বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন সম্প্রতি এক আলোচিত মন্তব্যে জানিয়েছেন যে, অন্তর্বর্তী সরকার গুরুত্বপূর্ণ একটি চুক্তি তার সঙ্গে জানানোর মধ্যে সম্পূর্ণ অবহেলা করেছে। রাষ্ট্রপতি বলছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে স্বাক্ষরিত এই চুক্তি সম্পর্কে তাকে কোনও তথ্য দেওয়া হয়নি, যা সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির জানার অধিকার লঙ্ঘন করে।
রাষ্টপতি এক সাক্ষাৎকারে বলেন,
“আমাকে কোনো কিছুই জানানো হয়নি। রাষ্ট্রীয় এই ধরনের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আমাকে অবশ্যই জানানো উচিত ছিল। অতীতের সকল সরকার, ছোট বা বড় বিষয়ে, রাষ্ট্রপতিকে সবসময় অবহিত করত। এটি সংবিধান অনুযায়ী অবশ্যকীয়। কিন্তু মধ্যবর্তী সরকার সম্পূর্ণ অবহেলা করেছে।”
রাষ্ট্রপতির মূল অভিযোগ
মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন উল্লেখ করেছেন যে, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে তাকে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের বাইরে রাখা হয়েছিল। তিনি বলেন, তিনি যিনি প্রধান উপদেষ্টা নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু করেছিলেন, সেই প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে কোনও সমন্বয় ছিল না। তিনি আরও বলেন,
“যিনি আমার মাধ্যমে প্রধান উপদেষ্টা নিযুক্ত হয়েছেন, তিনি একবারও আমার সঙ্গে পরামর্শ করেননি।”
রাষ্টপতির অভিযোগগুলোর সারসংক্ষেপ নিম্নরূপ:
| বিষয় | অভিযোগের বিবরণ |
|---|---|
| বৈদেশিক সফর | দুটি নির্ধারিত বিদেশ সফর ব্যর্থভাবে বন্ধ করা হয়েছে, কোনও ব্যাখ্যা নেই |
| অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ | বিশ্ববিদ্যালয় কনভোকেশন ও অন্যান্য সরকারি অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের অনুমতি দেওয়া হয়নি |
| হাইকমিশনে ছবি | সকল বিদেশে হাইকমিশনে রাষ্ট্রপতির ছবি রাতারাতি সরানো হয়েছে |
| প্রেস উইং | প্রেস উইং এর সমর্থন প্রত্যাহার করা হয়েছে, রাষ্ট্রপতির ছবি ও বার্তা জাতীয় দিবস প্রকাশনা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে |
রাষ্টপতি আরও উল্লেখ করেছেন যে, সাধারণ প্রোটোকল অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির উপস্থিতি থাকা প্রয়োজন এমন অনুষ্ঠানগুলিতে তার অংশগ্রহণ জানবহিষ্কৃত করা হয়েছে। তিনি বলেছেন, এটি প্রতিষ্ঠিত প্রথার অবমাননা এবং পদবীর প্রতীকী গুরুত্ব হ্রাসের সমতুল্য।
রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া ও প্রভাব
রাষ্ট্রপতির এই মন্তব্য বাংলাদেশের রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি করেছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, মধ্যবর্তী সরকারের কার্যপ্রণালী এবং সংবিধানিক দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে। এক্ষেত্রে সরকার ও রাষ্ট্রপতির মধ্যে তথ্য আদান-প্রদানের স্বচ্ছতা ও সমন্বয় ব্যবস্থার প্রতি জনগণের আস্থা ক্ষুণ্ন হতে পারে।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা বলছেন, এই বিতর্ক রাষ্ট্রপতি ও সরকারের মধ্যে পরামর্শ ও সমন্বয় ব্যবস্থা পুনর্বল করার প্রয়োজনীয়তা প্রমাণ করেছে। মধ্যবর্তী সরকারের নীতি এবং রাষ্ট্রপতির সংবিধানিক ভূমিকা নিয়ে আলোচনা আরও তীব্র হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
বর্তমানে রাজনৈতিক অঙ্গনে এই ঘটনা procedural transparency, institutional respect এবং শাসনব্যবস্থার মানদণ্ড নিয়ে নতুন বিতর্ক সৃষ্টি করেছে, যার প্রভাব ভবিষ্যতের প্রশাসনিক সম্পর্ক ও নীতিনির্ধারণ প্রক্রিয়ার ওপর পড়তে পারে।
মোটকথা, রাষ্ট্রপতির অভিযোগ এবং মধ্যবর্তী সরকারের কার্যক্রমের মধ্যে বিরোধ বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও সংবিধানিক প্রেক্ষাপটে নতুন দ্বন্দ্বের সূচনা করেছে।
