আনন্দ ও সম্প্রীতির আবহে আস্থা লাইফের বার্ষিক বনভোজন

বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর কল্যাণ ট্রাস্টের অঙ্গপ্রতিষ্ঠান এবং দেশের অন্যতম বিশ্বস্ত জীবন বীমা প্রতিষ্ঠান আস্থা লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানী লিমিটেড-এর ‘বার্ষিক বনভোজন-২০২৬’ গত শুক্রবার অত্যন্ত উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে। ‘সুরক্ষিত জীবনের প্রতিশ্রুতি’—এই মূলমন্ত্রকে ধারণ করে বীমা শিল্পে নতুন দিগন্ত উন্মোচনকারী এই প্রতিষ্ঠানটির সকল স্তরের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের মধ্যে পারস্পরিক মেলবন্ধন ও কাজের স্পৃহা বৃদ্ধির লক্ষ্যে এই বিশেষ দিনটি উদযাপন করা হয়। ঢাকার উত্তরখানের নয়নাভিরাম গ্রীন ভিউ রিসোর্ট এন্ড কনভেনশন সেন্টারে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে ছিল উৎসবের আমেজ এবং সেনাবাহিনীর চিরাচরিত শৃঙ্খলার এক অনন্য সংমিশ্রণ।

বর্ণাঢ্য আয়োজন ও অংশগ্রহণ

মাঘের শীতের সকালে কুয়াশাচ্ছন্ন প্রকৃতিতে উষ্ণতার পরশ নিয়ে শুরু হয় এই বনভোজন। অনুষ্ঠানে প্রধান কার্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারী ছাড়াও দেশের বিভিন্ন প্রান্তের আঞ্চলিক কার্যালয় থেকে আসা প্রতিনিধি, নিবেদিতপ্রাণ সেলস ফোর্স এবং তাঁদের পরিবারের সদস্যরা অংশগ্রহণ করেন। দিনব্যাপী এই আয়োজনে কয়েক হাজার মানুষের এই বিশাল সমাগম এক অপূর্ব ভ্রাতৃত্বের বন্ধনে পরিণত হয়। প্রতিদিনের কর্মব্যস্ততা ভুলে প্রিয়জনদের সঙ্গে অনাবিল আনন্দে মেতে ওঠার সুযোগ পেয়ে সকলেই এক নতুন প্রাণশক্তিতে উজ্জীবিত হন।

মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তার দিক-নির্দেশনা

আস্থা লাইফ ইন্স্যুরেন্সের সার্থক নেতৃত্ব প্রদানকারী মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শাহ সগিরুল ইসলাম, এনডিসি, এএফডব্লিউসি, পিএসসি (অব.) উপস্থিত থেকে বনভোজনের উদ্বোধন করেন এবং সকলের উদ্দেশ্যে অনুপ্রেরণামূলক বক্তব্য রাখেন। তিনি তাঁর বক্তব্যে প্রতিষ্ঠানের উত্তরোত্তর সাফল্য কামনার পাশাপাশি বীমা গ্রাহকদের সর্বোচ্চ সেবা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, সেনাবাহিনীর স্বচ্ছতা, সততা ও সময়ানুবর্তিতার আদর্শ ধারণ করে আস্থা লাইফ দেশের সাধারণ মানুষের ভাগ্য উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছে। গ্রাহকের আমানতের সুরক্ষা ও দ্রুততম সময়ে বীমা দাবি নিষ্পত্তি করাই হবে এই প্রতিষ্ঠানের মূল লক্ষ্য।


আনন্দ ও বিনোদনের রূপরেখা

বনভোজনকে ঘিরে আয়োজিত বিভিন্ন ইভেন্টগুলো অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ ও উদ্দীপনা সৃষ্টি করে। শীতের সকালে ভাপা, চিতইসহ হরেক রকমের দেশীয় পিঠা-পুলির আয়োজন ছিল অত্যন্ত আকর্ষণীয়। শিশুদের জন্য আলাদা খেলার জোন এবং বড়দের জন্য বিভিন্ন ক্রীড়া প্রতিযোগিতার ব্যবস্থা করা হয়েছিল।

বার্ষিক বনভোজন-২০২৬-এর কার্যক্রম একনজরে:

বিষয়বস্তুবিবরণ ও বৈশিষ্ট্য
আয়োজক প্রতিষ্ঠানআস্থা লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানী লিমিটেড
ভেন্যু ও পরিবেশগ্রীন ভিউ রিসোর্ট, উত্তরখান (সবুজ শ্যামল প্রাকৃতিক পরিবেশ)
খাবার ও আপ্যায়নশীতকালীন পিঠা উৎসব ও উন্নত মানের মধ্যাহ্নভোজ
সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানআমন্ত্রিত শিল্পী ও কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণে মনোজ্ঞ সংগীত ও নৃত্য
বিশেষ পুরস্কারআকর্ষণীয় পুরস্কার সমৃদ্ধ ‘র‍্যাফেল ড্র’
মূল চেতনাসম্প্রীতি বৃদ্ধি ও কাজের প্রতি নতুন সংকল্প
নীতি ও আদর্শস্বচ্ছতা, বিশ্বস্ততা ও সেনাবাহিনীর আদর্শের প্রতিফলন

ঐক্যবদ্ধ থাকার অঙ্গীকার

অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে একটি মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়, যেখানে গুণী শিল্পীদের পরিবেশনা সকলকে মুগ্ধ করে। এরপর অনুষ্ঠিত হয় আকর্ষণীয় র‍্যাফেল ড্র, যা ছিল পুরো দিনের সবচেয়ে উত্তেজনাকর মুহূর্ত। বনভোজনে আসা সকল সদস্য সেনাবাহিনীর শৃঙ্খলিত ও প্রতিশ্রুতিবদ্ধ জীবন দর্শনের প্রতিফলন ঘটিয়ে অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন যে, তাঁরা কেবল একটি বীমা প্রতিষ্ঠানের কর্মী নন, বরং তাঁরা সাধারণ মানুষের স্বপ্নের সারথি। সম্প্রীতির এই বন্ধন কেবল উৎসবের গণ্ডিতেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং তা কর্মক্ষেত্রেও একে অপরকে সহযোগিতার মানসিকতা তৈরি করবে।

উপসংহার

আস্থা লাইফ পরিবারের এই বার্ষিক মিলনমেলা কেবল একটি বিনোদনমূলক অনুষ্ঠান ছিল না, বরং এটি ছিল একটি পরিবারের একতাবদ্ধ হওয়ার প্ল্যাটফর্ম। একটি স্বচ্ছ ও জবাবদিহিতামূলক বীমা খাত গঠনে আস্থা লাইফ যেভাবে এগিয়ে যাচ্ছে, এই বনভোজন সেই গতিকে আরও ত্বরান্বিত করবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে। বনভোজনের আনন্দময় স্মৃতি ও নতুন উদ্যম নিয়ে সকল কর্মী আবার তাঁদের কর্মস্থলে ফিরে গেছেন।