অনুষ্ঠানে দাওয়াত না পেয়ে খেলনা পিস্তল দিয়ে ভয় দেখিয়ে যুবক আটক

বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলার বেজোড়া দক্ষিণ পাড়ায় আয়োজিত একটি ক্রিকেট টুর্নামেন্টে দাওয়াত না পাওয়ায় ক্ষুব্ধ হয়ে হামলার চেষ্টা ও আতঙ্ক তৈরির অভিযোগে ফেরদৌস কবির সনি (২৬) নামে এক যুবককে আটক করেছে পুলিশ। ঘটনাস্থল থেকে একটি পিস্তল সদৃশ বস্তু জব্দ করা হলেও পরে সেটি খেলনা পিস্তল বলে নিশ্চিত করা হয়। ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।

কৈগাড়ি পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক আবু সুফিয়ান মঙ্গলবার (৯ ডিসেম্বর) দুপুরে সংবাদমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, সোমবার গভীর রাতে, রাত সোয়া ১২টার দিকে স্থানীয় বাসিন্দাদের হাত থেকে অভিযুক্ত সনিকে উদ্ধার করে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়।

স্থানীয় সূত্রের বরাতে জানা যায়, বেজোড়া যুব সংঘ নামের একটি সংগঠন স্থানীয় তরুণদের অংশগ্রহণে ক্রিকেট টুর্নামেন্টের আয়োজন করে। কিন্তু এই আয়োজনের দাওয়াত না পেয়ে ফেরদৌস কবির সনি ক্ষোভে ফেটে পড়েন। প্রতিবেশীদের মতে, অনুষ্ঠানস্থলে গিয়ে তিনি প্রথমে সাউন্ড সিস্টেম ভাঙচুরের চেষ্টা করেন। উপস্থিত কয়েকজন যুবক বাধা দিলে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পরে তিনি বাড়ি গিয়ে একটি পিস্তল সদৃশ বস্তু হাতে নিয়ে আবারও টুর্নামেন্টস্থলে ফেরেন এবং উপস্থিত লোকজনকে ভয়ভীতি দেখাতে শুরু করেন।

এ সময় স্থানীয়রা তাকে ঘিরে ফেলেন এবং তার কার্যকলাপ আরও বিপজ্জনক পর্যায়ে যাওয়ার আগেই তাকে ধরে ফেলেন। পরে এলাকাবাসী দ্রুত পুলিশে খবর দেন। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে সনিকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায় এবং পিস্তল সদৃশ বস্তুটি জব্দ করে।

পরে পুলিশি পরীক্ষা-নিরীক্ষায় দেখা যায়, উদ্ধার করা অস্ত্রটি আসলে একটি খেলনা পিস্তল—যা দেখতে বাস্তব পিস্তলের মতো হলেও কোনো ক্ষতিকর ব্যবহারযোগ্য নয়। পুলিশ জানায়, আতঙ্কজনক পরিস্থিতি তৈরি হওয়ায় দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল, যাতে কোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা না ঘটে।

নিচে ঘটনাটির গুরুত্বপূর্ণ তথ্য-উপাত্ত তুলে ধরা হলো:

পুলিশ জানায়, সনির আচরণে অনুষ্ঠানস্থলে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছিল। তাই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে দ্রুত অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়। বর্তমানে তার বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়ার প্রস্তুতি চলছে। এদিকে স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সামান্য বিষয় নিয়ে এমন আচরণ অগ্রহণযোগ্য, এবং ভবিষ্যতে এমন পরিস্থিতি এড়াতে কঠোর নজরদারি প্রয়োজন।

কৈগাড়ি পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক আবু সুফিয়ান বলেন, উদ্ধার করা পিস্তলটি খেলনা হওয়ায় কোনো বড় বিপদের আশঙ্কা ছিল না, কিন্তু ঘটনাস্থলে তিনি যে আতঙ্ক তৈরির চেষ্টা করেছিলেন তা অপরাধই থেকে যায়। পরিস্থিতি শান্ত রাখতে ও জননিরাপত্তা বজায় রাখতে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।