বাংলাদেশ সরকার বৃহস্পতিবার ঘোষণা করেছে যে অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ আরশাদুর রউফকে অ্যাটর্নি জেনারেল পদের অতিরিক্ত দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছে। আইন মন্ত্রণালয়ের আইন ও বিচার বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়, যা অবিলম্বে কার্যকর হবে। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, রাষ্ট্রপতি এই পদসম্ভারের দায়িত্ব তাকে প্রদান করেছেন যাতে দেশের আইনগত কার্যক্রমে কোনও خلল না ঘটে।
এই পদোন্নতি আসে এমন একটি সময়ে যখন দেশের ১৭তম অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান ব্যক্তিগত কারণে পদত্যাগ করেছেন। জানা গেছে, তিনি গত ২৭ ডিসেম্বর রাষ্ট্রপতির কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন। এর আগে, ২০২৪ সালের ৫ নভেম্বর আসাদুজ্জামান ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঝিনাইদহ-১ (শৈলকুপা) আসন থেকে ভোটের জন্য মনোনয়নপত্র জমা দেন। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর ৮ আগস্ট তিনি অ্যাটর্নি জেনারেলের দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন।
বর্তমান পরিস্থিতিতে দেশের আইনি প্রক্রিয়া সুষ্ঠুভাবে চলমান রাখতে এবং অ্যাটর্নি জেনারেলের শূন্যস্থান পূরণ করতে মোহাম্মদ আরশাদুর রউফকে অতিরিক্ত দায়িত্ব প্রদান করা হলো।
এর আগে ২০২৪ সালের ১৩ আগস্ট মোহাম্মদ আরশাদুর রউফসহ আরও দুই জন আইনজীবীকে অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। তিনজনের নাম এবং নিয়োগের বিস্তারিত তথ্য নিম্নরূপ:
| নাম | পদবী | নিয়োগের তারিখ | দায়িত্বকাল | মন্তব্য |
|---|---|---|---|---|
| মোহাম্মদ আরশাদুর রউফ | অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল | ১৩ আগস্ট ২০২৪ | পুনরাদেশ না দেওয়া পর্যন্ত | বর্তমানে অ্যাটর্নি জেনারেলের অতিরিক্ত দায়িত্বে |
| মুহাম্মদ আবদুল জব্বার ভূঞা | অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল | ১৩ আগস্ট ২০২৪ | পুনরাদেশ না দেওয়া পর্যন্ত | নিয়মিত দায়িত্ব পালন |
| মোহাম্মদ অনীক রুশদ হক | অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল | ১৩ আগস্ট ২০২৪ | পুনরাদেশ না দেওয়া পর্যন্ত | নিয়মিত দায়িত্ব পালন |
আইন বিশেষজ্ঞরা মন্তব্য করেছেন যে এই পদক্ষেপ দেশের আইনি স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ। অ্যাটর্নি জেনারেল দেশের প্রধান আইনজীবী হিসেবে সরকার ও আদালতের মধ্যে সমন্বয় রক্ষা করেন। আরশাদুর রউফের দায়িত্ব গ্রহণের ফলে এই সমন্বয় অব্যাহত থাকবে এবং সরকারের আইনগত কার্যক্রমে কোনও ব্যাঘাত ঘটবে না।
অতिरिक्त দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে মোহাম্মদ আরশাদুর রউফকে দেশের গুরুত্বপূর্ণ মামলা, সরকারি নথি এবং বিচার বিভাগের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সমন্বয় বজায় রাখতে হবে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই দায়িত্বের মাধ্যমে তিনি দেশের আইনি নীতিমালা এবং সরকারের আইনগত সিদ্ধান্তের ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করবেন।
এই নিয়োগ সরকারের প্রতি নাগরিকদের আস্থা বজায় রাখতে এবং দেশের আইনি কাঠামো শক্তিশালী করতে সহায়ক হবে। দেশের আইন প্রশাসনে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
