আডা লাভলেসের অমূল্য আলোকচিত্র প্রকাশিত

পৃথিবীর প্রথম প্রোগ্রামার হিসেবে খ্যাত আডা লাভলেসের কিছু ভঙ্গুর ও বিরল আলোকচিত্র ব্রিটিশ জাতীয় সংগ্রহশালায় স্থায়ীভাবে সংরক্ষিত হয়েছে। দীর্ঘ প্রজন্ম ধরে ব্যক্তিগত সংগ্রহে থাকা এই ছবিগুলো সম্প্রতি লন্ডনের ন্যাশনাল পোর্ট্রেট গ্যালারিতে বেসরকারি ক্রয়ের মাধ্যমে যুক্ত করা হয়েছে। গ্যালারির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এটি শুধু আডা লাভলেসের অগ্রগামী প্রযুক্তিগত কাজকে সম্মান জানানোর সুযোগ নয়, বরং ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।

আডা লাভলেস ছিলেন ঊনবিংশ শতাব্দীর একজন ইংরেজ গণিতবিদ ও লেখক। তিনি সাধারণ গণনার সীমা ছাড়িয়ে যন্ত্র কীভাবে ধারাবাহিক এবং সুশৃঙ্খল নির্দেশনা পালন করতে পারে, তা নিয়ে কাজ করেছেন। তাঁর গবেষণা আধুনিক কম্পিউটার বা যন্ত্রের কার্যপ্রণালির ভিত্তি স্থাপন করেছিল। বিশেষ করে চার্লস ব্যাবেজের সঙ্গে তাঁর সহযোগিতা যুগান্তকারী ছিল। ব্যাবেজ ডিফারেন্স ইঞ্জিন এবং পরে অ্যানালিটিক্যাল ইঞ্জিনের পরিকল্পনা করেছিলেন। লাভলেস দেখেছিলেন, এই যন্ত্র শুধুমাত্র সংখ্যা গণনায় সীমাবদ্ধ নয়; এর সম্ভাবনা বহুগুণ বিস্তৃত। ১৮৪৩ সালে তিনি অ্যানালিটিক্যাল ইঞ্জিনের জন্য প্রথম অ্যালগরিদম তৈরি করেন, যা পৃথিবীর প্রথম প্রোগ্রাম হিসেবে স্বীকৃত।

লাভলেসের আলোকচিত্রগুলো ড্যাগ্যুরোটাইপ পদ্ধতিতে তোলা। এই প্রক্রিয়ায় রূপার প্রলেপযুক্ত তামার পাতের ওপর রাসায়নিকভাবে চিত্র তৈরি করা হতো, পরে পারদের বাষ্প ব্যবহার করে ছবিটি ফুটিয়ে তোলা হতো। যেহেতু প্রতিটি পাতই মৌলিক ছবি, তাই সামান্য আঁচড় বা দাগও স্থায়ী প্রভাব ফেলে। বর্তমানে এগুলো অত্যন্ত সংবেদনশীল হওয়ায় জাদুঘর কর্তৃপক্ষ এগুলোকে আলো ও আর্দ্রতা থেকে দূরে রেখে গবেষকদের জন্য ডিজিটাল সংস্করণ তৈরি করছে।

নিচের টেবিলে আডা লাভলেসের জীবনের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংক্ষেপে উপস্থাপন করা হলো:

বিষয়বিবরণ
জন্ম১০ ডিসেম্বর ১৮১৫, লন্ডন, ইংল্যান্ড
পিতা-মাতাউইলিয়াম লাভলেস ও লর্ড বায়রনের কন্যা অ্যানাবেল মিলব্যা
উল্লেখযোগ্য কাজঅ্যানালিটিক্যাল ইঞ্জিনের জন্য প্রথম অ্যালগরিদম তৈরি
গুরুত্বপূর্ণ সহযোগিতাচার্লস ব্যাবেজ (ডিফারেন্স ইঞ্জিন ও অ্যানালিটিক্যাল ইঞ্জিন)
মৃত্যু১৮৫২, জরায়ুর ক্যানসারে, বয়স ৩৬ বছর

আডা লাভলেসের জীবন ছিল স্বল্পস্থায়ী, কিন্তু প্রভাব অমর। গণনা ও উদ্ভাবনের মধ্যে স্পষ্ট সীমারেখা টেনে তিনি লিখেছিলেন, “যন্ত্র কেবল তাতেই সাহায্য করতে পারে, যা আমরা ইতিমধ্যেই জানি।” এই দর্শন আধুনিক কম্পিউটার বিজ্ঞানের ভিত্তি স্থাপন করেছে। তাঁর নাম আজও প্রযুক্তি ও বিজ্ঞানভিত্তিক শিক্ষার ইতিহাসে সোনালী অক্ষরে লেখা আছে।