দীর্ঘ ১৭ বছরের প্রবাসজীবন শেষে দেশে ফিরে অবশেষে হাসপাতালে অসুস্থ মায়ের পাশে দাঁড়ালেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। বৃহস্পতিবার (২৫ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে পৌঁছে তিনি মা বেগম খালেদা জিয়ার খোঁজখবর নেন। এ দৃশ্য ঘিরে দলীয় নেতাকর্মী ও সমর্থকদের মধ্যে আবেগঘন মুহূর্তের সৃষ্টি হয়।
রাজধানীর জুলাই ৩৬ এক্সপ্রেসওয়ে (৩০০ ফিট) এলাকায় আয়োজিত গণসংবর্ধনা অনুষ্ঠান শেষে সন্ধ্যার দিকে তারেক রহমান হাসপাতালের উদ্দেশে রওনা দেন। তবে পথে বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মীর উপস্থিতির কারণে তার গাড়ি হাসপাতালে পৌঁছাতে কিছুটা বিলম্ব হয়। সড়কের দুই পাশে হাজারো নেতাকর্মী প্রিয় নেতাকে একনজর দেখার জন্য অপেক্ষা করছিলেন। তারেক রহমানও গাড়ির ভেতর থেকে এবং নামার পর হাত নেড়ে তাদের ভালোবাসার জবাব দেন।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, সন্ধ্যা ৫টা ৫০ মিনিটে তারেক রহমানকে বহনকারী লাল-সবুজ রঙের গাড়িটি এভারকেয়ার হাসপাতালের গেটে এসে পৌঁছায়। এরপর ৫টা ৫৪ মিনিটে তিনি হাসপাতালের ভেতরে প্রবেশ করেন। গাড়ি থেকে নেমে দলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে হেঁটে তিনি হাসপাতালে ঢোকেন। প্রবেশের আগে কয়েক দফা থেমে থেমে হাসপাতালের সীমানার ফাঁক দিয়ে নেতাকর্মীদের সঙ্গে হাত মেলান, যা উপস্থিতদের আবেগ আরও বাড়িয়ে তোলে।
হাসপাতালে তারেক রহমানের সঙ্গে ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ, ব্যক্তিগত চিকিৎসক ও দলীয় নেতা এ জেড এম জাহিদ হোসেনসহ দলের শীর্ষ পর্যায়ের নেতারা।
এর আগে বৃহস্পতিবার সকালে তারেক রহমানের বহনকারী বিমানটি সকাল ১০টায় সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। দীর্ঘদিন পর দেশের মাটিতে পা রাখার আগে তিনি তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক আবেগঘন বার্তায় লেখেন—
“দীর্ঘ ৬ হাজার ৩১৪ দিন পর বাংলাদেশের আকাশে ”
জানা যায়, বাংলাদেশ সময় বুধবার দিবাগত রাত ১২টা ১৫ মিনিটে তিনি লন্ডনের হিথ্রো বিমানবন্দর থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হন। তার আগে একই দিন রাত ৮টা ১৫ মিনিটে লন্ডনের নিজ বাসা ত্যাগ করেন। সফরে তার সঙ্গে ছিলেন স্ত্রী ডা. জোবাইদা রহমান ও কন্যা জাইমা রহমান।
গুরুত্বপূর্ণ সময়সূচি এক নজরে :
| বিষয় | সময় ও তথ্য |
| লন্ডন থেকে যাত্রা | রাত ১২:১৫ (বাংলাদেশ সময়) |
| সিলেট বিমানবন্দরে অবতরণ | সকাল ১০:০০ |
| এভারকেয়ার হাসপাতালের গেটে পৌঁছানো | সন্ধ্যা ৫:৫০ |
| হাসপাতালে প্রবেশ | সন্ধ্যা ৫:৫৪ |
| প্রবাসজীবনের সময়কাল | ১৭ বছর (৬,৩১৪ দিন) |
দীর্ঘ সময় পর দেশে ফিরে মায়ের পাশে দাঁড়ানো তারেক রহমানের এই উপস্থিতিকে রাজনৈতিক অঙ্গনের পাশাপাশি সাধারণ মানুষও দেখছেন এক মানবিক ও আবেগঘন মুহূর্ত হিসেবে। নেতাকর্মীদের চোখে-মুখে ছিল আনন্দ, প্রত্যাশা আর ভালোবাসার প্রকাশ—যা রাজধানীর রাজপথ থেকে হাসপাতাল চত্বর পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ে।
