অস্ত্রশস্ত্র পুলিশ ছদ্মবেশে শিশুদের উপর হামলা করে ডাকাতি

ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার বজ্রপুর ও ভালাইপুর গ্রামে গতকাল ভোর রাতে ভয়াবহ ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয়দের মতে, ডাকাতরা পুলিশের পোশাক পরে গ্রামে প্রবেশ করে এবং শিশুদের অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে। এই ঘটনায় দুই পরিবার উল্লেখযোগ্য পরিমাণ টাকা ও স্বর্ণালঙ্কার হারিয়েছে।

কোটচাঁদপুর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সায়েম ইউসুফ জানিয়েছেন, বজ্রপুর গ্রামের আবুল হোসেনের বাড়িতে চার থেকে পাঁচজন ডাকাত প্রবেশ করে। তারা আবুল হোসেনের নাতনিকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে এবং পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের আলাদা কক্ষে আটক করে রাখে। প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে ডাকাতরা নগদ প্রায় ৮ লাখ টাকা এবং ৩ ভরি স্বর্ণালঙ্কার লুট করে।

ডাকাতরা পালানোর সময় আবুল হোসেনের পরিবারের চিৎকারে স্থানীয়রা তাদের একজনকে ধরে গণপিটুনি দেয়। পরে তাকে পুলিশ হেফাজতে হস্তান্তর করা হয়।

একই রাতে ভালাইপুর গ্রামের কামাল হোসেনের বাড়িতেও একটি ডাকাতির ঘটনা ঘটে। সেখানে ডাকাতরা কামাল হোসেনের মেয়েকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে নগদ ২ লাখ ৮০ হাজার টাকা এবং ২ ভরি স্বর্ণালঙ্কার ছিনিয়ে নেয়। এই ঘটনায় পুলিশ সন্দেহভাজন একজনকে আটক করেছে। তবে তদন্তের স্বার্থে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা সম্ভব হচ্ছে না।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সায়েম ইউসুফ বলেন, “দুইটি ঘটনার মধ্যে কি সংযোগ আছে তা অনুসন্ধান করা হচ্ছে। আমরা স্থানীয়দের নিরাপত্তার বিষয়ে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিচ্ছি। বিশেষ করে রাতে কারো অচেনা লোকের সঙ্গে যোগাযোগ এড়িয়ে চলতে হবে।”

নিচের টেবিলে এই দুই ঘটনায় লুট হওয়া সম্পদের পরিমাণ ও ধরন সংক্ষেপে দেখানো হলো:

গ্রাম/পরিবারডাকাত সংখ্যালুট হওয়া নগদ টাকালুট হওয়া স্বর্ণালঙ্কারআক্রান্ত সদস্য
বজ্রপুর, আবুল হোসেন৪–৫৮,০০,০০০ টাকা৩ ভরিনাতনি সহ পরিবারের সদস্যরা
ভালাইপুর, কামাল হোসেনঅজানা২,৮০,০০০ টাকা২ ভরিকন্যা সহ পরিবারের সদস্যরা

স্থানীয়রা এই ঘটনা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। বিশেষ করে শিশুদের উপর এই ধরনের হামলা গ্রামে সাধারণ মানুষকে আতঙ্কিত করেছে। পুলিশ ইতোমধ্যেই অভিযান শুরু করেছে এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িত মূল ডাকাতদের ধরার চেষ্টা চলছে।

এই ধরনের ছদ্মবেশী ডাকাতি প্রতিরোধে প্রশাসনের পাশাপাশি স্থানীয় জনগণকেও সতর্ক থাকা জরুরি।