ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) নগরের দেওয়ালসহ বিভিন্ন স্থানে অনুমোদনবিহীন ব্যানার, ফেস্টুন ও সাইনবোর্ড অপসারণের নির্দেশ জারি করেছে। এই নির্দেশনা মঙ্গলবার (২ নভেম্বর) ডিএসসিসি’র গণবিজ্ঞপ্তি মাধ্যমে জানানো হয়েছে।
গণবিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, ডিএসসিসি এলাকার বিভিন্ন স্থানে সম্প্রতি করপোরেশনের অনুমোদন ছাড়া ব্যানার, ফেস্টুন, পোস্টার এবং ব্যক্তি মালিকানাধীন স্থাপনায় বিজ্ঞাপন ও নির্বাচনি প্রচারণার প্রচারপত্র স্থাপন করা হয়েছে। এটি ‘দেওয়াল লিখন ও পোস্টার লাগানো (নিয়ন্ত্রণ) আইন, ২০১২’ এর বিধানের পরিপন্থী।
ডিএসসিসি জানিয়েছে, একটি পরিষ্কার, স্বচ্ছ এবং সুন্দর নগরী গড়ার উদ্দেশ্যে সকল অনুমতিবিহীন ব্যানার, ফেস্টুন, পোস্টার, বিজ্ঞাপন, সাইনবোর্ড এবং নির্বাচনি প্রচারপত্র ইত্যাদি সংশ্লিষ্ট সংগঠন, ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে নিজ উদ্যোগে সরানোর জন্য অনুরোধ করা হলো। নির্দেশনা অমান্য করলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এই পদক্ষেপটি আসলে ঢাকা শহরে অব্যাহত ‘পোস্টার-ব্যানার সমস্যার’ ধারাবাহিকতা।
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| নির্দেশ জারি তারিখ | ২ নভেম্বর ২০২৫ |
| সংশ্লিষ্ট সংস্থা | ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) |
| প্রযোজ্য আইন | দেওয়াল লিখন ও পোস্টার লাগানো (নিয়ন্ত্রণ) আইন, ২০১২ |
| অপসারণের লক্ষ্য | অনুমতিবিহীন ব্যানার, ফেস্টুন, পোস্টার, বিজ্ঞাপন ও নির্বাচনি প্রচারণার প্রচারপত্র সরানো |
| সতর্কবার্তা | অমান্য করলে সংশ্লিষ্ট সংগঠন/ব্যক্তি/প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে |
| পূর্ববর্তী পদক্ষেপ | ১৬ নভেম্বর ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসসি) একই বিষয়ে সাত দিনের মধ্যে অপসারণের নির্দেশ জারি করেছে |
বিশেষভাবে উল্লেখ্য, ১৬ নভেম্বর একটি গণমাধ্যমে প্রকাশিত ‘ঢাকা এখন পোস্টার-ব্যানারের নগরী’ শিরোনামের প্রতিবেদনটি নগরের ব্যানার ও পোস্টারের অসংযমিত ব্যবস্থাকে তুলে ধরেছিল। সেই প্রতিবেদনের ঠিক দুদিন পর, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসসি) তাদের এলাকায় অবৈধভাবে লাগানো ব্যানার, ফেস্টুন ও পোস্টার অপসারণের জন্য সাত দিনের সময়সীমা দিয়েছিল। ডিএসসিসির নতুন পদক্ষেপ এই ধারাবাহিকতায় নেওয়া হলো।
ডিএসিসি সূত্র জানিয়েছে, নগরীর প্রধান সড়ক, জনবহুল এলাকা ও সরকারি স্থাপনার চারপাশে অনুমোদনবিহীন ব্যানার ও ফেস্টুন অপসারণে তারা নিয়মিত অভিযান চালাবে। এছাড়া, নির্বাচনকালীন প্রচারণার সময়ও এ ধরনের নিয়মের কঠোর বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা হবে।
স্থানীয়রা এই পদক্ষেপকে নগর পরিচ্ছন্নতা ও সুন্দর নগরীর জন্য ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। তবে কিছু ব্যবসায়ী ও রাজনৈতিক দল নির্দেশনার প্রভাব নিয়ে উদ্বিগ্ন, কারণ তারা জানান, অনুমোদন ছাড়া প্রচারণা ও বিজ্ঞাপন সরানোতে ব্যবসায়িক ও রাজনৈতিক কার্যক্রমে প্রভাব পড়তে পারে।
