অর্থ আত্মসাৎ ও চাঁদাবাজি মামলায় এনসিপি নেতা কারাগারে

বগুড়ায় জাতীয় নাগরিক পার্টির এক জেলা পর্যায়ের নেতাকে অর্থ আত্মসাৎ ও চাঁদাবাজির একটি দীর্ঘদিনের মামলায় গ্রেপ্তারের পর কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। অভিযুক্ত মিজানুর রহমান সাগর দলটির জেলা কমিটির যুগ্ম সদস্যসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা জানান, শুক্রবার রাত প্রায় সাড়ে দশটার দিকে বগুড়া শহরের জেলেশ্বরীতলা কালীমন্দির এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরদিন শনিবার দুপুরে তাকে আদালতে হাজির করা হলে বিচারক পরবর্তী শুনানি না হওয়া পর্যন্ত তাকে কারাগারে প্রেরণের আদেশ দেন।

ঘটনার পটভূমি

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০১৪ সালের ৩০ আগস্ট রাতে সরকারি আজিজুল হক কলেজের সামনে চা পান করছিলেন রুবেল প্রামাণিক। অভিযোগ অনুযায়ী, সে সময় মিজানুর রহমান সাগর আরও চার থেকে পাঁচজন সহযোগীকে নিয়ে মোটরসাইকেলে সেখানে উপস্থিত হন। পরে তাকে জোরপূর্বক কলেজ মিলনায়তনের পেছনের নির্জন স্থানে নিয়ে গিয়ে শারীরিক নির্যাতন করা হয় এবং দুই লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়।

অভিযোগে বলা হয়েছে, দাবিকৃত অর্থ দিতে অস্বীকৃতি জানালে লোহার রড ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে তাকে আহত করা হয়। একপর্যায়ে তার হিসাব থেকে মোট ৫১ হাজার ১০০ টাকা জোরপূর্বক তুলে নেওয়া হয়। এর মধ্যে ২৮ হাজার ৩০০ টাকা মোবাইলভিত্তিক আর্থিক সেবা হিসাব থেকে এবং ২২ হাজার ৮০০ টাকা ব্যাংক হিসাব থেকে নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।

নিচে মামলার গুরুত্বপূর্ণ তথ্যসমূহ সারণিতে উপস্থাপন করা হলো—

বিষয়বিবরণ
ঘটনার তারিখ৩০ আগস্ট ২০১৪
অভিযোগকারীরুবেল প্রামাণিক
অভিযুক্তমিজানুর রহমান সাগর ও ৪–৫ জন
অভিযোগের ধরনঅপহরণ, মারধর, চাঁদাবাজি, অর্থ আত্মসাৎ
দাবি করা অর্থ২,০০,০০০ টাকা
জোরপূর্বক নেওয়া অর্থ৫১,১০০ টাকা
গ্রেপ্তারের তারিখ২০ ফেব্রুয়ারি (রাত)
কারাগারে প্রেরণ২১ ফেব্রুয়ারি (দুপুর)

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোস্তাফা মনজুর জানান, অভিযুক্ত দীর্ঘদিন ধরে পলাতক ছিলেন এবং তার বিরুদ্ধে আদালতের গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি ছিল। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়েছে। তিনি আরও বলেন, এ ঘটনাটি একটি ব্যবসায়িক বিরোধ থেকে সহিংসতায় রূপ নেয় বলে প্রাথমিক তদন্তে ধারণা পাওয়া গেছে।

এদিকে জেলা সভাপতি প্রকৌশলী এস এম এ মাহমুদ বলেন, সাগর জেলা পর্যায়ে সাংগঠনিক পদে থাকলেও কেন্দ্রীয় পর্যায়ে তার কোনো দায়িত্ব ছিল না। তিনি দাবি করেন, গত বছরের ৩০ অক্টোবর মামলাটি দায়ের করা হয় এবং ১ ডিসেম্বর তাকে জেলা কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। অভিযোগের বিষয়ে পূর্বে অবগত ছিলেন না বলেও জানান তিনি।

দলীয় নেতৃত্ব জানিয়েছে, অভিযোগ প্রমাণিত হলে সাংগঠনিক বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মামলার পরবর্তী শুনানিতে তদন্ত অগ্রগতির ভিত্তিতে আদালত পরবর্তী সিদ্ধান্ত দেবেন বলে জানা গেছে।