আইভীর জামিন নামঞ্জুর, দুই মামলার শুনানি সম্পন্ন

নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র ডা. সেলিনা হায়াত আইভীর বিরুদ্ধে দায়ের করা পাঁচটি নতুন মামলার মধ্যে আজ বুধবার দুইটির শুনানি অনুষ্ঠিত হয়েছে। নারায়ণগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ আদালত, জজ আবু শামীম আজাদের কক্ষে এই শুনানি অনুষ্ঠিত হয়।

আজকের শুনানিতে যে দুটি মামলা আলোচিত হয়েছে, তা হলো:

  1. নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানায় পুলিশের ওপর হামলার মামলা

  2. ফতুল্লা থানার ইয়াসিন হত্যা মামলা

শুনানির পর আদালত সাবেক মেয়র আইভীর জামিন নামঞ্জুর করেন। এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন নারায়ণগঞ্জ আদালতের পুলিশ পরিদর্শক কাইয়ুম খান।

আইভীর আইনজীবী অ্যাডভোকেট আওলাদ হোসেন বলেন, “দুই মামলার এজাহারে সাবেক মেয়র আইভীর নাম উল্লেখ নেই। এর আগে এজাহারে নাম না থাকার কারণে ১৯ জনকে জামিন দেওয়া হয়েছিল। অন্য আসামিরা জামিন পেয়েছেন, কিন্তু আইভীকে জামিন না দেওয়ায় বিচার ব্যবস্থার প্রতি জনগণের আস্থা কমতে পারে। আমরা এই আদেশের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করব।”

আইভী বর্তমানে পাঁচটি মামলায় হাইকোর্ট থেকে জামিন পেয়েছেন। তবে নতুনভাবে দায়ের করা পাঁচটি মামলায় তাকে যুক্ত করা হয়েছে, যেগুলোর কোনোটাতেই তার নাম নেই। বিশেষ করে ইয়াসিন হত্যা মামলার শুনানিতে বলা হয়েছে, শামীম ওসমান এবং অয়ন ওসমান ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে এবং গুলি চালিয়েছে। অপরদিকে, পুলিশের ওপর হামলার মামলায় আইভী সেই সময় পুলিশ কাস্টডিতে ছিলেন।

নিম্নলিখিত টেবিলে মামলার বিস্তারিত এবং আইভীর অবস্থান তুলে ধরা হলো:

মামলাথানার নামঅভিযোগআইভীর অবস্থানআদালতের সিদ্ধান্ত
পুলিশের ওপর হামলানারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানাপুলিশের ওপর হামলাপুলিশ কাস্টডিতে ছিলেনজামিন নামঞ্জুর
ইয়াসিন হত্যা মামলাফতুল্লা থানাহত্যা, বিস্ফোরণমামলায় নাম নেইজামিন নামঞ্জুর
অন্যান্য তিনটি মামলাবিভিন্নবিভিন্ন অভিযোগআইভীর নাম নেইশুনানি এখনও হয়নি

আইভীর আইনজীবী আরও জানিয়েছেন, “নতুন পাঁচটি মামলায় আইভীর নাম না থাকলেও বিচার কার্যক্রমের স্বচ্ছতা ও আইনের শৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য উচ্চ আদালতে আপিল করা হবে।”

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই ধরনের মামলার ক্ষেত্রে আদালতের সঠিক প্রক্রিয়া ও প্রমাণের গুরুত্ব অপরিসীম। একই সঙ্গে, সাবেক কর্মকর্তাদের নামে মামলা হলে স্বচ্ছ বিচার ব্যবস্থা নিশ্চিত করা জরুরি, যাতে জনগণের বিচার ব্যবস্থায় আস্থা স্থায়ী থাকে।

নারায়ণগঞ্জের এই মামলা প্রক্রিয়া দেশের অন্যান্য শহরে বিচারিক প্রক্রিয়ার উপরও নজর রাখার উদাহরণ হিসেবে ধরা হচ্ছে। স্থানীয় প্রশাসন এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো এখন মামলার যথাযথ তদন্ত এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করার দিকে মনোযোগ দিচ্ছে।