হবিগঞ্জ জেলা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সদস্য সচিব মাহদী হাসানকে ঘিরে দিনভর নাটকীয়তা ও উত্তেজনার পর নতুন বার্তা দিয়েছেন সংগঠনটির জেলা আহ্বায়ক আরিফ তালুকদার। শনিবার (৩ জানুয়ারি) গভীর রাতে হবিগঞ্জ সদর মডেল থানার সামনে অপেক্ষমাণ নেতা-কর্মীদের আশ্বস্ত করে তিনি বলেন, আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই রাতের মধ্যে মাহদীকে মুক্ত করে আনা হবে। তিনি কর্মীদের শান্ত থাকার অনুরোধ জানিয়ে বলেন, “আইনের প্রতি আমরা অত্যন্ত শ্রদ্ধাশীল। পুলিশ প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনার পর আমিসহ মাহদীকে আদালতে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। আমরা আশাবাদী যে দ্রুততম সময়ের মধ্যে তাকে জামিন করিয়ে আপনাদের মাঝে ফিরিয়ে আনব।”
আরিফ তালুকদারের এই বক্তব্যের সময় থানা চত্বরে এক আবেগঘন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। তিনি উপস্থিত শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বলেন, “আপনারা ধৈর্য ধরুন এবং ফুলের মালা নিয়ে প্রস্তুত থাকুন। আমরা মাহদীকে সাথে নিয়েই ফিরব।” তবে রাতবিরাতে আদালতের কার্যক্রম কিংবা জামিনের এই বিশেষ প্রক্রিয়া সম্পর্কে পুলিশের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। উল্লেখ্য যে, মাহদী হাসানের গ্রেপ্তারের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই হবিগঞ্জ সদর মডেল থানার সামনে কয়েকশ শিক্ষার্থী জড়ো হয়ে তার নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে বিক্ষোভ শুরু করেন।
এই পুরো ঘটনার নেপথ্যে রয়েছে গত শুক্রবার (২ জানুয়ারি) বিকেলের একটি বিতর্কিত ভিডিও। শায়েস্তাগঞ্জ থানার ওসির কক্ষে কথা বলার সময় মাহদী হাসান ‘বানিয়াচং থানা পুড়িয়ে দেওয়া’ এবং ‘পুলিশ সদস্যকে পুড়িয়ে মারা’ সংক্রান্ত অত্যন্ত স্পর্শকাতর ও হুমকিমূলক বক্তব্য দেন। সেই বক্তব্যের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত ভাইরাল হয়ে গেলে তা নিয়ে দেশজুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয়। এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে শনিবার দুপুরে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক শাহাদাত হোসেন স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে মাহদীকে সাংগঠনিকভাবে শোকজ করা হয় এবং তাকে তার আচরণের ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়।
ঘটনাপ্রবাহ ও আইনি পরিস্থিতির সংক্ষিপ্ত সারণি
| পর্যায় | সময় ও বিবরণ | বর্তমান স্থিতি |
| বিতর্কিত মন্তব্য | শুক্রবার বিকেল, শায়েস্তাগঞ্জ থানা। | ভিডিও ভাইরাল ও সমালোচনা। |
| সাংগঠনিক ব্যবস্থা | শনিবার দুপুর, কেন্দ্রীয় দপ্তর। | মাহদী হাসানকে শোকজ নোটিশ। |
| আটক অভিযান | শনিবার সন্ধ্যা, নিজ বাসভবন। | ডিবি পুলিশ কর্তৃক আটক ও থানায় হস্তান্তর। |
| ছাত্র বিক্ষোভ | শনিবার রাত ৮টা থেকে চলমান। | হবিগঞ্জ ও ঢাকায় (শাহবাগ) বিক্ষোভ। |
| মুক্তির প্রচেষ্টা | শনিবার গভীর রাত, সদর থানা ফটক। | আরিফ তালুকদারের জামিনের আশ্বাস। |
শনিবার সন্ধ্যার পর হবিগঞ্জ সদর উপজেলার ভাদৈ এলাকায় মাহদী হাসানের নিজ বাসা থেকে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) তাকে আটক করে। পরবর্তীতে তাকে সদর মডেল থানায় নিয়ে আসা হয়। হবিগঞ্জের পুলিশ সুপার মোছা. ইয়াছমিন খাতুন জানিয়েছেন, মাহদী হাসান বর্তমানে পুলিশি হেফাজতে রয়েছেন। তবে তাকে সুনির্দিষ্ট কোন মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে কি না, তা নিয়ে জেলা পুলিশ এখনও গোপনীয়তা বজায় রাখছে এবং বিস্তারিত পরে জানানো হবে বলে জানিয়েছে।
আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের একাংশের দাবি, প্রশাসনের ভেতরে থাকা বিগত সরকারের সুবিধাভোগী কিছু কর্মকর্তা জুলাই আন্দোলনের বিপ্লবীদের বিতর্কিত করতে পরিকল্পিতভাবে এই গ্রেপ্তারের ঘটনা ঘটিয়েছেন। তবে অন্য এক পক্ষ মনে করছে, মাহদীর বক্তব্যটি আইনত দণ্ডনীয় এবং এর সুষ্ঠু তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। সব মিলিয়ে মাহদী হাসানের মুক্তি বা জামিন পাওয়ার বিষয়টি এখন আইনি লড়াই এবং রাজপথের চাপের মুখে কোন দিকে মোড় নেয়, তাই এখন দেখার বিষয়।
