অবৈধ পথে ভারতে যেতে গিয়ে চারজন আটক

চাঁপাইনবাবগঞ্জের সীমান্ত এলাকা দিয়ে অবৈধভাবে ভারতে যাওয়ার চেষ্টাকালে মানবপাচারকারীসহ চার যুবককে আটক করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদার ও মানবপাচার রোধে ধারাবাহিক অভিযানের অংশ হিসেবে এই আটক কার্যক্রম পরিচালিত হয়।

বুধবার (১৪ জানুয়ারি) সন্ধ্যা আনুমানিক ৭টার দিকে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার বকচর সীমান্ত এলাকা থেকে তাদের আটক করা হয়। বিজিবি সূত্র জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বকচর সীমান্তের শূন্যরেখা থেকে প্রায় ২০০ গজ বাংলাদেশের অভ্যন্তরে একটি গ্রামে বিশেষ অভিযান চালানো হয়। অভিযানের সময় মানবপাচার চক্রের এক সক্রিয় সদস্যসহ তিন বাংলাদেশি যুবককে আটক করা সম্ভব হয়।

চাঁপাইনবাবগঞ্জে দায়িত্বরত ৫৩ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল কাজী মুস্তাফিজুর রহমান গণমাধ্যমে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, আটক মানবপাচারকারীর নাম মো. শাহিন। তিনি সদর উপজেলার বকচর গ্রামের এবাদুল ইসলামের ছেলে এবং দীর্ঘদিন ধরে সীমান্তবর্তী এলাকায় অবৈধভাবে মানুষ পারাপারের সঙ্গে জড়িত বলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে।

আটক অন্য তিনজন হলেন—চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার চাঁদপুর লহলামারির মো. মিজানুর রহমান, রাজশাহী মহানগরীর আসাম কলোনির শফিকুল ইসলাম মুন্না এবং রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলার দুর্গাপুর গ্রামের মো. তারাজুল ইসলাম। তারা সবাই কাজের সন্ধানে ভারতের চেন্নাই শহরে যাওয়ার পরিকল্পনা করছিলেন বলে বিজিবিকে জানিয়েছেন।

বিজিবি সূত্রে আরও জানা যায়, আটক যুবকদের ভারতের চেন্নাইয়ে রাজমিস্ত্রির কাজ দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে সীমান্ত পার করানোর চেষ্টা করা হচ্ছিল। এজন্য মানবপাচারকারী মো. শাহিন জনপ্রতি নির্দিষ্ট অঙ্কের অর্থ গ্রহণের পরিকল্পনা করেছিলেন। অবৈধ পথে সীমান্ত পার হওয়ার ঝুঁকি ও সম্ভাব্য মানবিক বিপর্যয়ের কথা বিবেচনায় নিয়ে বিজিবি দ্রুত অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করে।

বিজিবি অধিনায়ক বলেন, “মানবপাচার একটি গুরুতর অপরাধ। সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে মানুষ পাচার রোধে বিজিবি সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। এ ধরনের চক্রের বিরুদ্ধে আমাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে।”

আটক চারজনের প্রাথমিক আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন শেষে তাদের চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মানবপাচার দমন আইন অনুযায়ী মামলার প্রস্তুতি চলছে।

নিচের টেবিলে আটক ব্যক্তিদের সংক্ষিপ্ত পরিচয় তুলে ধরা হলো:

ক্রমনামঠিকানাভূমিকা
মো. শাহিনবকচর, চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদরমানবপাচারকারী
মো. মিজানুর রহমানশিবগঞ্জ, চাঁপাইনবাবগঞ্জপাচারের শিকার
শফিকুল ইসলাম মুন্নাআসাম কলোনি, রাজশাহীপাচারের শিকার
মো. তারাজুল ইসলামমিঠাপুকুর, রংপুরপাচারের শিকার

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, সীমান্ত এলাকায় সচেতনতা বৃদ্ধি ও কঠোর নজরদারি জোরদার করা গেলে মানবপাচার কার্যক্রম আরও কার্যকরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে।