আন্তর্জাতিক আইন ভেঙে মাদুরোকে আটক, নিন্দায় জোহরান

ভেনেজুয়েলার মাটিতে অনধিকার প্রবেশ করে প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তাঁর স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে বন্দি করার ঘটনাটি বিশ্বরাজনীতিতে এক গভীর ক্ষতের সৃষ্টি করেছে। এই অনভিপ্রেত সামরিক পদক্ষেপের কড়া সমালোচনা করে নিউইয়র্কের নবনির্বাচিত মেয়র জোহরান মামদানি একে আন্তর্জাতিক আইনের চরম অবমাননা হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। ২০২৬ সালের প্রথম দিনে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই শহরের মেয়র হিসেবে শপথ নেওয়ার পরপরই তিনি এই সাহসী অবস্থান ব্যক্ত করেন। নিউইয়র্ক টাইমসের বিশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, জোহরান মামদানি এই আটকাদেশকে কেবল একটি রাজনৈতিক ঘটনা নয়, বরং সরাসরি ‘যুদ্ধের উসকানি’ এবং বৈশ্বিক স্থিতিশীলতা বিনষ্টের একটি পরিকল্পিত অপপ্রয়াস বলে মন্তব্য করেছেন।

মেয়র জোহরান মনে করেন, কোনো সার্বভৌম রাষ্ট্রের নির্বাচিত রাষ্ট্রপ্রধানের ওপর এ ধরনের আক্রমণ আন্তর্জাতিক বিচারব্যবস্থা এবং কূটনৈতিক প্রটোকলের ভিত্তিকে দুর্বল করে দেয়। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানান যে, গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে নির্বাচিত একটি সরকারকে অবৈধভাবে উৎখাত কিংবা নগ্নভাবে শাসন ব্যবস্থা পরিবর্তনের (রেজিম চেঞ্জ) এই চেষ্টা বিংশ শতাব্দীর ঔপনিবেশিক মানসিকতারই প্রতিফলন। তাঁর মতে, এ ধরনের হঠকারী সিদ্ধান্ত কেবল দক্ষিণ আমেরিকার স্থিতিশীলতা নষ্ট করবে না, বরং বিশ্বের অন্যান্য প্রান্তেও বিশৃঙ্খলা ছড়িয়ে দেওয়ার ঝুঁকি তৈরি করবে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া একটি আবেগঘন পোস্টে মেয়র জোহরান মামদানি এই ঘটনার স্থানীয় প্রভাবের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, এই সামরিক হস্তক্ষেপ কেবল বিদেশের মাটিতেই প্রভাব ফেলছে না, বরং এটি সরাসরি নিউইয়র্কের বিশাল এক ভেনেজুয়েলান জনগোষ্ঠীর হৃদয়ে রক্তক্ষরণ ঘটাচ্ছে। নিউইয়র্ক শহরটি আজ বহু ভেনেজুয়েলান নাগরিকের জন্য নিরাপদ আশ্রয়স্থল এবং তাদের মাতৃভূমির এই বিপর্যয় নিউইয়র্কের সামাজিক সংহতির ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। নাগরিকরা এখন তাদের পরিবারের নিরাপত্তা এবং দেশের ভবিষ্যৎ নিয়ে চরম উৎকণ্ঠার মধ্য দিয়ে দিন কাটাচ্ছেন।

ভেনেজুয়েলা পরিস্থিতি ও আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া সংক্ষেপ

গুরুত্বপূর্ণ তথ্যবিস্তারিত বিবরণ
আটককৃত ব্যক্তিগণপ্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও সিলিয়া ফ্লোরেস।
আইনি অবস্থানআন্তর্জাতিক আইন ও সার্বভৌমত্বের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।
জোহরান মামদানির পদবীনিউইয়র্কের মেয়র (২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি শপথপ্রাপ্ত)।
ক্ষতিগ্রস্ত পক্ষনিউইয়র্কে বসবাসরত হাজার হাজার ভেনেজুয়েলান অভিবাসী।
মূল দাবিরাজনৈতিক সমঝোতা এবং বহিঃশক্তির হস্তক্ষেপ বন্ধ করা।

মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালনের প্রথম দিনেই জোহরান মামদানি প্রমাণ করেছেন যে, তিনি কেবল স্থানীয় প্রশাসনেই সীমাবদ্ধ থাকতে চান না, বরং বৈশ্বিক অন্যায়ের বিরুদ্ধেও তাঁর কণ্ঠস্বর সোচ্চার। তিনি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন যেন অস্ত্রের জোরে ক্ষমতা দখলের এই অপসংস্কৃতি বন্ধ করা হয় এবং ভেনেজুয়েলার জনগণকে তাদের নিজস্ব ভাগ্য নির্ধারণের সুযোগ দেওয়া হয়। তাঁর এই সময়োপযোগী এবং বলিষ্ঠ মন্তব্যটি বর্তমানে আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে এবং প্রগতিশীল রাজনৈতিক ধারায় এক নতুন সংহতির বার্তা পৌঁছে দিয়েছে।