যুক্তরাজ্যের অভিবাসন নীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তনের আভাস মিলছে। লেবার সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই অবৈধ অভিবাসন এবং আশ্রয়প্রার্থীদের প্রতি কঠোর অবস্থান নিয়ে ধারাবাহিক বার্তা দিয়ে আসছে। এবার সেই কঠোরতার পরিধি বাড়িয়ে ব্রিটেন ডেনমার্কের অনুসরণে একটি বিতর্কিত নীতি প্রবর্তনের পথে এগোচ্ছে। এই নীতি অনুযায়ী, এসাইলাম পেয়ে ভিসার নির্দিষ্ট মেয়াদ শেষে আর কেউ স্থায়ী হতে পারবেন না—বরং তাদের অবশ্যই নিজ দেশে ফিরে যেতে হবে।
ডেনমার্কে চালু থাকা এই নীতি ইউরোপের সবচেয়ে কঠোর অভিবাসন ব্যবস্থার উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত। সেখানে শরণার্থীদের সর্বোচ্চ দুই বছরের অস্থায়ী বসবাসের অনুমতি দেওয়া হয়। মেয়াদ শেষে পুনরায় আবেদন করতে হয়, এবং নাগরিকত্বের পথে বিভিন্ন বাধা থাকে। শাবানা মাহমুদ মনে করেন, ডেনিশ সোশ্যাল ডেমোক্র্যাট সরকারের এই কঠোরতা ডানপন্থী উত্থান প্রতিহত করতে কার্যকর ভূমিকা রেখেছে। সেই যুক্তিতে তিনি ব্রিটেনেও অনুরূপ নীতি প্রয়োগ করতে চান।
বর্তমানে যুক্তরাজ্যে আশ্রয় পাওয়া ব্যক্তিরা পাঁচ বছর পর স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদন করতে পারেন। নতুন নীতি বাস্তবায়িত হলে এই সুবিধা সম্পূর্ণভাবে রহিত হবে। ফলে ইতোমধ্যে এসাইলাম পাওয়া হাজার হাজার অভিবাসী ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বিগ্ন। আইনজীবীরা বলছেন, নতুন আইন কার্যকর হওয়ার পর যাদের এসাইলাম মঞ্জুর হবে, তারাই প্রধানত এই নীতির আওতায় পড়বেন।
এই নীতিকে ঘিরে লেবার পার্টির ভেতরেই বড় ধরনের বিরোধ দেখা দিয়েছে। এমপি ক্লাইভ লুইস দাবি করেছেন, এই পথ “ডানপন্থী উত্তেজনা”কে আরও বাড়িয়ে দেবে। এমপি নাদিয়া হুইটম বলেছেন, এটি “নৈতিক ও রাজনৈতিকভাবে বিপর্যয় ডেকে আনবে”। তবে মাহমুদ স্পষ্ট করে বলেছেন—এই নীতি গ্রহণ না করলে সামনে আরও কঠোর ব্যবস্থা আসবে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও অভিযোগ করেন, আদালতের কিছু ‘অ্যাকটিভিস্ট’ বিচারক পরিবারিক জীবনের অধিকারকে অগ্রাধিকার দিয়ে বহিষ্কার কার্যক্রমে বাধা সৃষ্টি করছেন। তিনি সংসদে এ বিষয়ে কঠোর অবস্থান ঘোষণা করবেন।
এদিকে রিফর্ম ইউকে দাবি করছে, যেসব মানুষ ছোট নৌকায় ব্রিটেনে পৌঁছায়, তাদের অস্থায়ী মর্যাদা নয়—সরাসরি আটক ও বহিষ্কার করাই হবে কার্যকর সমাধান। কনজারভেটিভ পার্টি বলছে, লেবার সরকার বাতিল করা রুয়ান্ডা নীতিই ছিল একমাত্র টেকসই সমাধান।
যদিও অনেকের মতে নতুন নীতি মানবিকতার বিরুদ্ধে, হোম সেক্রেটারি বিশ্বাস করেন যে ডেনমার্কের মতো কঠোর পদ্ধতি গ্রহণ করতে পারলে শুধু সীমান্তই নয়—সামগ্রিক রাজনৈতিক স্থিতিও পুনর্গঠিত হবে এবং জনগণের আস্থা ফিরে আসবে।
