দেশের অন্যতম শীর্ষ টেলিভিশন অভিনেত্রী মেহজাবীন চৌধুরী গত কয়েকদিন ধরে আলোচনার কেন্দ্রে। তার বিরুদ্ধে আমিরুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তি ২৭ লাখ টাকা আত্মসাৎ এবং হুমকি দেওয়ার অভিযোগে মামলা দায়ের করেন ২০২৫ সালের মার্চে। দীর্ঘদিন মামলাটি আলোচনায় না থাকলেও আদালতে হাজির না হওয়ায় সম্প্রতি তার ও তার ভাই আলিসান চৌধুরীর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়, যা বিষয়টিকে নতুন মাত্রায় নিয়ে যায়।
রোববার সন্ধ্যায় আদালতে আত্মসমর্পণের পর তারা জামিন পান। তবে ঘটনাটি নিয়ে বিভ্রান্তি ও জল্পনা বাড়ায়, পরদিন মেহজাবীন নিজেই বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেন। একটি দীর্ঘ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পোস্টে তিনি দাবি করেন—গত নয় মাসে তিনি মামলার অস্তিত্বই জানতেন না, কারণ অভিযোগকারী তার প্রকৃত ফোন নম্বর বা ঠিকানা আদালতে উল্লেখ করেননি। ফলে তাকে নোটিশ দেওয়ার সুযোগই ছিল না।
অভিযোগকারী দাবি করেছেন, ২০১৬ সাল থেকে তিনি মেহজাবীনের সঙ্গে ব্যবসা করছিলেন। কিন্তু মেহজাবীনের বক্তব্য—একটি চ্যাট, ফোন কল, হোয়াটসঅ্যাপ মেসেজ, স্ক্রিনশট বা লেনদেনের মৌলিক কোনো প্রমাণই তিনি দিতে পারেননি। ব্যাংক ট্রান্সফার, চেক, রসিদ, বিকাশ লেনদেন—কিছুই নেই। এমনকি একজন সাক্ষীও হাজির করেননি।
সবচেয়ে অদ্ভুত অভিযোগটি ছিল চোখ বেঁধে হাতিরঝিলের একটি রেস্টুরেন্টে নিয়ে যাওয়ার গল্প। গত নয় মাসে এই অভিযোগের পক্ষে একটি সেকেন্ডও সিসিটিভি ফুটেজ পাওয়া যায়নি। মেহজাবীন প্রশ্ন তুলেছেন—এত গুরুতর অভিযোগের পরও যদি সত্যতা থাকত, তবে কি পুলিশ বা আদালত তার সঙ্গে যোগাযোগ করত না?
তিনি স্পষ্ট করে লেখেন, “যদি আমি একটি নোটিশও পেতাম, তবে আগেই আইনি ব্যবস্থা নিতাম।”
তার ভাষ্য অনুযায়ী, অভিযোগের কোনও দৃঢ় ভিত্তি নেই; তবে আইনগত নির্দেশ মেনে তিনি জামিন নিয়েছেন, যা তার দায়িত্বশীলতারই প্রমাণ।
ঘটনার পর এখন প্রশ্ন উঠছে—অভিযোগটি কি আদৌ বিশ্বাসযোগ্য, নাকি এটি একটি প্রচারণামূলক চাপ সৃষ্টি করার কৌশল? তদন্তে সত্য বেরিয়ে আসার অপেক্ষায় এখন সবার নজর আইনি প্রক্রিয়ার দিকে।
