দেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় পরিবর্তিত বৈশ্বিক পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে সশরীর ক্লাসের পাশাপাশি অনলাইন বা ব্লেন্ডেড (মিশ্র) শিক্ষাব্যবস্থা চালুর বিষয়টি সক্রিয়ভাবে বিবেচনা করছে সরকার। জ্বালানি–সংকটসহ বিভিন্ন বৈশ্বিক অনিশ্চয়তার কারণে মহানগর এলাকার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে (বিশ্ববিদ্যালয় ছাড়া) এই নতুন পদ্ধতি চালুর প্রস্তাব আসতে যাচ্ছে মন্ত্রিসভায়।
মঙ্গলবার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন জানান, বর্তমান বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের প্রভাব বাংলাদেশেও পড়েছে। এই পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে, ফলে শিক্ষা কার্যক্রম স্বাভাবিকভাবে পরিচালনায় বিকল্প পথ খোঁজা হচ্ছে। তিনি বলেন, সরকার অনলাইন শিক্ষা কার্যক্রমকে উৎসাহিত করার বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করছে এবং একই সঙ্গে সশরীর উপস্থিতির শিক্ষার ভারসাম্য বজায় রাখার দিকেও নজর দিচ্ছে।
শিক্ষামন্ত্রী আরও জানান, একটি জরিপে দেখা গেছে প্রায় ৫৫ শতাংশ অংশীজন অনলাইন শিক্ষার পক্ষে মত দিয়েছেন। তবে সম্পূর্ণ অনলাইন পদ্ধতিতে গেলে শিক্ষার্থীদের সামাজিক ও মানসিক বিকাশে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে কি না, সেটিও বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে। তাই সরকার পুরোপুরি অনলাইন নয়, বরং মিশ্র পদ্ধতির দিকে অগ্রসর হতে চাচ্ছে।
তিনি বলেন, পবিত্র রমজান মাস, বিভিন্ন আন্দোলন এবং অন্যান্য কারণে ইতোমধ্যে কিছু ক্লাস ব্যাহত হয়েছে। এ কারণে শিক্ষা কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখতে সপ্তাহে ছয় দিন ক্লাস চালু করার পাশাপাশি আগামী ১০টি শনিবারও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা রাখা হয়েছে। এর মধ্যেই জ্বালানি সংকটের বিষয়টি নতুন করে বিবেচনায় আসায় অনলাইন ও সশরীর শিক্ষার সমন্বিত পদ্ধতি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে।
মন্ত্রী স্পষ্ট করেন, এখনো চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। শিক্ষা মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে একটি প্রস্তাব তৈরি করছে, যা আগামী বৃহস্পতিবার মন্ত্রিসভার বৈঠকে উপস্থাপন করা হবে। মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্তের ভিত্তিতেই পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
বিশেষ করে মহানগর এলাকার স্কুল ও কলেজগুলোতে (বিশ্ববিদ্যালয় ছাড়া) এই পদ্ধতি চালুর বিষয়টি বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে বলে জানান তিনি। সরকার চায় যাতে শিক্ষার ধারাবাহিকতা বজায় থাকে, আবার একই সঙ্গে জ্বালানি ব্যবহারের চাপও কমানো যায়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ব্লেন্ডেড লার্নিং বা মিশ্র শিক্ষা ব্যবস্থা আধুনিক শিক্ষাব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ ধারা, যেখানে অনলাইন প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে পাঠদান এবং শ্রেণিকক্ষে সরাসরি শিক্ষাদান—উভয়ই সমন্বিতভাবে পরিচালিত হয়। এতে শিক্ষার্থীরা নমনীয়ভাবে পাঠ গ্রহণের সুযোগ পায়, তবে এর জন্য প্রয়োজন পর্যাপ্ত প্রযুক্তি অবকাঠামো ও দক্ষ শিক্ষক।
সরকারের আলোচনায় থাকা সম্ভাব্য মিশ্র শিক্ষাব্যবস্থার একটি ধারণা নিচে উপস্থাপন করা হলো—
| বিষয় | সম্ভাব্য ব্যবস্থা |
|---|---|
| সশরীর ক্লাস | সপ্তাহে নির্দিষ্ট কয়েক দিন শ্রেণিকক্ষে উপস্থিতি |
| অনলাইন ক্লাস | নির্ধারিত দিন বা প্রয়োজন অনুযায়ী ভার্চুয়াল পাঠদান |
| লক্ষ্য | জ্বালানি সাশ্রয় ও শিক্ষা কার্যক্রম অব্যাহত রাখা |
| প্রযোজ্য ক্ষেত্র | মহানগর এলাকার স্কুল ও কলেজ (বিশ্ববিদ্যালয় বাদে) |
| সিদ্ধান্ত প্রক্রিয়া | শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাব ও মন্ত্রিসভার অনুমোদন |
এদিকে, রোজা ও ঈদ মিলিয়ে দীর্ঘ ৪০ দিনের ছুটির পর গত রোববার দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো পুনরায় চালু হয়েছে। তবে ক্লাস শুরুর পরপরই জ্বালানি সংকট ও বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার বিষয়টি শিক্ষা কার্যক্রম পরিকল্পনায় নতুন করে গুরুত্ব পাচ্ছে।
সব মিলিয়ে, আগামী মন্ত্রিসভার বৈঠকে শিক্ষা খাতে অনলাইন ও সশরীর শিক্ষার সমন্বিত মডেল নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
