বিশ্বায়নের এই সময়ে বাংলাদেশের অর্থনীতি ক্রমেই আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত হচ্ছে। আমদানি ও রপ্তানি বাণিজ্য, প্রবাসী আয়ের প্রবাহ, বৈদেশিক বিনিয়োগ এবং আন্তর্জাতিক সেবাখাতের লেনদেন বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বৈদেশিক মুদ্রার সঙ্গে বাংলাদেশি টাকার বিনিময় হার দেশের অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনায় একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সূচকে পরিণত হয়েছে। প্রতিদিনের বৈশ্বিক বাজার পরিস্থিতি, আন্তর্জাতিক রাজনীতি, তেলের দাম, সুদের হার এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নীতিগত সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করে এই বিনিময় হার কমবেশি হয়ে থাকে।
আজ শুক্রবার, ১৯ ডিসেম্বর, বাংলাদেশ ব্যাংক প্রকাশিত হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বৈদেশিক মুদ্রার বিপরীতে বাংলাদেশি টাকার বিনিময় হার নির্ধারণ করা হয়েছে। এই হারগুলো মূলত ব্যাংকিং লেনদেন, আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম, বৈদেশিক মুদ্রা কেনাবেচা এবং আন্তর্জাতিক আর্থিক হিসাব-নিকাশের ক্ষেত্রে নির্দেশক হিসেবে ব্যবহৃত হয়। ফলে ব্যবসায়ী, রপ্তানিকারক, আমদানিকারক, প্রবাসী আয় গ্রহণকারী এবং বিদেশগামী ভ্রমণকারীদের জন্য এসব তথ্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, আজ এক মার্কিন ডলারের বিপরীতে বাংলাদেশি টাকার বিনিময় হার দাঁড়িয়েছে ১২২ টাকা ৩১ পয়সা। ইউরোপীয় ইউনিয়নের একক মুদ্রা ইউরোর ক্ষেত্রে এই হার ১৪৩ টাকা ৬১ পয়সা। ব্রিটিশ পাউন্ডের মূল্য তুলনামূলকভাবে আরও বেশি, যা আজ ১৬৩ টাকা ৬২ পয়সায় লেনদেন হচ্ছে। অস্ট্রেলিয়ান ডলারের বিনিময় হার নির্ধারণ করা হয়েছে ৮০ টাকা ৮১ পয়সা এবং কানাডিয়ান ডলার ৮৮ টাকা ৭৩ পয়সায় লেনদেন হচ্ছে।
এশীয় মুদ্রার দিকে তাকালে দেখা যায়, জাপানি ইয়েনের বিনিময় হার সবচেয়ে কম, যা প্রতি ইয়েন ৭৮ পয়সা হিসেবে নির্ধারিত হয়েছে। চীনের ইউয়ান রেনমিনবি আজ বিনিময় হচ্ছে ১৭ টাকা ৩৭ পয়সায়। সিঙ্গাপুর ডলারের হার ৯৪ টাকা ৭৭ পয়সা। প্রতিবেশী দেশ ভারতের রুপির বিনিময় হার ১ টাকা ৩৫ পয়সা এবং শ্রীলঙ্কান রুপির হার ২ টাকা ৫৩ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে। ইউরোপের সুইডিশ ক্রোনার মূল্য আজ ১৩ টাকা ১৫ পয়সা।
অন্যদিকে, গুগল সূত্রে প্রকাশিত তথ্যে কিছু ক্ষেত্রে সামান্য ভিন্ন হার দেখা যাচ্ছে। সেই তথ্য অনুযায়ী, সিঙ্গাপুর ডলারের বিনিময় হার ৯৪ টাকা ৬৮ পয়সা, মালয়েশিয়ান রিঙ্গিত ২৯ টাকা ৯৫ পয়সা, সৌদি রিয়াল ৩২ টাকা ৫৯ পয়সা এবং কুয়েতি দিনার ৩৯৮ টাকা ৩৫ পয়সায় লেনদেন হচ্ছে। মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে কর্মরত বিপুলসংখ্যক প্রবাসী বাংলাদেশির জন্য এসব মুদ্রার বিনিময় হার বিশেষ তাৎপর্য বহন করে।
অর্থনীতিবিদদের মতে, বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হার দেশের আমদানি ব্যয়, রপ্তানি প্রতিযোগিতা, মূল্যস্ফীতি এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলে। বিশেষ করে মার্কিন ডলার, সৌদি রিয়াল এবং কুয়েতি দিনারের মতো মুদ্রার ওঠানামা বাংলাদেশের বৈদেশিক লেনদেন ব্যবস্থায় বড় ভূমিকা রাখে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক নিয়মিতভাবে বাজার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে এবং প্রয়োজনে নীতিগত হস্তক্ষেপের মাধ্যমে বিনিময় হারে অতিরিক্ত অস্থিরতা নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করছে।
উল্লেখ্য, বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হার যে কোনো সময় পরিবর্তিত হতে পারে। আন্তর্জাতিক বাজারের ওঠানামা, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক সংকট, ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং অভ্যন্তরীণ আর্থিক সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করে এই হার হঠাৎ করেও পরিবর্তন হতে পারে। তাই বৈদেশিক মুদ্রায় লেনদেনের আগে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক বা নির্ভরযোগ্য সরকারি সূত্র থেকে সর্বশেষ হালনাগাদ তথ্য যাচাই করে নেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।
