আন্তর্জাতিক মুদ্রার হালনাগাদ রেট প্রকাশ

বাংলাদেশের অর্থনীতি আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে নিবিড়ভাবে যুক্ত। প্রবাসী কর্মী ও বৈদেশিক বিনিয়োগ দেশের বৈদেশিক মুদ্রার মজুদ বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। বিশেষ করে দেশের কোটি কোটি প্রবাসী তাদের আয়ের একটি বড় অংশ দেশে পাঠান, যা মুদ্রার চাহিদা, মুদ্রাবাজার এবং ব্যবসায়িক লেনদেনে সরাসরি প্রভাব ফেলে।

আজ, ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, দেশের ব্যবসা-বাণিজ্য ও প্রবাসী লেনদেনের সুবিধার্থে বাংলাদেশ ব্যাংক বিভিন্ন প্রধান আন্তর্জাতিক মুদ্রার ক্রয় ও বিক্রয়মূল্য নির্ধারণ করেছে। সরকারি সূত্রে জানা গেছে, মার্কিন ডলারের ক্রয়মূল্য ১২২.৩০ টাকা এবং বিক্রয়মূল্য ১২২.৩১ টাকা। ইউরোর ক্রয়মূল্য ১৪৫.১৩ টাকা এবং বিক্রয়মূল্য ১৪৫.১৮ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়া, অন্যান্য প্রধান মুদ্রার হারের সমন্বয় বাজার চাহিদা ও সরবরাহের ভিত্তিতে করা হয়েছে।

নিচের টেবিলে আজকের প্রধান আন্তর্জাতিক মুদ্রার ক্রয় ও বিক্রয়মূল্য সংক্ষিপ্তভাবে উপস্থাপন করা হলো:

মুদ্রাক্রয়মূল্য (টাকা)বিক্রয়মূল্য (টাকা)
ইউএস ডলার১২২.৩০১২২.৩১
ব্রিটিশ পাউন্ড১৬৬.৯১১৬৬.৯৬
ইউরো১৪৫.১৩১৪৫.১৮
জাপানি ইয়েন০.৮০০.৮০
অস্ট্রেলিয়ান ডলার৮৬.৫০৮৬.৫৬
সিঙ্গাপুর ডলার৯৬.৮০৯৬.৯৭
কানাডিয়ান ডলার৮৯.৮০৮৯.৮২
ইন্ডিয়ান রুপি১.৩৫১.৩৫
সৌদি রিয়েল৩২.৬১৩২.৫০

অর্থনীতিবিদ ও বিশেষজ্ঞরা জানান, বৈশ্বিক মুদ্রার ওঠানামা, আন্তর্জাতিক তেলের দাম, সুদের হার এবং প্রবাসীদের রেমিট্যান্সের পরিমাণ মুদ্রা বিনিময় হারের ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলে। ফলে ব্যবসায়ীরা ও বিনিয়োগকারীরা এই তথ্যের উপর ভিত্তি করে তাদের লেনদেন ও বিনিয়োগ পরিকল্পনা করতে পারেন।

মুদ্রা বাজারে যারা আগ্রহী, তাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—বাজার খোলা থাকাকালীন সময়ে হারের পরিবর্তন ঘটতে পারে। প্রবাসীরা সাধারণত বাংলাদেশ ব্যাংকের এই নির্ধারিত রেট অনুযায়ী দেশে অর্থ পাঠান। একই সঙ্গে, দেশের বিভিন্ন বাণিজ্যিক ব্যাংক ও মুদ্রা বিক্রয় কেন্দ্রও প্রতিদিন বাজার ভিত্তিক হারের সমন্বয় করে থাকে।

আজকের এই হারের মাধ্যমে ব্যবসায়ীরা তাদের লেনদেন পরিকল্পনা করতে পারবে এবং প্রবাসীরা সহজেই তাদের রেমিট্যান্স দেশে পাঠাতে পারবেন। দেশের অর্থনীতিতে প্রবাসী ও বৈদেশিক লেনদেনের অবদান বিবেচনা করে এই হার নির্ধারণ করা হয়েছে, যা স্থানীয় মুদ্রা ও বৈদেশিক মুদ্রার চাহিদা সুষ্ঠুভাবে বজায় রাখতে সহায়তা করবে।