নারায়ণগঞ্জ শহরে পূর্বঘোষিত উচ্ছেদ অভিযানের আগেই অধিকাংশ ভাসমান হকার স্বেচ্ছায় ফুটপাত ও সড়ক ছেড়ে সরে যাওয়ায় দীর্ঘদিন পর শহরের প্রধান সড়কগুলোতে স্বাভাবিক চলাচল ফিরে এসেছে। এতে পথচারী ও যানবাহন চলাচলে স্বস্তির পরিবেশ তৈরি হয়েছে এবং জনমনে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে।
সোমবার সকালে শহরের চাষাড়া, কালিরবাজার, বঙ্গবন্ধু সড়কসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় দেখা যায়, ফুটপাত ও সড়কের পাশে আগের মতো অস্থায়ী দোকান, ভ্রাম্যমাণ স্টল বা টংঘর নেই। ফলে হাঁটার জন্য পর্যাপ্ত জায়গা তৈরি হয়েছে এবং যানবাহন চলাচলও তুলনামূলকভাবে শৃঙ্খলিত হয়েছে।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে ফুটপাত দখলমুক্ত করার ঘোষণা আসার পর থেকেই হকারদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়। সম্ভাব্য উচ্ছেদ অভিযান, জরিমানা এবং মালামাল হারানোর আশঙ্কায় অনেক হকার রবিবার রাত থেকেই নিজ উদ্যোগে দোকানপাট সরিয়ে নেন। কেউ কাঠামো খুলে নিয়ে যান, আবার কেউ মালামাল অন্যত্র স্থানান্তর করেন।
পথচারীরা জানান, দীর্ঘদিন পর তারা নির্বিঘ্নে হাঁটতে পারছেন। বিশেষ করে চাষাড়া এলাকায় প্রতিদিনের যানজট ও ভোগান্তি অনেকটাই কমেছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, আগে ফুটপাত সম্পূর্ণ দখল থাকায় হাঁটার জায়গা পাওয়া কঠিন ছিল, কিন্তু এখন পরিস্থিতি অনেকটাই স্বাভাবিক।
অন্যদিকে হকারদের একটি অংশ জানিয়েছেন, ফুটপাতই তাদের জীবিকার প্রধান উৎস। পুনর্বাসনের কোনো নির্দিষ্ট ও সুস্পষ্ট পরিকল্পনা না থাকায় তারা ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তায় রয়েছেন। তবে প্রশাসনের পক্ষ থেকে পুনর্বাসনের উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে তারা বিকল্পভাবে জীবিকা চালিয়ে যাওয়ার আশা প্রকাশ করেছেন।
নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান জানিয়েছেন, শহরের প্রধান সড়ক বঙ্গবন্ধু সড়কে কোনোভাবেই হকার বসতে দেওয়া হবে না। একই সঙ্গে মানবিক বিবেচনায় হকারদের পুনর্বাসনের উদ্যোগ নেওয়া হবে এবং স্থানীয়দের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।
শহরের বিভিন্ন এলাকার পরিবর্তিত পরিস্থিতি নিচের তথ্যছকে তুলে ধরা হলো—
তথ্যছক
| এলাকা | পূর্ববর্তী অবস্থা | বর্তমান অবস্থা | পরিবর্তনের প্রভাব |
|---|---|---|---|
| চাষাড়া | ফুটপাত সম্পূর্ণ দখল | প্রায় সম্পূর্ণ খালি | পথচারীদের চলাচলে স্বাচ্ছন্দ্য বৃদ্ধি |
| বঙ্গবন্ধু সড়ক | অবৈধ দোকান ও ভিড় | হকারমুক্ত | যান চলাচল স্বাভাবিক হয়েছে |
| কালিরবাজার | আংশিক দখল ও ভিড় | অধিকাংশ এলাকা ফাঁকা | জনচাপ কমেছে |
| আশপাশের এলাকা | অস্থায়ী দোকানের ছড়াছড়ি | নিয়ন্ত্রিত ও পরিষ্কার | পরিবেশের উন্নতি হয়েছে |
সার্বিকভাবে, অভিযানের আগেই হকারদের সরে যাওয়া শহরের চেহারায় দ্রুত পরিবর্তন এনেছে। প্রশাসনের কঠোর অবস্থান, পুনর্বাসনের আশ্বাস এবং সম্ভাব্য উচ্ছেদের আশঙ্কা—সব মিলিয়ে ফুটপাতমুক্ত নারায়ণগঞ্জে নতুন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। তবে এই পরিবর্তন কতটা দীর্ঘস্থায়ী হবে, তা নির্ভর করছে পুনর্বাসন পরিকল্পনার বাস্তবায়ন এবং নিয়মিত নজরদারির ওপর।
