অস্ট্রেলিয়ায় নিরাপত্তা আশ্রয়ে ইরানি নারী ফুটবলার পাঁচজন

অস্ট্রেলিয়ায় অনুষ্ঠিত উইমেন’স এশিয়ান কাপ শেষে নিরাপত্তা শঙ্কার কারণে ইরানের নারী ফুটবল দলের পাঁচজন খেলোয়াড় বর্তমানে একটি ‘নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্র’-এ অবস্থান করছেন। টুর্নামেন্টের গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে ফিলিপাইনের কাছে হারের পর দলটির স্বাভাবিক দেশে প্রত্যাবর্তন স্থগিত করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক ক্রীড়া মহলে খেলোয়াড়দের নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক নিপীড়ন নিয়ে ব্যাপক উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে।

এই পদক্ষেপটি আসে এমন এক প্রেক্ষাপটে, যখন দলের প্রথম ম্যাচে দক্ষিণ কোরিয়ার বিপক্ষে জাতীয় সঙ্গীত না গাওয়ার কারণে ইরানের রক্ষণশীল মহলে বিতর্কের সৃষ্টি হয়। দেশটির টেলিভিশনের একজন প্রভাবশালী উপস্থাপক খেলোয়াড়দের ‘যুদ্ধকালীন বিশ্বাসঘাতক’ হিসেবে অভিহিত করে তাদের কঠোর শাস্তির দাবি জানান। এর ফলে খেলোয়াড়দের দেশে ফিরে যাওয়া ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে।

গত রোববার গোল্ড কোস্টের স্টেডিয়াম থেকে দলের বাস বের হওয়ার সময় কয়েকশ সমর্থক ‘আমাদের মেয়েদের বাঁচাও’ স্লোগান দিয়ে টিম বাস ঘিরে ধরেন। টিম হোটেলের ভিতরেও কয়েকদিন ধরে উদ্বেগজনক পরিস্থিতি তৈরি হয়। কয়েকজন খেলোয়াড় হোটেল লবি থেকে বের হয়ে অ্যাক্টিভিস্টদের সঙ্গে কথা বলায় দলের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

ফিফপ্রোর এশিয়া ও ওশেনিয়া অঞ্চলের সভাপতি বিউ বুশ সিডনিতে এক সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছেন, দলের মধ্যে এমন কিছু খেলোয়াড় থাকতে পারেন যারা রাজনৈতিক আশ্রয় চান অথবা আরও কিছুদিন অস্ট্রেলিয়ায় থাকতে ইচ্ছুক। বর্তমান উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে তাদের জোর করে দেশে পাঠানো ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।

টুর্নামেন্টের পরবর্তী ম্যাচগুলোতে দলটি জাতীয় সঙ্গীত গেয়ে ও স্যালুট করেছে, যা নতুন বিতর্ক সৃষ্টি করেছে। ধারণা করা হচ্ছে, দলের সঙ্গে থাকা ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের সদস্যরা খেলোয়াড়দের উপর চাপ প্রয়োগ করে জাতীয় সঙ্গীত ও স্যালুট করতে বাধ্য করেছেন।

এই সংকটে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সরাসরি হস্তক্ষেপ করেছেন। তিনি এক বিবৃতিতে বলেছেন, ইরান দলকে জোরপূর্বক দেশে ফেরত পাঠানো হলে এটি একটি ‘ভয়াবহ মানবিক ভুল’ হবে এবং খেলোয়াড়দের প্রাণহানির আশঙ্কা রয়েছে। তিনি অস্ট্রেলীয় সরকারের প্রতি তাদের নিরাপত্তার জন্য আশ্রয় দেওয়ার আহ্বান জানান এবং অস্ট্রেলিয়া রাজি না হলে যুক্তরাষ্ট্র তাদের আশ্রয় দেবে বলে মন্তব্য করেন। উল্লেখ্য, ইরান ও ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সাম্প্রতিক ক্ষেপণাস্ত্র উত্তেজনার কারণে মধ্যপ্রাচ্যের আকাশসীমা কার্যত বন্ধ রয়েছে, যা খেলোয়াড়দের প্রত্যাবর্তন আরও জটিল করেছে।

সংক্ষিপ্ত তথ্য নিচের টেবিলে তুলে ধরা হলো—

বিষয়তথ্য
দলইরান নারী ফুটবল দল
নিরাপত্তা আশ্রয়ে থাকা খেলোয়াড় সংখ্যা৫ জন
উদ্বেগের মূল কারণজাতীয় সঙ্গীত না গাওয়া ও দেশে সম্ভাব্য নিপীড়ন
আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়ামার্কিন প্রেসিডেন্ট হস্তক্ষেপ, ফিফপ্রো উদ্বেগ প্রকাশ
সংঘর্ষিত স্থানঅস্ট্রেলিয়া, গোল্ড কোস্ট
হোটেলের পরিস্থিতিখেলোয়াড়রা আতঙ্কে হোটেল লবি ত্যাগ করেছেন
টুর্নামেন্ট অবস্থাউইমেন’স এশিয়ান কাপ, গ্রুপ পর্ব শেষ
সম্ভাব্য রাজনৈতিক চাপইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের প্রভাব

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, খেলোয়াড়দের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত না হলে আন্তর্জাতিক ক্রীড়া মঞ্চে মানবাধিকারের গুরুতর উদ্বেগ সৃষ্টি হবে। পাশাপাশি, এটি নারী খেলোয়াড়দের স্বতন্ত্র অধিকার এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সক্রিয় পদক্ষেপের প্রয়োজনীয়তা পুনর্ব্যক্ত করেছে।