২০২৫ সালের জুলাইয়ে অস্ট্রেলিয়া–ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজের তৃতীয় টি–টোয়েন্টি ম্যাচে দর্শকরা شاهد হলো এক অবিশ্বাস্য ব্যাটিং মহারণ। চেজ করতে গিয়ে ২১৪ রানের চ্যালেঞ্জিং লক্ষ্য, অস্ট্রেলিয়ার দল তখন ৬১ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে ব্যাটিংয়ে বিপর্যস্ত অবস্থায় ছিল। ঠিক তখনই ব্যাটিংয়ে নামেন টিম ডেভিড। তিনি তার ব্যাটের জাদুতে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজের দখলে নেন এবং কেবল ৩৭ বলেই সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন। এই সময়ে তিনি ৬টি চার এবং ১১টি ছক্কার সাহায্যে দলকে বিপুল মাত্রায় সুবিধা দেন। তার এই অসাধারণ ইনিংস আন্তর্জাতিক টি–টোয়েন্টিতে যৌথ দশম দ্রুততম সেঞ্চুরির কীর্তি হিসেবে রেকর্ডে জায়গা করে নিল। অবশেষে, অস্ট্রেলিয়া ২৩ বল আগে জয় নিশ্চিত করতে সক্ষম হয়, যার মূল কারণ ছিল ডেভিডের চোখ ধাঁধানো পারফরম্যান্স।
ডেভিডের এই কীর্তি ক্রিকেট ইতিহাসে অন্যান্য স্মরণীয় ইনিংসের সঙ্গে তাল মিলিয়েছে। নিম্নের টেবিলে আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে দ্রুততম সেঞ্চুরিগুলোর তথ্য দেওয়া হলো:
| খেলোয়াড় | দেশ | ম্যাচ/প্রতিপক্ষ | বছর | বল | রান | চার | ছক্কা |
|---|---|---|---|---|---|---|---|
| Tim David | অস্ট্রেলিয়া | ওয়েস্ট ইন্ডিজ | 2025 | 37 | 102 | 6 | 11 |
| JJ Smit | নামিবিয়া | কেনিয়া | 2025 | 37 | 102 | – | – |
| Priyan Pushparanjan | মাল্টা | এস্তোনিয়া | 2025 | 37 | 102 | – | – |
| Sheikh Rasik | হাঙ্গেরি | মাল্টা | 2025 | 37 | 102 | – | – |
| Abhishek Sharma | ভারত | শ্রীলঙ্কা | 2025 | 37 | 135 | 7 | 13 |
| Sudesh Vikramasekara | চেক রিপাবলিক | তুরস্ক | 2019 | 35 | 100 | 8 | 10 |
| Rohit Sharma | ভারত | শ্রীলঙ্কা | 2017 | 35 | 100 | 11 | 8 |
| David Miller | দক্ষিণ আফ্রিকা | বাংলাদেশ | 2017 | 36 | 101 | 7 | 9 |
| Kushal Malla | নেপাল | মঙ্গোলিয়া | – | 50 | 137 | 8 | 12 |
| Sikandar Raja | জিম্বাবুয়ে | গাম্বিয়া | 2024 | 43 | 133 | 7 | 15 |
| Nicol Loftie-Eaton | নামিবিয়া | নেপাল | 2024 | 33 | 100 | 11 | 8 |
| Muhammad Fahad | বুলগেরিয়া | তুরস্ক | 2025 | 29 | 120 | 9 | 10 |
| Sahil Chauhan | এস্তোনিয়া | সাইপ্রাস | 2024 | 27 | 144 | 6 | 18 |
ক্রিকেটের দ্রুততম ইনিংসের তালিকায় দেখা যায়, অভিষেক শর্মা, রোহিত শর্মা, ডেভিড মিলার এবং নেপালের কুশল মল্লার মতো খেলোয়াড়রা কেবল ব্যক্তিগত কীর্তি নয়, ম্যাচের গতিপথই পাল্টে দিতে সক্ষম হয়েছেন। মাত্র কয়েকটি ডেলিভারিতেই ফিফটি বা সেঞ্চুরি করা সম্ভব, যা দলের মনোবল ও খেলায় নাটকীয় পরিবর্তন আনে।
আগামী ২০২৬ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে এই রেকর্ডব্রেকিং ইনিংসগুলো কেন্দ্রীয় আলোচ্য বিষয় হবে। বিশেষত, সাহিল চৌহানের ২৭ বলের সেঞ্চুরি আন্তর্জাতিক টি–টোয়েন্টিতে সবচেয়ে দ্রুততম হিসেবে বিশ্বক্রিকেটের নজর কাড়বে।
এ ইতিহাস সাক্ষ্য দেয় যে টি–টোয়েন্টি ক্রিকেটে দ্রুততম সেঞ্চুরি শুধুই ব্যক্তিগত অর্জন নয়—এটি দলীয় সাফল্যের পথ নির্মাণেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে, যেখানে ব্যক্তিগত দক্ষতা ও টিম ট্রায়াম্ফ একত্রিত হয়।