শ্রীলঙ্কা জাতীয় দলের ত্বরিত পেসার নুয়ান তুষারা চলতি আইপিএল মৌসুমে খেলতে না পারায় শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট (এসএলসি)-এর শীর্ষ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করেছেন। লঙ্কান সংবাদমাধ্যম অনুযায়ী, তুষারা বিশেষভাবে বোর্ডের অনাপত্তিপত্র (No Objection Certificate, NOC) না দেওয়ার সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করছেন।
তুষারা আইপিএলে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু দলকে প্রতিনিধিত্ব করার কথা ছিল। তবে বোর্ডের ফিটনেস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ না হওয়ার অজুহাতে তাঁকে খেলার ছাড়পত্র দেওয়া হয়নি। এ সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সন্তুষ্ট না হয়ে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন এই পেসার।
তুষারা তাঁর মামলায় শ্রীলঙ্কা ক্রিকেটের প্রেসিডেন্ট শাম্মি সিলভা, সচিব বান্দুলা দিসানায়ে, কোষাধ্যক্ষ সুজিওয়া গোডালিয়াড্ডা এবং সিইও অ্যাশলে ডি সিলভাকে বিবাদী করেছেন। কলম্বোর জেলা আদালতে গত বৃহস্পতিবার মামলা দাখিলের পর ৯ এপ্রিল শুনানির দিন নির্ধারণ করা হয়েছে।
তুষারার দাবি অনুযায়ী, শ্রীলঙ্কা ক্রিকেটের সঙ্গে তাঁর কেন্দ্রীয় চুক্তি ৩১ মার্চ ২০২৬ তারিখে শেষ হওয়ার কথা ছিল। তবে কেন্দ্রীয় চুক্তি নবায়ন না করা ও আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে সরে দাঁড়ানোর ইচ্ছা বোর্ডকে তিনি আগেই জানিয়েছিলেন। তুষারা বলেন, “ফিটনেসের দিক থেকে আমার অবস্থা আগের মতোই, এমনকি ক্যারিয়ারের বড় অংশে আমি এই লেভেল ধরে রেখেছি। অনাপত্তিপত্র না দেওয়া সম্পূর্ণ অযৌক্তিক।”
আইপিএলে খেলতে না পারলে তুষারা বড় আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়বেন। সর্বশেষ আইপিএল নিলামে তিনি ১ কোটি ৬০ লাখ রুপিতে বেঙ্গালুরু দলে নিলাম করা হয়। ২০২৫ আইপিএল মৌসুমেও তিনি একই দলের হয়ে খেলেছেন এবং একটি ম্যাচে অংশগ্রহণ করেছেন।
নিচের টেবিলে তুষারার আইপিএল সম্পর্কিত তথ্য সংক্ষেপে তুলে ধরা হলো:
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| দল | রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু |
| নিলাম মূল্য | ১ কোটি ৬০ লাখ রুপি |
| ২০২৫ আইপিএল | ১টি ম্যাচ খেলেছেন |
| ফিটনেস পরীক্ষার ফল | উত্তীর্ণ হননি |
| আদালতের শুনানি | ৯ এপ্রিল ২০২৬ |
| মামলা বিবাদী | শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট প্রেসিডেন্ট, সচিব, কোষাধ্যক্ষ, সিইও |
তুষারা জানিয়েছেন, অনাপত্তিপত্র না পেলে তিনি আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি ক্যারিয়ারের গুরুত্বপূর্ণ সুযোগও হারাবেন। আইপিএল খেলার জন্য শ্রীলঙ্কা ক্রিকেটের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে নেওয়া এই আইনগত পদক্ষেপ তাঁর ক্যারিয়ারের বড় সংবেদনশীল মুহূর্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
মামলার ফলাফল এবং আদালতের সিদ্ধান্ত শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট ও আইপিএল উভয়ের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে, বিশেষ করে খেলোয়াড়দের আন্তর্জাতিক অনুমোদন এবং কেন্দ্রীয় চুক্তি সংক্রান্ত নীতিমালার ক্ষেত্রে।
