রাজধানীর অভিজাত এলাকা বসুন্ধরা আবাসিকে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ‘মব জাস্টিস’ বা গণপিটুনির শিকার হয়ে আইনজীবী নাঈম কিবরিয়া নিহতের ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত জোবায়ের হোসেন পাপ্পুকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। র্যাব-১-এর একটি বিশেষ দল গতকাল রোববার রাজধানীর বারিধারা এলাকা থেকে তাকে আটক করে। র্যাবের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদেই পাপ্পু আইনজীবী নাঈমকে পিটিয়ে হত্যার কথা স্বীকার করেছে।
ঘটনার বিবরণ থেকে জানা যায়, গত ৩১ ডিসেম্বর থার্টি ফার্স্ট নাইটের রাতে এই মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটে। নাঈম কিবরিয়া পেশাগত কাজের অবসরে রূপগঞ্জে তাঁর এক আত্মীয়ের বাসায় বেড়াতে গিয়েছিলেন। ঘটনার দিন রাতে তিনি একটি প্রাইভেটকার নিয়ে বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় ঘুরতে বের হন। পথিমধ্যে একটি মোটরসাইকেলের সাথে গাড়ির সামান্য ঘষা লাগাকে কেন্দ্র করে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে পাপ্পু ও তার সহযোগীরা উন্মত্ত হয়ে ওঠে। তারা নাঈমকে গাড়ি থেকে টেনে বের করে জনসম্মুখে অমানবিক নির্যাতন চালায়। পরবর্তীতে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। এই পৈশাচিক ঘটনায় ভাটারা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়।
আইনজীবী নাঈম কিবরিয়া হত্যাকাণ্ডের প্রধান তথ্যাবলি নিচের সারণিতে তুলে ধরা হলো:
নাঈম কিবরিয়া হত্যাকাণ্ড ও আইনি প্রক্রিয়ার সারসংক্ষেপ
| বিষয়ের বিবরণ | বিস্তারিত তথ্য |
| নিহত ব্যক্তি | নাঈম কিবরিয়া (পেশাজীবী আইনজীবী) |
| প্রধান অভিযুক্ত | জোবায়ের হোসেন পাপ্পু (গ্রেপ্তারকৃত) |
| ঘটনাস্থল ও সময় | বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা; ৩১ ডিসেম্বর রাত ৯টা |
| অভিযোগের ধরন | মব জাস্টিস বা পিটিয়ে হত্যা |
| আইনি পদক্ষেপ | র্যাব কর্তৃক প্রধান আসামি গ্রেপ্তার ও স্বীকারোক্তি |
| প্রতিবাদ কর্মসূচি | ঢাকা আইনজীবী সমিতির পক্ষ থেকে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ |
এদিকে, সহকর্মী নাঈম কিবরিয়াকে পিটিয়ে হত্যার প্রতিবাদে এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে রাজপথে নেমেছেন আইনজীবীরা। গতকাল পুরান ঢাকার ঢাকা আইনজীবী সমিতির সামনে সচেতন আইনজীবী সমাজের ব্যানারে আয়োজিত এক মানববন্ধনে বক্তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, তুচ্ছ ঘটনায় আইন নিজের হাতে তুলে নিয়ে একজন মেধাবী আইনজীবীকে হত্যা করা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। তাঁরা এই মামলার বিচার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে সম্পন্ন করার দাবি জানান।
র্যাব-১-এর বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, সিসিটিভি ফুটেজ ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে পাপ্পুর অবস্থান শনাক্ত করে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এই ঘটনার সাথে জড়িত অন্যান্য অভিযুক্তদের ধরতেও সাঁড়াশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে। রাজধানীর অন্যতম সুরক্ষিত এলাকায় এ ধরনের নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র নিরাপত্তা আতঙ্ক বিরাজ করছে। পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তারকৃত পাপ্পুকে আদালতে সোপর্দ করে অধিকতর জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ডের আবেদন জানানো হবে।
