দেশের বাজারে ১ ডিসেম্বর ২০২৫ থেকে স্বর্ণের দাম নতুন করে নির্ধারণ করা হয়েছে। বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস) ঘোষণা করেছে, ২২ ক্যারেট স্বর্ণের প্রতি ভরির মূল্য ২ লাখ ১০ হাজার ৫৭০ টাকা হবে। এটি গত ২৯ নভেম্বর ২ হাজার ৪০৩ টাকা কমানোর পর নতুন নির্ধারিত দাম।
বাজুসের নতুন ঘোষণার বিস্তারিত অনুযায়ী, বিভিন্ন ক্যারেটের স্বর্ণের প্রতি ভরির দাম ও সরকার নির্ধারিত ভ্যাট এবং ন্যূনতম মজুরি অন্তর্ভুক্ত মূল্যের তথ্য নিচের টেবিলে দেওয়া হলো—
| স্বর্ণের ধরণ | প্রতি ভরির দাম (টাকা) | বিবরণ |
|---|---|---|
| ২২ ক্যারেট | ২,১০,৫৭০ | সরকারের ৫% ভ্যাট ও বাজুসের ৬% ন্যূনতম মজুরি অন্তর্ভুক্ত |
| ২১ ক্যারেট | ২,০১,০০৬ | একইভাবে ভ্যাট ও মজুরি অন্তর্ভুক্ত |
| ১৮ ক্যারেট | ১,৭২,২৮৯ | সরকার-নির্ধারিত ভ্যাট ও ন্যূনতম মজুরি অন্তর্ভুক্ত |
| সনাতন পদ্ধতি | ১,৪৩,৩২৭ | একইভাবে ভ্যাট ও মজুরি অন্তর্ভুক্ত |
বাজুস জানিয়েছে, স্বর্ণের বিক্রয়মূল্যের সঙ্গে সরকার-নির্ধারিত ৫ শতাংশ ভ্যাট এবং বাজুস-নির্ধারিত ৬ শতাংশ ন্যূনতম মজুরি অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। তবে গহনার ডিজাইন ও মানভেদে মজুরি ভিন্ন হতে পারে।
এর আগে, ২০ নভেম্বর বাজারে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম ছিল ২,০৮,১৬৭ টাকা। অর্থাৎ নভেম্বরের মাঝামাঝি থেকে ডিসেম্বরের প্রথমে এই ধরণের স্বর্ণের দাম প্রায় ২,৪০০ টাকায় পরিবর্তিত হয়েছে।
অন্যদিকে, রুপার দাম অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। নতুন ঘোষণার অনুযায়ী, ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপা বিক্রি হবে ৪,২৪৬ টাকায়। ২১ ক্যারেট রুপার দাম ৪,০৪৭ টাকা, ১৮ ক্যারেট রুপার দাম ৩,৪৭৬ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির রুপা ২,৬০১ টাকায় বিক্রি হবে।
বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দামের ওঠাপড়ার সঙ্গে অভ্যন্তরীণ চাহিদা ও স্থানীয় মুদ্রার মানের ওঠানামা স্বর্ণের দাম নির্ধারণে প্রভাব ফেলে। এর ফলে বাংলাদেশের বাজারেও নিয়মিত মূল্য সমন্বয় করা হয়।
স্বর্ণের বাজারে এই দাম পরিবর্তন ক্রেতা ও ব্যবসায়ীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে গহনা ক্রয় বা বিনিয়োগের পরিকল্পনা থাকলে ক্রেতাদের বর্তমান দাম অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেওয়া প্রয়োজন। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, শীতের মরশুম ও বিভিন্ন উৎসবের আগেই স্বর্ণের দাম ওঠানামা করা সাধারণ প্রবণতা।
