আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের (আইসিটিবি) চিফ প্রসিকিউটরের পদে সাম্প্রতিক সময়ে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন হয়েছে। মোহাম্মদ তাজুল ইসলামের নিয়োগ বাতিল করে নতুন চিফ প্রসিকিউটর হিসেবে আইনজীবী মো. আমিনুল ইসলামকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এই নিয়োগের প্রজ্ঞাপন সোমবার আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আইন ও বিচার বিভাগের সলিসিটর অনুবিভাগ থেকে জারি করা হয়েছে।
প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে, নতুন চিফ প্রসিকিউটর হিসেবে মো. আমিনুল ইসলামকে দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছে। এই পদে তিনি অ্যাটর্নি জেনারেলের সমমানের বেতন, ভাতা ও অন্যান্য সুবিধা পাবেন। আদেশটি অবিলম্বে কার্যকর হবে এবং তিনি ট্রাইব্যুনালের সকল মামলা পরিচালনার দায়িত্ব পালন করবেন।
মো. আমিনুল ইসলাম সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী এবং জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক কমিটির সদস্য। তিনি ফোরামের কেন্দ্রীয় কমিটির সহসভাপতির দায়িত্বও পালন করেছেন। অভিজ্ঞ এই আইনজীবী আন্তর্জাতিক ও জাতীয় আইনি ক্ষেত্রে দীর্ঘসময় ধরে কাজ করছেন, যা তার দক্ষতা ও নেতৃত্বকে শক্তিশালী করেছে।
মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম ২০২৪ সালের ৫ সেপ্টেম্বর তৎকালীন অন্তর্বর্তী সরকারের সময় চিফ প্রসিকিউটরের পদে নিযুক্ত হন। তবে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের নির্বাচনের পর গঠিত নতুন সরকার তার নিয়োগ বাতিল করে এই পদে নতুন চিফ প্রসিকিউটর নিযুক্ত করলো।
নিচের টেবিলে সাম্প্রতিক পরিবর্তনগুলো সংক্ষেপে তুলে ধরা হলো:
| বিষয় | পূর্ববর্তী চিফ প্রসিকিউটর | বর্তমান চিফ প্রসিকিউটর | নিয়োগ তারিখ | উল্লেখযোগ্য তথ্য |
|---|---|---|---|---|
| নাম | মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম | মো. আমিনুল ইসলাম | ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি | অ্যাটর্নি জেনারেলের সমমানের বেতন ও সুবিধা |
| পদমর্যাদা | চিফ প্রসিকিউটর | চিফ প্রসিকিউটর | অবিলম্বে কার্যকর | সুপ্রিম কোর্টের অভিজ্ঞ আইনজীবী |
| রাজনৈতিক সম্পর্ক | তৎকালীন অন্তর্বর্তী সরকার | বিএনপি সরকার | – | জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও সহসভাপতি |
আইন বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই পরিবর্তন ট্রাইব্যুনালের মামলাগুলোর কার্যক্রমে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে। নতুন চিফ প্রসিকিউটরের নেতৃত্বে প্রশাসনিক ও আইনি কার্যক্রম আরও সুসংগঠিত হওয়ার আশা করা হচ্ছে।
সরকারের লক্ষ্য হলো চিফ প্রসিকিউটরের পদে স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ মামলাগুলো দক্ষ ও অভিজ্ঞ নেতৃত্বের অধীনে পরিচালনা করা। অভিজ্ঞ মো. আমিনুল ইসলামের নিয়োগ ট্রাইব্যুনালের প্রশাসনিক ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করতে এবং আইনি প্রক্রিয়াগুলোর গতিশীলতা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
এই নিয়োগ আন্তর্জাতিক ও জাতীয় আইনি সম্প্রদায়ের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা ও প্রত্যাশা সৃষ্টি করেছে, যেখানে ট্রাইব্যুনালের কার্যক্রমের স্বচ্ছতা ও দক্ষতা বৃদ্ধির ওপর বিশেষ মনোযোগ দেওয়া হবে।
