অভিষেক বচ্চন বলিউডে পা রেখেছেন ২৫ বছর আগে। বয়স এখন পঞ্চাশ, কিন্তু আজও তাঁকে ঘিরে প্রধান আলোচনা হয় তাঁর পারিবারিক পরিচয় নিয়ে—“অমিতাভ বচ্চনের ছেলে” এবং “ঐশ্বরিয়া রাই বচ্চনের স্বামী”। বহু বছর ধরেই এই পরিচয় তাঁর পেশাগত ও ব্যক্তিগত জীবনের সঙ্গে যুক্ত। অনেকে মনে করেন, এই দুই সুপারস্টারের ছায়া থেকে তিনি বেরোতে পারেননি।
তবে অভিষেক নিজে এই তুলনাকে অন্যভাবে দেখেন। এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, “বাবার সঙ্গে তুলনা হওয়া মানে সেরার সঙ্গে তুলনা হওয়া। তবে সেখানেই নিজের সক্ষমতা খুঁজে পাওয়া সম্ভব।”
২০০০ সালে ‘রিফিউজি’ ছবির মাধ্যমে বলিউডে অভিষেকের যাত্রা শুরু। এরপরের পথ সবসময় মসৃণ ছিল না; সাফল্য আর ব্যর্থতা মিশ্রিতভাবে তাঁর কেরিয়ারের অংশ। তবে কিছু নির্দিষ্ট ছবি আছে, যেখানে তিনি অভিনয়ের মাধ্যমে নিজেকে নীরবে প্রমাণ করেছেন। সমালোচক এবং অনুরাগীরা মনে করেন, অভিষেককে বুঝতে হলে এই ছবিগুলি অবশ্যই দেখা প্রয়োজন।
| ছবি | বছর | চরিত্র | বিশেষত্ব |
|---|---|---|---|
| যুবা | ২০০৪ | লল্লন সিংহ | কলকাতার বস্তির হিংস্র যুবকের চরিত্রে অভিনয়; কেরিয়ারের টার্নিং পয়েন্ট |
| গুরু | ২০০৭ | গুরুকান্ত দেসাই | উচ্চাকাঙ্ক্ষা ও বুদ্ধিমত্তার মেলবন্ধন; শিল্পপতির উত্থান গল্পে অভিনয় দক্ষতা প্রদর্শন |
| দসবি | ২০২২ | গঙ্গারাম চৌধুরী | জাট রাজনীতিবিদ, শারীরিক ও মানসিক রূপান্তর; সংযত অভিনয় |
| আই ওয়ান্ট টু টক | ২০২৪ | অর্জুন সেন | সিঙ্গল ফাদারের ভূমিকায় চুপচাপ, ভেতরের যন্ত্রণার প্রকাশ |
| কালিধর লাপতা | ২০২৫ | কালিধর | মধ্যবয়সি চরিত্রে দায়িত্ব, ত্যাগ, স্মৃতিভ্রমের সংবেদনশীল চিত্রায়ণ |
চরিত্র নির্বাচনের দিক থেকে অভিষেকের ভিন্নতা
যুগের সঙ্গে বদলে যাওয়া সমাজ, রাজনীতি এবং পারিবারিক দায়িত্বের চিত্রায়ণে অভিষেক নিয়মিত চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করেছেন। ‘দসবি’তে জেলবন্দি নেতার চরিত্রে অভিনয় থেকে শুরু করে ‘আই ওয়ান্ট টু টক’-এ একাকী বাবার যন্ত্রণা, ‘কালিধর লাপতা’-তে মধ্যবয়সের দায়বোধ—প্রতিটি চরিত্রে তিনি স্বতন্ত্রতা প্রমাণ করেছেন।
অভিষেক বচ্চনের কেরিয়ার এই সত্যটি স্পষ্ট করে যে, বড় তারকার সন্তান হওয়া যেমন সুবিধা দেয়, তেমনই উচ্চ প্রত্যাশার চাপও নিয়ে আসে। তিনি কখনও এই চাপের বিরুদ্ধে সরবভাবে প্রতিক্রিয়া দেখাননি, তবে অভিনয়ের মাধ্যমে বারবার প্রমাণ করেছেন যে, তিনি কেবল একটি নাম নন—একজন পরিপক্ক ও সংবেদনশীল অভিনেতাও।
আজ অভিষেক বচ্চন শুধু “কেউর ছেলে বা স্বামী” নন, বরং নিজস্ব পরিচয়, নিজের অভিনয় ক্ষমতা এবং অনন্য চরিত্রায়নের জন্য দর্শক ও সমালোচকদের কাছে সমাদৃত।
