অন্তর্বর্তী সরকারের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে দায়ের করা লিভ টু আপিলের শুনানি বুধবার (৩ ডিসেম্বর) শেষ হয়েছে। প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমদের নেতৃত্বে আপিল বিভাগের ৭ সদস্যের বেঞ্চ আগামীকাল এ বিষয়ে আদেশ দেবেন।
শুনানিতে অংশ নেন অ্যাটর্নি জেনারেল, অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্ট আইনজীবী। রাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকর্তা বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের বৈধতা নিয়ে দায়েরকৃত রিটটি ভুল ধারণা থেকে করা হয়েছে।
রিটের পক্ষে যুক্তি
রিটের পক্ষে যুক্তি উপস্থাপনকারী আইনজীবীরা বলেন, গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে গঠিত সরকারের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা উপযুক্ত নয়। তারা বলেন, “যে সরকার শপথ গ্রহণ করেছে এবং সুপ্রিম কোর্ট পুনর্গঠন করেছে, সেই আদালতেই সরকারের বৈধতা নিয়ে বিতর্ক করা স্ববিরোধী।”
রিটে উল্লেখ করা হয়, ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের সময় তৎকালীন প্রধান বিচারপতি ও আপিল বিভাগের বিচারপতিরা ক্যান্টনমেন্টে অবস্থান করায় সংবিধানের ধারা ১০৬ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির রেফারেন্সে সরকার গঠনের বিষয়ে মতামত দিতে পারেননি। ফলে বর্তমান সরকারের শপথ গ্রহণ ও গঠন প্রক্রিয়া বৈধ নয় বলে রিটে দাবি করা হয়।
পূর্বের কার্যক্রম
এই রিটটি দায়ের করেছিলেন সিনিয়র আইনজীবী মহসিন রশিদ, গত বছরের ডিসেম্বর মাসে। পরবর্তীতে হাইকোর্ট রিটটি খারিজ করে দেয়। এবার লিভ টু আপিলে শীর্ষ আদালতে এই বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের জন্য শুনানি অনুষ্ঠিত হলো।
বিচারপতির বেঞ্চ ও ভবিষ্যৎ পদক্ষেপ
প্রধান বিচারপতি: সৈয়দ রেফাত আহমদ
বেঞ্চের সদস্য সংখ্যা: ৭
আদেশের সম্ভাব্য সময়: আগামীকাল
গুরুত্বপূর্ণ বিষয়: অন্তর্বর্তী সরকারের বৈধতা ও সংবিধান অনুযায়ী শপথ প্রক্রিয়া
আইন বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই আপিলের চূড়ান্ত আদেশ রাজনৈতিক ও সংবিধানগত প্রভাব রাখতে পারে। যদি আদালত অন্তর্বর্তী সরকারের বৈধতা স্বীকৃতি প্রদান করে, তাহলে দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় থাকবে। অন্যদিকে, রিটের পক্ষে আদেশ হলে সংবিধান ও সরকারী গঠনের প্রক্রিয়ায় নতুন বিতর্ক সৃষ্টি হতে পারে।
