ভারতের জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী অরিজিৎ সিং সম্প্রতি ঘোষণা দিয়েছেন যে তিনি প্লেব্যাক সিঙ্গার হিসেবে আর নতুন কোনো কাজ নেবেন না। এই ঘোষণার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভক্তদের মধ্যে বিস্ময় ও উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। তবে গায়ক স্পষ্ট করেছেন, সংগীতচর্চা থেকে তিনি সরে যাচ্ছেন না; শুধুমাত্র চলচ্চিত্রের প্লেব্যাক গান থেকে বিরতি নিচ্ছেন।
প্রজাতন্ত্র দিবসে মুক্তিপ্রাপ্ত নতুন সিনেমার গান প্রকাশের পর অরিজিৎ তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে লিখেছেন,
“প্লেব্যাক ভোকালিস্ট হিসেবে আর কোনো নতুন কাজ নেব না। এখানেই এটি বন্ধ করছি। গোটা যাত্রাটা ছিল অসাধারণ।”
পোস্টে তিনি আরও যোগ করেছেন,
“ঈশ্বরের অসীম কৃপা ছিল আমার ওপর। আমি ভালো সংগীতের একজন অনুরাগী। ভবিষ্যতে আরও শিখব, একজন সামান্য শিল্পী হিসেবেই সংগীতসাধনা চালিয়ে যাব। পাশে থাকার জন্য ধন্যবাদ।”
তিনি পরবর্তীতে এক্সে (সাবেক টুইটার) প্রকাশিত পোস্টে জানিয়েছিলেন যে হাতে থাকা কাজগুলো তিনি শেষ করবেন। তাঁর কথায়,
“এই বছর কিছু রিলিজ পাবেন। তবে এরপর নতুন প্লেব্যাক কাজের দিকে নজর দেওয়া হবে না।”
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভক্তদের প্রতিক্রিয়া অত্যন্ত আবেগঘন। একজন লিখেছেন,
“টেস্ট ক্রিকেটে বিরাট কোহলির অবসরের মতোই আমি আঘাত পেয়েছি।”
অরিজিৎ সিং বিভিন্ন ঘরানার গানেই সাবলীলতার সঙ্গে নিজেকে উপস্থাপন করেছেন—প্রেমের গান, মন খারাপের সুর, নাচের গান বা ভক্তিগীতি। এই কারণে তার প্লেব্যাক থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত ভক্তদের মধ্যে উৎকণ্ঠা সৃষ্টি করেছে।
| তথ্যবলী | বিবরণ |
|---|---|
| জন্মস্থান | জিয়াগঞ্জ, মুর্শিদাবাদ, পশ্চিমবঙ্গ |
| বয়স | ৩৮ বছর |
| প্রথম সিনেমায় প্লেব্যাক | ২০১১, “মার্ডার ২” (‘ফির মহব্বত’) |
| প্রথম বড় হিট | ২০১৩, “আশিকি ২” (‘তুম হি হো’) |
| জাতীয় পুরস্কার | ১টি (সেরা গায়ক) |
| ফিল্মফেয়ার পুরস্কার | ৩টি (বিভিন্ন শ্রেণি) |
| রিয়েলিটি শো অংশগ্রহণ | ২০০৫, ‘ফেম গুরুকুল’ (ষষ্ঠ স্থান) |
অরিজিতের সংগীতযাত্রা সহজ ছিল না। ২০০৫ সালে ‘ফেম গুরুকুল’ রিয়েলিটি শোতে অংশ নিয়েছিলেন, তবে সেরা পাঁচের মধ্যে জায়গা করতে পারেননি। পরে তিনি আরেকটি প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন হয়ে নজরে আসেন। ২০০৭ সালে সঞ্জয় লীলা বানসালির “সাওয়ারিয়া” সিনেমার জন্য গান রেকর্ড করলেও তা সিনেমায় ব্যবহার হয়নি। ২০১১ সালের “মার্ডার ২”–এর গান ‘ফির মহব্বত’ দিয়ে তিনি সিনেমা জগতে অভিষেক করেন।
ভক্তদের জন্য আনন্দের বিষয় হলো, অরিজিতের সংগীতচর্চা থেমে যাচ্ছে না; তিনি কেবল প্লেব্যাকের পথ পরিবর্তন করছেন। সংগীতের প্রতি তার ভালোবাসা এবং নতুন অধ্যায়ের সম্ভাবনা আরও বিস্তৃত।
পরিশেষে, প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে—এ কি স্থায়ী প্লেব্যাক অবসর, নাকি নতুন সৃজনশীল অধ্যায়ের সূচনা? আপাতত, অরিজিতের বার্তা স্পষ্ট: গান থেমে যাবে না, পথই বদলাবে।
