রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল (রামেক)-এ অজ্ঞাত রোগে আক্রান্ত হয়ে মধ্যবয়সী এক নারীর মৃত্যু হয়েছে। দীর্ঘদিন চিকিৎসাধীন থাকার পর গত বুধবার, ২৮ জানুয়ারি, হাসপাতালের একটি ওয়ার্ডে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, এর আগে চলতি মাসের ১৪ জানুয়ারি অসুস্থ অবস্থায় তাকে রামেক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। রোগীর বাড়ি নওগাঁ জেলায়।
মৃত্যুর পর রোগীর স্বজনেরা গভীর উদ্বেগ ও অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছেন। কারণ, এখনো পর্যন্ত চিকিৎসকরা নিশ্চিত করে বলতে পারেননি—ঠিক কোন রোগে আক্রান্ত হয়ে ওই নারীর মৃত্যু হয়েছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষও প্রাথমিকভাবে রোগের নির্দিষ্ট নাম বা কারণ উল্লেখ করতে পারেনি। ফলে বিষয়টি নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই এলাকায় উদ্বেগ ও কৌতূহল তৈরি হয়েছে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওই নারীর শরীরে একাধিক গুরুতর উপসর্গ দেখা দিয়েছিল। এর মধ্যে ছিল উচ্চমাত্রার জ্বর, তীব্র মাথাব্যথা, খিঁচুনি এবং বারবার বমি ভাব। চিকিৎসকদের ভাষ্য অনুযায়ী, এসব উপসর্গ নিপাহ ভাইরাসসহ কিছু সংক্রামক ও স্নায়ুবিক রোগের লক্ষণের সঙ্গে মিল রয়েছে। তবে কেবল উপসর্গের ভিত্তিতে রোগ নির্ণয় করা সম্ভব নয় বলেই কর্তৃপক্ষ কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারেনি।
রামেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল পি কে এম মাসুদ উল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, রোগ নির্ণয়ের জন্য জাতীয় পর্যায়ের বিশেষজ্ঞ সংস্থা রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান (আইইডিসিআর) ইতোমধ্যে তদন্ত শুরু করেছে। আইইডিসিআরের একটি দল হাসপাতাল থেকে রোগীর প্রয়োজনীয় নমুনা সংগ্রহ করেছে এবং সেগুলো পরীক্ষার আওতায় নেওয়া হয়েছে। পরীক্ষার ফলাফল না পাওয়া পর্যন্ত রোগের ধরন সম্পর্কে নিশ্চিত করে কিছু বলা সম্ভব নয় বলে তিনি জানান।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, শীত মৌসুমে জ্বর, খিঁচুনি ও স্নায়বিক জটিলতা দেখা দিলে সংক্রামক রোগের সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না। বিশেষ করে নিপাহ ভাইরাসের মতো রোগে আক্রান্ত হলে দ্রুত জটিলতা দেখা দিতে পারে এবং সময়মতো সঠিক চিকিৎসা না পেলে মৃত্যুঝুঁকি বেড়ে যায়। তবে এই ঘটনার সঙ্গে নিপাহ ভাইরাস বা অন্য কোনো নির্দিষ্ট রোগের সম্পর্ক আছে কি না, তা পুরোপুরি নির্ভর করছে পরীক্ষার ফলাফলের ওপর।
রোগীর চিকিৎসা ও ঘটনার ধারাবাহিকতা সংক্ষেপে তুলে ধরতে নিচে একটি সারণি দেওয়া হলো:
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| রোগীর বয়স ও পরিচয় | মধ্যবয়সী নারী, নওগাঁ জেলার বাসিন্দা |
| হাসপাতালে ভর্তি | ১৪ জানুয়ারি |
| মৃত্যু | ২৮ জানুয়ারি |
| প্রধান উপসর্গ | জ্বর, মাথাব্যথা, খিঁচুনি, বমি ভাব |
| সম্ভাব্য রোগ | নিপাহ ভাইরাসসহ অজ্ঞাত সংক্রামক রোগ |
| তদন্তকারী সংস্থা | আইইডিসিআর |
| বর্তমান অবস্থা | পরীক্ষার ফল অপেক্ষমাণ |
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পরীক্ষার ফল হাতে এলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে এবং প্রয়োজনে জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এদিকে স্বজনেরা দ্রুত সঠিক তথ্য প্রকাশ ও ঘটনার স্বচ্ছ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।
