পাকিস্তানের বিপক্ষে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ সামনে রেখে বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের প্রস্তুতি এখন শেষ পর্যায়ে। সিরিজের প্রথম ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হবে আগামীকাল মিরপুরের শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে, শুরু হবে দুপুর ২টা ১৫ মিনিটে। এই সিরিজকে সামনে রেখে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশের অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে কথা বলেছেন। তবে আলোচনার কেন্দ্রে ছিল তাঁর নেতৃত্ব, দলের ভবিষ্যৎ এবং সামনে থাকা বড় লক্ষ্য—বিশ্বকাপে সরাসরি জায়গা নিশ্চিত করা।
চলতি বছরে ওয়ানডে ক্রিকেটে বাংলাদেশের জন্য নতুন এক অধ্যায় শুরু হতে যাচ্ছে। ঘরের মাঠ ও বিদেশ মিলিয়ে এ বছর এই সংস্করণে মোট ২২টি ম্যাচ খেলবে বাংলাদেশ দল। এই ম্যাচগুলোর ফলাফলই মূলত নির্ধারণ করবে আইসিসি ওয়ানডে বিশ্বকাপের মূল পর্বে বাংলাদেশের সরাসরি অংশগ্রহণের সম্ভাবনা। বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী, র্যাঙ্কিংয়ে শীর্ষ নয়টি দল সরাসরি বিশ্বকাপে খেলার সুযোগ পায়। ফলে বাংলাদেশের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে এই তালিকায় নিজেদের অবস্থান শক্ত করা।
সংবাদ সম্মেলনে অধিনায়কত্ব নিয়ে প্রশ্নের মুখে পড়েন মিরাজ। তাঁর নেতৃত্বের দর্শন, ব্যক্তিগত পারফরম্যান্স এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়েও জানতে চান সাংবাদিকেরা। তবে এসব প্রসঙ্গে খুব বেশি দূরের কথা ভাবতে রাজি নন এই অলরাউন্ডার। তাঁর অধিনায়কত্বের মেয়াদ আপাতত আগামী জুন পর্যন্ত। তাই তিনি এখন পুরো মনোযোগ দিতে চান বর্তমান দায়িত্বের দিকেই।
মিরাজ বলেন, একটি দলকে গড়ে তুলতে হলে অধিনায়ককে সময় দেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাঁর মতে, নেতৃত্বের দায়িত্ব যাঁকেই দেওয়া হোক না কেন, পর্যাপ্ত সময় পেলে তিনি দলকে পরিকল্পিতভাবে গড়ে তুলতে পারেন। তিনি বলেন,
“আমার মনে হয়, যাঁকেই অধিনায়ক করা হোক, তাঁকে যদি সময় দেওয়া হয়, তাহলে দলকে ভালোভাবে তৈরি করা সম্ভব। ভবিষ্যৎ নিয়ে সিদ্ধান্ত অবশ্যই ক্রিকেট বোর্ড নেবে। আমাকে যত দিন দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, তত দিন আমি চেষ্টা করব দলকে ভালো জায়গায় নিয়ে যেতে।”
অধিনায়ক হিসেবে ওয়ানডে ক্রিকেটে মিরাজের পরিসংখ্যান এখনো খুব উজ্জ্বল নয়। তিনি এখন পর্যন্ত ১৩টি ম্যাচে দলকে নেতৃত্ব দিয়েছেন, যার মধ্যে জয় এসেছে মাত্র তিনটিতে। তবে এই তিন জয়ের দুটি এসেছে সাম্প্রতিক ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজে। সেই সাফল্য থেকেই নতুন করে অনুপ্রেরণা খুঁজছেন তিনি।
নিচে অধিনায়ক হিসেবে মিরাজের ওয়ানডে পরিসংখ্যানের একটি সংক্ষিপ্ত চিত্র তুলে ধরা হলো—
| বিষয় | পরিসংখ্যান |
|---|---|
| নেতৃত্ব দেওয়া ম্যাচ | ১৩ |
| জয় | ৩ |
| হার | ১০ |
| সাম্প্রতিক সিরিজ জয় | ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে |
গত বছর বাংলাদেশের ক্রিকেট ক্যালেন্ডারে টি–টোয়েন্টি ম্যাচের সংখ্যাই ছিল বেশি। ফলে ওয়ানডে ক্রিকেটে ধারাবাহিকতা তৈরি করা কঠিন হয়ে পড়েছিল দলের জন্য। এর মধ্যে শ্রীলঙ্কার মাটিতে ওয়ানডে সিরিজ হার এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতে আফগানিস্তানের কাছে হোয়াইটওয়াশ হওয়া দলের আত্মবিশ্বাসে কিছুটা ধাক্কাও দেয়।
তবে নতুন বছরে নতুন সূচনার প্রত্যাশা করছেন মিরাজ। তাঁর মতে, দলে প্রতিভাবান অনেক ক্রিকেটার আছেন, যারা সুযোগ পেলে নিজেদের সেরাটা দিতে সক্ষম। অধিনায়ক হিসেবে তিনি প্রত্যেক খেলোয়াড়ের পাশে দাঁড়ানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
মিরাজ বলেন, একটি সফল দল গড়ে তুলতে হলে কেবল অধিনায়কের ভূমিকা যথেষ্ট নয়; প্রত্যেক ক্রিকেটারের পারফরম্যান্সও সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ। তিনি আশা করছেন, সতীর্থরা নিজেদের সামর্থ্য অনুযায়ী খেলতে পারলে বাংলাদেশ দল সামনে ভালো ফল করতে পারবে।
বিশ্বকাপের পথচলার শুরুতে পাকিস্তানের বিপক্ষে এই সিরিজকে তাই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মনে করছেন তিনি। তাঁর কথায়, ব্যক্তিগত অর্জনের চেয়ে দেশের স্বার্থই সবচেয়ে বড়।
মিরাজ বলেন, “আমার কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো বাংলাদেশ। সামনে বিশ্বকাপ আছে, সেখানে জায়গা করে নেওয়াটা আমাদের বড় লক্ষ্য। যে–ই অধিনায়ক থাকুক না কেন, আমাদের সবার প্রথম অগ্রাধিকার হওয়া উচিত বাংলাদেশকে বিশ্বকাপে নেওয়া।”
এই সিরিজ দিয়েই মূলত নতুন প্রত্যাশা নিয়ে ওয়ানডে যাত্রা শুরু করছে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। এখন দেখার বিষয়, মাঠের লড়াইয়ে সেই প্রত্যাশা কতটা বাস্তবে রূপ নিতে পারে।
