বর্তমান বিশ্বে সহিংসতা উসকে দেওয়ার একটি বড় অস্ত্র হয়ে উঠেছে, যা মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সচেতনতা ও দায়িত্বশীলতা জরুরি।
