অস্ট্রেলিয়ার পূর্ব উপকূলে মঙ্গলবার গ্রীষ্মমন্ডলীয় ঘূর্ণিঝড় আলফ্রেড আঘাত হেনেছে। গত ৫০ বছরে এই অঞ্চলে এটি প্রথম বড় ধরনের ঘূর্ণিঝড় বলে ধারণা করা হচ্ছে। বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদন অনুযায়ী, ঘূর্ণিঝড়টি দেশটির জনবহুল উপকূলীয় এলাকাগুলোর একটির ওপর প্রভাব ফেলেছে।
Table of Contents
অস্ট্রেলিয়ার পূর্ব উপকূলে ঘূর্ণিঝড় আলফ্রেডের আঘাত
ঘূর্ণিঝড়ের অবস্থান ও গতিপথ
আলফ্রেড ঘূর্ণিঝড়টি ব্রিসবেন থেকে প্রায় ৫৫০ কিলোমিটার পূর্বে সমুদ্রে ঘুরপাক খাচ্ছিল এবং দিনের শেষের দিকে মূল ভূখণ্ডের দিকে এগিয়ে যায়।
আবহাওয়া বিশেষজ্ঞ ডিন ন্যারামোর পূর্বাভাস দিয়েছেন যে ঝড়টি বৃহস্পতিবার রাত বা শুক্রবার ভোরের দিকে ব্রিসবেন ও সানশাইন উপকূলের মধ্যবর্তী অঞ্চলে আঘাত হানতে পারে।
৫০ বছরে প্রথম শক্তিশালী ঝড়
ন্যারামোর জানান, ১৯৭৪ সালের পর এটি প্রথম গ্রীষ্মমন্ডলীয় ঘূর্ণিঝড় যা এই অঞ্চলে আঘাত হানছে। যদিও এটি রেকর্ডভাঙা নয়, তবে এত দক্ষিণে ঘূর্ণিঝড়ের উপস্থিতি অবশ্যই অস্বাভাবিক।
ব্রিসবেন ও সানশাইন উপকূল সংযোগকারী ১০০ কিলোমিটার দীর্ঘ এই অঞ্চলে প্রায় ৩০ লাখ মানুষ বাস করে। এই অঞ্চলটি এর মনোরম আবহাওয়া ও সোনালি সৈকতের জন্য পরিচিত।
প্রভাব ও সতর্কতা
কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ব্রিসবেনের দক্ষিণে নিউ সাউথ ওয়েলসের বন্যাপ্রবণ উত্তরাঞ্চলীয় নদী অঞ্চলও ঝড়ের প্রভাব অনুভব করবে।
জলবায়ু গবেষক টম মর্টলক বলেন, অস্বাভাবিকভাবে উষ্ণ সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা ঝড়ের শক্তি বাড়াচ্ছে। তিনি আরও বলেন, “ঘূর্ণিঝড় আলফ্রেড আমাদের মনে করিয়ে দিচ্ছে যে গ্রীষ্মমন্ডলীয় ঝড় এখন আরও দক্ষিণে অগ্রসর হতে পারে।”
সরকার ও স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জনগণকে সতর্ক থাকতে এবং প্রয়োজনীয় সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছে।
