পপসংগীতের তারকা টেইলর সুইফট আবারও স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্ম স্পটিফাইয়ে নতুন মাইলফলক তৈরি করেছেন। সম্প্রতি প্রকাশিত তাঁর গান ‘পেশেন্ট জিরো’ মুক্তির প্রথম দিনেই বিপুলসংখ্যক স্ট্রিম পেয়েছে। স্পটিফাইয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালে এক দিনে কোনো নারীশিল্পীর সবচেয়ে বেশি স্ট্রিম পাওয়া গান হিসেবে রেকর্ড গড়েছে এটি।
গত শুক্রবার ‘দ্য লাইফ অব আ শোগার্ল: দ্য এনকোর’ নামে অ্যালবামের বর্ধিত সংস্করণ প্রকাশ করেন সুইফট। এতে নতুন চারটি গান যুক্ত হয়েছে—‘পেশেন্ট জিরো’, ‘ক্লিভল্যান্ড!’, ‘পিঙ্ক ক্লাউডিং’ ও ‘ব্যাবিলন’। প্রকাশের পরপরই চারটি গান জায়গা করে নেয় স্পটিফাইয়ের ‘টপ ৫০ গ্লোবাল’ তালিকার শীর্ষ চার অবস্থানে। একই শিল্পীর চারটি নতুন গান একসঙ্গে তালিকার প্রথম চারটি জায়গা দখল করায় প্রকাশনাটি ঘিরে শ্রোতাদের আগ্রহও স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
প্রাথমিক স্ট্রিমিং হিসাব বলছে, ‘পেশেন্ট জিরো’ গানটি এক কোটি ৩৭ লাখের বেশি বার শোনা হয়েছে। ‘ক্লিভল্যান্ড!’ পেয়েছে ৯৬ লাখের বেশি স্ট্রিম। ‘পিঙ্ক ক্লাউডিং’ ৮৭ লাখের বেশি এবং ‘ব্যাবিলন’ ৮৪ লাখের বেশি স্ট্রিম পেয়েছে। চারটি গান মিলিয়ে প্রথম দিকের হিসাবেই স্ট্রিমের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে প্রায় ৪ কোটি ৪ লাখের বেশি।
এই পরিসংখ্যান শুধু নতুন গানগুলোর প্রতি তাৎক্ষণিক শ্রোতাসাড়ার চিত্রই তুলে ধরছে না, একই সঙ্গে সুইফটের সংগীত প্রকাশ ঘিরে তাঁর বিশাল বৈশ্বিক শ্রোতাগোষ্ঠীর সক্রিয়তাও সামনে আনছে। নতুন গান প্রকাশের পর প্রথম কয়েক ঘণ্টা ও দিনে স্ট্রিমিং সংখ্যা দ্রুত বাড়া বর্তমানে কোনো শিল্পীর গান কতটা শ্রোতার কাছে পৌঁছাচ্ছে, তার একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচক হিসেবে বিবেচিত হয়।
‘পেশেন্ট জিরো’ নিয়ে আগ্রহ আরও বাড়িয়েছে গানটির মিউজিক ভিডিও। রোববার রাতে অনুষ্ঠিত এমটিভি ভিডিও মিউজিক অ্যাওয়ার্ডস বা ভিএমএ অনুষ্ঠানে ভিডিওটির পূর্ণাঙ্গ সংস্করণের ওয়ার্ল্ড প্রিমিয়ার হয়। এতে সুইফটের সঙ্গে অভিনয় করেছেন হলিউডের অভিনেত্রী ডাকোটা জনসন ও অভিনেতা কলিন ফারেল।
এর আগে বৃহস্পতিবার প্রকাশ করা হয়েছিল ভিডিওটির মাত্র ১৩ সেকেন্ডের একটি টিজার। সময়ের দিক থেকে ছোট হলেও টিজারটিতে ছিল বেশ কিছু রহস্যময় দৃশ্য। সুইফট ও ডাকোটা জনসনকে আয়নার সামনে দেখা যায়। একটি দৃশ্যে তাঁদের পানিতে ডুব দিতে দেখা গেছে। আবার একটি কবরের পাশেও তাঁদের উপস্থিতি দেখা যায়। কলিন ফারেলকেও কয়েকটি রহস্যঘেরা দৃশ্যে দেখা যায়।
টিজার প্রকাশের পরপরই সুইফটের ভক্তদের মধ্যে শুরু হয় নানা আলোচনা ও জল্পনা। তাঁর গান, মিউজিক ভিডিও এবং প্রচারণামূলক উপকরণে বিভিন্ন প্রতীক, শব্দ বা দৃশ্যের মাধ্যমে ইঙ্গিত রাখার বিষয়টি ভক্তদের কাছে নতুন নয়। এসব সম্ভাব্য গোপন ইঙ্গিতকে সুইফটের ভক্তরা সাধারণত ‘ইস্টার এগ’ নামে অভিহিত করেন।
সুইফটের সংগীতজগতে ‘ইস্টার এগ’ নিয়ে ভক্তদের আগ্রহ দীর্ঘদিনের। নতুন গান বা অ্যালবাম প্রকাশের আগে কিংবা পরে তাঁরা ভিডিওর ছোট কোনো দৃশ্য, পোশাক, শব্দ, সংখ্যা কিংবা প্রতীকের সঙ্গে তাঁর আগের কাজের সম্ভাব্য সম্পর্ক খুঁজে দেখেন। ফলে মাত্র কয়েক সেকেন্ডের কোনো টিজারও তাঁর ভক্তদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিতে পারে।
এর আগে ‘ল অ্যান্ড অর্ডার: এসভিইউ’ভিত্তিক একটি স্কিটে অভিনেত্রী মারিশকা হার্গিটের সঙ্গে হাজির হয়েছিলেন সুইফট। সেখানে তাঁর ব্যবহৃত কয়েকটি অস্বাভাবিক শব্দ ও বাক্যাংশ—‘স্যাকারাইড’, ‘এরিস’, ‘ফ্রম দ্য ভিনইয়ার্ড’ এবং ‘নর্থ অর সাউথ’—নিয়েও ভক্তদের মধ্যে আলোচনা হয়েছিল।
সব মিলিয়ে ‘দ্য লাইফ অব আ শোগার্ল: দ্য এনকোর’-এর নতুন চার গান প্রকাশের পর স্পটিফাইয়ের চার্টে সুইফটের আধিপত্য এবং ‘পেশেন্ট জিরো’র রেকর্ড গড়ার খবর নতুন করে আলোচনায় এনেছে তাঁর সংগীতকে। স্ট্রিমিংয়ের সাফল্যের পাশাপাশি মিউজিক ভিডিও ঘিরে রহস্য ও ভক্তদের বিশ্লেষণ—দুই দিক থেকেই নতুন গানটি বাড়তি মনোযোগ কাড়ছে।









