রাজধানীর যাত্রাবাড়ীতে অভিযান চালিয়ে ৩৫ লাখ টাকা মূল্যমানের জাল নোটসহ দুই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে গোয়েন্দা পুলিশ। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন মো. রুবেল হাওলাদার ও সেলিনা আক্তার ওরফে নাসিমা। পুলিশের দাবি, তারা দীর্ঘদিন ধরে জাল নোট সংগ্রহ ও বাজারে সরবরাহের সঙ্গে জড়িত ছিলেন।
শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) রাত ৯টার দিকে যাত্রাবাড়ীর কাজলারপাড় এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গোয়েন্দা পুলিশের একটি দল সেখানে অভিযান পরিচালনা করে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, অভিযানের সময় রুবেল ও সেলিনার কাছ থেকে ১ হাজার, ৫০০ ও ২০০ টাকা মূল্যমানের মোট ৩ হাজার ৯০২টি জাল নোট উদ্ধার করা হয়। এসব নোটের মোট মূল্য ৩৫ লাখ টাকা বলে জানিয়েছে পুলিশ।
রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে রাজধানীতে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে গ্রেপ্তার ও জাল নোট উদ্ধারের তথ্য নিশ্চিত করেন ঢাকা মহানগর পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার (মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স) মো. আকতার হোসেন।
গোয়েন্দা পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে রুবেল ও সেলিনা জানিয়েছেন, তারা দীর্ঘদিন ধরে পরস্পরের সঙ্গে যোগসাজশ করে ঢাকার বিভিন্ন উৎস থেকে জাল নোট সংগ্রহ করতেন। পরে এসব নোট আসল টাকা হিসেবে বাজারে চালিয়ে দেওয়ার উদ্দেশ্যে নিজেদের হেফাজতে রাখতেন। এভাবে আর্থিক লাভের চেষ্টা করতেন বলেও জিজ্ঞাসাবাদে তথ্য পাওয়া গেছে।
জাল নোটের বড় চালান উদ্ধারের ঘটনাকে কেন্দ্র করে পুলিশ এখন ওই নোটের উৎস এবং এর সঙ্গে জড়িত অন্য ব্যক্তিদের শনাক্ত করার চেষ্টা করছে। কোথা থেকে নোটগুলো সংগ্রহ করা হয়েছিল, কার মাধ্যমে সেগুলো রাজধানীতে এসেছে এবং বাজারে ছড়িয়ে দেওয়ার পরিকল্পনায় আর কেউ যুক্ত ছিল কি না—এসব বিষয় তদন্তের আওতায় রয়েছে।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জন্য জাল নোটের কারবার একটি গুরুত্বপূর্ণ অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হয়। কারণ, এসব নোট আসল হিসেবে লেনদেনে ব্যবহৃত হলে সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীরা সরাসরি আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে পারেন। একই সঙ্গে বাজারে জাল মুদ্রার বিস্তার বৈধ আর্থিক লেনদেনের ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
যাত্রাবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রাজু জানান, জাল নোট উদ্ধারের ঘটনায় গ্রেপ্তার দুজনের বিরুদ্ধে বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা করা হয়েছে। মামলার পর রোববার সকালে তাদের আদালতে হাজির করা হলে আদালতের নির্দেশে কারাগারে পাঠানো হয়।
পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তার দুজনকে জিজ্ঞাসাবাদ এবং মামলার তদন্তের মাধ্যমে জাল নোটের উৎস ও সরবরাহব্যবস্থার বিষয়ে আরও তথ্য জানার চেষ্টা চলছে। উদ্ধার হওয়া নোটগুলোর উৎস শনাক্ত করা গেলে এই চক্রের সঙ্গে যুক্ত অন্য ব্যক্তিদের বিরুদ্ধেও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।
রাজধানীর ব্যস্ত বাণিজ্যিক ও আবাসিক এলাকাগুলোতে জাল নোটের লেনদেন ঠেকাতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করে। যাত্রাবাড়ীর সাম্প্রতিক অভিযানে একসঙ্গে ৩ হাজার ৯০২টি জাল নোট উদ্ধারের ঘটনায় তদন্তের পরিধিও এখন আরও বিস্তৃত হচ্ছে। তবে মামলার তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের দেওয়া তথ্য ও তাদের কথিত সম্পৃক্ততার বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই।









