আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের পাশাপাশি ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটেও নিজের দক্ষতা এবং নেতৃত্বের ছাপ রেখেছেন সাকিব আল হাসান। ব্যাট-বোলিংয়ে অসংখ্য রেকর্ডের মালিক এই সাবেক বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার এবার উইজডেনের আইপিএলের সেরা একাদশে স্থান করে নিয়েছেন, যা তার ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটে অদ্বিতীয় প্রতিভার আরও এক স্বীকৃতি।
বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) জনপ্রিয় ক্রিকেট ম্যাগাজিন উইজডেন এশিয়ার ক্রিকেটারদের মধ্যে সেরা একাদশ প্রকাশ করে। এই একাদশে একমাত্র বাংলাদেশি হিসেবে সাকিবের নাম এসেছে, আর ভারতীয় কোনো খেলোয়াড়ের উপস্থিতি নেই।
Table of Contents
সাকিবের আইপিএল ক্যারিয়ার পরিসংখ্যান
সাকিব আইপিএলে ২০১১ থেকে ২০২১ পর্যন্ত মোট ৭১ ম্যাচে খেলেছেন। এই সময়ে তার ব্যাটিং এবং বোলিং পারফরম্যান্স ছিল অসাধারণ।
| বিভাগ | রেকর্ড |
|---|---|
| ম্যাচ সংখ্যা | ৭১ |
| রান | ৭৯৩ |
| ব্যাটিং গড় | ১৯.৮২ |
| স্ট্রাইক রেট | ১২৪.৪৮ |
| উইকেট | ৬৩ |
| বোলিং ইকোনমি | ৭.৪৩ |
ব্যাট হাতে সাকিবের অবদান উল্লেখযোগ্য হলেও, তিনি বল হাতে আরও কার্যকর ছিলেন। মোট ৬৩টি উইকেট শিকার করে তিনি দলকে গুরুত্বপূর্ণ জয় এনে দিয়েছেন।
একাদশে অন্যান্য ক্রিকেটারদের অবস্থান
উইজডেনের একাদশে শ্রীলঙ্কার ক্রিকেটাররা আধিপত্য দেখিয়েছেন। ওপেনিংয়ে রয়েছেন সনাথ জয়াসুরিয়া, সাথে আছেন আফগান উইকেটরক্ষক ব্যাটার রহমানউল্লাহ গুরবাজ। তিন ও চারে অবস্থান পেয়েছেন দুই লঙ্কান কিংবদন্তি কুমার সাঙ্গাকারা ও মাহেলা জয়াবর্ধনে, যারা ২০০৮ থেকে ২০১৩ পর্যন্ত আইপিএলে খেলে অভিজ্ঞতা যোগ করেছেন।
সাকিব এই একাদশে পাঁচ নম্বরে ব্যাটিং করবেন। অলরাউন্ডার বিভাগে ছয় ও সাত নম্বরে রয়েছেন আজহার মেহমুদ ও থিসারা পেরেরা। পাকিস্তানি খেলোয়াড়দের আইপিএলে নিষেধাজ্ঞা থাকলেও আজহার যুক্তরাজ্যের পাসপোর্টে খেলেছেন। পেরেরা একাধিক দলের হয়ে খেলে শেষের দিকে ব্যাট হাতে দারুণ পারফরম্যান্স দেখিয়েছেন।
বোলিং একাদশ
সেরা একাদশের স্পিন আক্রমণে রয়েছেন মুত্তিয়া মুরালিধরন ও রশিদ খান, আর পেস আক্রমণে স্থান পেয়েছেন সোহেল তানভীর ও লাসিথ মালিঙ্গা। ২০০৮ সালের প্রথম আইপিএলে সর্বোচ্চ ২২ উইকেট শিকার করা তানভীর বিশেষভাবে আলোচনায় এসেছিলেন।
| পজিশন | ক্রিকেটার | দেশ |
|---|---|---|
| ওপেনার | সনাথ জয়াসুরিয়া | শ্রীলঙ্কা |
| ওপেনার | রহমানউল্লাহ গুরবাজ | আফগানিস্তান |
| তিন | কুমার সাঙ্গাকারা | শ্রীলঙ্কা |
| চার | মাহেলা জয়াবর্ধনে | শ্রীলঙ্কা |
| পাঁচ | সাকিব আল হাসান | বাংলাদেশ |
| ছয় | আজহার মেহমুদ | পাকিস্তান/যুক্তরাজ্য |
| সাত | থিসারা পেরেরা | শ্রীলঙ্কা |
| স্পিন | মুত্তিয়া মুরালিধরন | শ্রীলঙ্কা |
| স্পিন | রশিদ খান | আফগানিস্তান |
| পেস | সোহেল তানভীর | পাকিস্তান |
| পেস | লাসিথ মালিঙ্গা | শ্রীলঙ্কা |
উপসংহার
উইজডেনের এই স্বীকৃতি প্রমাণ করে, সাকিব আল হাসান কেবল বাংলাদেশের নয়, সমগ্র এশিয়ার এক বিশিষ্ট অলরাউন্ডার। ব্যাট-বোলিংয়ে সমান পারদর্শিতা এবং আইপিএলের বিভিন্ন দলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ অবদান তাকে সেরা একাদশে স্থান এনে দিয়েছে।
এই তালিকা আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে তার প্রতিভা ও ধারাবাহিকতা নিয়ে নতুন আলোচনার সূচনা করেছে। বিশেষ করে ক্রিকেট বিশ্লেষকরা তার ব্যাটিং দক্ষতা, বোলিং ভারসেটিলিটি এবং ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটের অভিজ্ঞতাকে বিশেষভাবে মূল্যায়ন করেছেন।
সাকিবের এই সাফল্য বাংলাদেশি ক্রিকেটপ্রেমীদের জন্য গর্বের বিষয়, যা নতুন প্রজন্মের ক্রিকেটারদের জন্য অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করবে।
