আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে সজীব ওয়াজেদ জয়ের গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি

ঢাকা: জুলাই আন্দোলনের সময় ইন্টারনেট বন্ধ রাখার ঘটনা এবং গণহত্যার অভিযোগের প্রেক্ষিতে সজীব ওয়াজেদ জয় এবং আওয়ামী লীগ সরকারের ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলকের বিরুদ্ধে অভিযোগ গ্রহণ করেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। একই সময়ে সজীব ওয়াজেদ জয়ের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৪ নভেম্বর) দুপুরে ট্রাইব্যুনালের প্রধান বিচারক এ আদেশ দেন। মামলার পরবর্তী শুনানি ১০ ডিসেম্বর নির্ধারণ করা হয়েছে। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, জুলাই আন্দোলনের সময় সরকার কর্তৃক ইন্টারনেট বন্ধ রাখার নির্দেশ এবং এর মাধ্যমে সাধারণ মানুষের যোগাযোগ ও তথ্যপ্রবাহে বিঘ্ন সৃষ্টি করা অভিযোগে জয় ও পলককে দায়ী করা হয়েছে। এছাড়াও, আন্দোলনের সময় জনসাধারণের উপর প্রয়োগকৃত কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং পুলিশি হস্তক্ষেপকে গণহত্যার অভিযোগের অংশ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সূত্রে জানা গেছে, সজীব ওয়াজেদ জয়, যিনি তখন সরকারের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে ছিলেন, তার দায়িত্বের সীমা এবং সরকারি পদ ব্যবহার করে তথ্যপ্রবাহ সীমিত করার বিষয়টি তদন্তের আওতায় আনা হয়েছে। একইভাবে, জুনাইদ আহমেদ পলক, ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে, ইন্টারনেট ও মোবাইল নেটওয়ার্ক বন্ধ রাখার প্রক্রিয়ায় সরাসরি জড়িত ছিলেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

ট্রাইব্যুনালের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অভিযোগ গ্রহণের পরে তদন্ত প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করা হবে। শোনানো হবে উভয় অভিযুক্তের বক্তব্য এবং সাক্ষ্য প্রমাণ সংগ্রহ করা হবে। এটি দেশের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ মামলা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, কারণ এটি সরকারের উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জনগণের মৌলিক অধিকার এবং আন্দোলনের সময় তথ্যপ্রবাহের সীমাবদ্ধতার দায়িত্বকে কেন্দ্র করে তৈরি করা হয়েছে।

এই মামলার প্রেক্ষিতে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এটি ভবিষ্যতে সরকারি কর্মকর্তাদের দায়িত্ব ও নাগরিক অধিকার সংক্রান্ত একটি মাইলফলক হয়ে দাঁড়াতে পারে। এছাড়াও, এটি আন্তর্জাতিক পর্যায়েও নজরকাড়া একটি ঘটনা হিসেবে ধরা হচ্ছে, যেখানে জনসংযোগের স্বাধীনতা এবং তথ্যপ্রবাহ সীমিত করার প্রভাবের ওপর বিচারাধীন মামলা শুরু হয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা আরও মনে করান, এই ধরনের মামলার বিচার প্রক্রিয়া দেশের নৈতিক ও আইনি কাঠামোর ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে। আদালতের আদেশ অনুযায়ী, আগামী ১০ ডিসেম্বর পরবর্তী শুনানি অনুষ্ঠিত হবে। সেখানে সাক্ষ্য গ্রহণ, তদন্ত প্রতিবেদন উপস্থাপন এবং অভিযুক্তদের পক্ষে আইনজীবীর বক্তব্য শোনা হবে।

এই মামলায় সজীব ওয়াজেদ জয়ের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হওয়ায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সতর্ক অবস্থানে রয়েছে, যাতে আইনগত প্রক্রিয়ায় কোনো বিঘ্ন সৃষ্টি না হয়।