নিউজিল্যান্ডের অধিনায়ক অ্যামেলিয়া কের আন্তর্জাতিক নারী টি-টোয়েন্টিতে এক নতুন ইতিহাস গড়েছেন। দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে চলমান সিরিজে তিনি টানা ১০ ইনিংসে ৩০ বা তার বেশি রান করেছেন, যা আগে কখনো কেউ করতে পারেননি। এই ধারাবাহিকতায় কেরের সংগ্রহ ৫৫৪ রান, স্ট্রাইকরেট ১৪২, এবং বল হাতে ১২ উইকেট অর্জন করেছেন, যেখানে ইকোনমি রেট মাত্র ৬.৭৪। ব্যাটিং ও বোলিং উভয় দিক থেকে কেরের এই পারফরম্যান্স তাকে বর্তমান সময়ের অন্যতম পূর্ণাঙ্গ অলরাউন্ডার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।
রোববার (২২ মার্চ) ওয়েলিংটনের চতুর্থ টি-টোয়েন্টিতে নিউজিল্যান্ড ৬ উইকেটে দক্ষিণ আফ্রিকাকে হারিয়ে সিরিজে ৩-১ ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করে। দক্ষিণ আফ্রিকা মেয়েরা ১৫৯ রানের লক্ষ্য স্থির করলে কিউই দলের ব্যাটসম্যানরা শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক খেলায় নামেন। সোফি ডিভাইন ৩৪ বলে ৬৪ রান করে দলের জয়কে নিশ্চিত করেন। অধিনায়ক কের নিজে ৩১ রান করেন, ফলে কিউইরা ৯ বল হাতে জয় নিশ্চিত করে।
কেরের অসাধারণ ফর্ম চলমান সিরিজের প্রতিটি ম্যাচে স্পষ্ট। সিরিজের প্রথম তিন ম্যাচে তার পারফরম্যান্সের সংক্ষিপ্ত বিবরণ নিম্নরূপ:
| ইনিংস | ম্যাচ স্থান | রান | বল | স্ট্রাইকরেট | উইকেট | ইকোনমি রেট |
|---|---|---|---|---|---|---|
| 1 | মাউন্ট মঙ্গানুই | 78 | 44 | 177 | 1 | 6.50 |
| 2 | হ্যামিল্টন | 32 | 18 | 178 | 2 | 6.20 |
| 3 | অকল্যান্ড | 30 | 28 | 107 | 1 | 7.00 |
| 4 | ওয়েলিংটন | 31 | 25 | 124 | 0 | 6.80 |
| 5–10 | বিভিন্ন স্থান | … | … | … | … | … |
এর আগে মেয়েদের আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে টানা ৯ ইনিংসে ৩০ বা বেশি রান করার রেকর্ড শ্রীলঙ্কার চামারি আতাপাত্তু এবং রোমানিয়ার রেবেকা ব্লেক-এর নামে ছিল। কের এই রেকর্ডকে ছাড়িয়ে এককভাবে নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছেন।
বিশ্ব ক্রিকেট বিশেষজ্ঞরা কেরের এই রেকর্ডকে ব্যাটিং দক্ষতা, মানসিক দৃঢ়তা, এবং ধারাবাহিক ফর্মের প্রতিফলন হিসেবে মূল্যায়ন করছেন। দীর্ঘ সময় ধরে টানা সফল ইনিংস খেলাটা কোনো ব্যাটসম্যানের জন্য চ্যালেঞ্জিং, এবং কের সেই চাপে নিজেকে প্রমাণ করেছেন।
এই ধারাবাহিকতা কেবল ব্যক্তিগত নয়; এটি নিউজিল্যান্ড দলের সমন্বয়, ঘরের মাঠের সুবিধা এবং নারী ক্রিকেটের ক্রমবর্ধমান প্রফেশনালিজমকেও প্রতিফলিত করে। কের অন্য খেলোয়াড়দেরও অনুপ্রাণিত করছেন এবং আন্তর্জাতিক নারী ক্রিকেটের মান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছেন।
সিরিজের শেষ ম্যাচেও যদি কের তার ধারাবাহিকতা বজায় রাখেন, তবে আন্তর্জাতিক নারী ক্রিকেটে আরও বড় নতুন রেকর্ডের সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে। তাঁর এই সাফল্য কেবল একটি ব্যক্তিগত অর্জন নয়, বরং দলগত সাফল্যেরও প্রতীক।
