আন্তর্জাতিক রুটে ফ্লাইট বাতিল পরিস্থিতি

ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ৩ মার্চ, ২০২৬ তারিখে মধ্যপ্রাচ্যগামী ৩৮টি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) জানিয়েছে, চলমান রাজনৈতিক উত্তেজনা ও নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে এসব ফ্লাইট পরিচালনা করা সম্ভব হয়নি।

বেবিচকের সহকারী পরিচালক (জনসংযোগ) মুহাম্মদ কাউছার মাহমুদ জানিয়েছেন, আকাশপথের নিরাপত্তা বিবেচনায় এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তিনি আরও জানিয়ে বলেছেন, ফেব্রুয়ারি ও মার্চের প্রথম সপ্তাহ থেকে এই অঞ্চলে মোট ১৪৭টি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে।

বাতিল হওয়া ফ্লাইটের সংখ্যা (ফেব্রুয়ারি–মার্চ ২০২৬)

তারিখবাতিল ফ্লাইট সংখ্যা
২৮ ফেব্রুয়ারি২৩
১ মার্চ৪০
২ মার্চ৪৬
৩ মার্চ৩৮
মোট১৪৭

আজ বাতিল ফ্লাইটের এয়ারলাইনস বণ্টন

এয়ারলাইনসবাতিল ফ্লাইট সংখ্যা
কাতার এয়ারওয়েজ
এমিরেটস
গালফ এয়ার (বাহরাইন)
ফ্লাই দুবাই
কুয়েত এয়ার
জাজিরা এয়ারওয়েজ (কুয়েত)
এয়ার অ্যারাবিয়া১২
ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স

বর্তমানে কুয়েত, বাহরাইন, কাতার, আবুধাবি, শারজাহ ও দুবাই ছাড়া অন্যান্য আন্তর্জাতিক রুটে ফ্লাইট চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে। তবে যাত্রীদের নিরাপত্তার কারণে পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ নিয়মিত তথ্য প্রদান এবং বিকল্প ফ্লাইট ও রুটের বিষয়ে যাত্রীদের নির্দেশনা দিচ্ছে।

চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকেও একই পরিস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে। মঙ্গলবার সকাল ৭টা পর্যন্ত মোট ৩৫টি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বাতিল হয়েছে, যার অধিকাংশ মধ্যপ্রাচ্যগামী। যাত্রীরা বিমানবন্দর বা সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইন্সের সঙ্গে যোগাযোগ করে ভ্রমণ পরিকল্পনা সংশোধন করছেন।

বেবিচক জানিয়েছে, এই পদক্ষেপ মূলত যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং ঝুঁকি এড়িয়ে চলার জন্য নেওয়া হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, পরিস্থিতি স্থিতিশীল না হওয়া পর্যন্ত ফ্লাইট বাতিল ও সময়সূচির পরিবর্তন কিছুদিন আরও চলতে পারে। যাত্রীরা সতর্কতা অবলম্বন এবং অফিসিয়াল তথ্য অনুযায়ী পদক্ষেপ নেওয়ায় সুবিধা পাবে।

সাম্প্রতিক এই পদক্ষেপগুলো আন্তর্জাতিক রুটে যাত্রীর অসুবিধা সৃষ্টির পাশাপাশি নিরাপত্তা বজায় রাখার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে, যাত্রীদের স্বাচ্ছন্দ্য ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পর্যাপ্ত সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।