,

ভারত থেকে আমদানির শেষ চালানের চাল পৌঁছাল মোংলা বন্দরে

সরকারিভাবে ভারত থেকে আমদানি করা চালের চূড়ান্ত ও শেষ চালানটি অবশেষে মোংলা বন্দরে এসে পৌঁছেছে। দুই দেশের মধ্যে সম্পাদিত আমদানি চুক্তির তৃতীয় প্যাকেজের অংশ হিসেবে এই চাল আনা হয়েছে। শনিবার (২৭ জুন, ২০২৬) ভোরে চাল বোঝাই ভিয়েতনামের পতাকাবাহী ‘এমভি পু থান-৩৬’ নামের একটি বিদেশি জাহাজ মোংলা বন্দর চ্যানেলে এসে নোঙর করে। এই চালানের মাধ্যমে ভারত থেকে চুক্তিভুক্ত সব চাল দেশে আসার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলো।

মোংলা বন্দর এলাকার সহকারী খাদ্য নিয়ন্ত্রক আবদুস সোবাহান জাহাজের আগমন ও চালের পরিমাণের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, শেষ চালানে আসা এই জাহাজটিতে ৫ হাজার ৭৩৬ দশমিক ৫০০ মেট্রিক টন সেদ্ধ চাল রয়েছে। বন্দরে জাহাজটি নোঙর করার পরপরই খাদ্য বিভাগের কর্মকর্তারা সেটির পরিদর্শন করেন। বর্তমানে চালের গুণগত মান ও পুষ্টিগুণ নিরূপণের জন্য নমুনা সংগ্রহ করে নির্দিষ্ট পরীক্ষাগারে (ল্যাবরেটরি) পাঠানো হয়েছে।

খাদ্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ল্যাবরেটরি পরীক্ষার ফল যদি সম্পূর্ণ সন্তোষজনক আসে এবং কাস্টমস কর্তৃপক্ষের প্রয়োজনীয় আইনি ও দাপ্তরিক অনুমোদন সম্পন্ন হয়, তবেই জাহাজ থেকে চাল খালাসের মূল কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হবে। বন্দর ও কাস্টমসের যাবতীয় আনুষ্ঠানিকতা দ্রুততম সময়ের মধ্যে শেষ করার জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি ইতিমধ্যেই সম্পন্ন করে রাখা হয়েছে।

সহকারী খাদ্য নিয়ন্ত্রক আরও জানান, এই বিশেষ চালানের মধ্য দিয়ে ভারত থেকে আমদানির জন্য চুক্তিভুক্ত চালের পুরো কোটা পূরণ হলো। সরকারি খাদ্য মজুত শক্তিশালী করতে এবং অভ্যন্তরীণ বাজারের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে এই চাল আমদানি করা হয়েছিল। সব মিলিয়ে মোট ১০টি বড় জাহাজে করে এই বিপুল পরিমাণ চাল পর্যায়ক্রমে মোংলা বন্দরে এসে পৌঁছায়। প্রতিটি চালানের মান কঠোরভাবে পরীক্ষা করে তবেই তা গ্রহণ করা হয়েছে।

বন্দর থেকে খালাস হওয়ার পর এই চালগুলো মোংলা সাইলো ও খাদ্যগুদামে সাময়িকভাবে রাখা হচ্ছে। এরপর সেখান থেকে নৌ ও নদীপথে বার্জ বা কার্গো জাহাজের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন সরকারি খাদ্যগুদাম ও জেলা-উপজেলা পর্যায়ে পাঠানো হচ্ছে। এই চালের সরবরাহ দেশের ওএমএস (ওপেন মার্কেট সেলস) এবং খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির আওতায় সাধারণ মানুষের মাঝে বিতরণ করা হবে।

খাত সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, ভারত থেকে আমদানিকৃত এই চালের শেষ চালানটি আসার ফলে দেশের সরকারি খাদ্যশস্যের মজুত আরও সংহত হবে। এটি চালের বাজারে অসাধু ব্যবসায়ীদের কৃত্রিম সংকট তৈরির চেষ্টা নস্যাৎ করতে এবং ভোক্তাদের স্বস্তি দিতে বড় ভূমিকা রাখবে।

এক নজরে মোংলা বন্দরে আসা ভারতীয় চালের আমদানি তথ্য

ভারত থেকে সম্পাদিত চুক্তির আওতায় আসা চাল ও বন্দর ব্যবস্থাপনার মূল তথ্যগুলো নিচে সংক্ষিপ্ত আকারে তুলে ধরা হলো:

  • শেষ চালানের জাহাজের নাম: এমভি পু থান-৩৬ (ভিয়েতনামের পতাকাবাহী)

  • শেষ চালানের মোট পরিমাণ: ৫,৭৩৬.৫০০ মেট্রিক টন

  • মোট ব্যবহৃত জাহাজের সংখ্যা: ১০টি (ভিন্ন ভিন্ন চালানে)

  • আমদানির ধরন: সরকারি চুক্তি (৩য় প্যাকেজ)

  • স্থানান্তরের মাধ্যম: নদী ও অভ্যন্তরীণ নৌপথ

  • পরবর্তী বিতরণ প্রক্রিয়া: দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের সরকারি খাদ্যগুদাম ও রেশন ব্যবস্থা

Tags :

সর্বশেষ খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : এ বি এম জাকিরুল হক টিটন ।

জিলাইভ২৪ বিশ্বব্যাপী বাংলাভাষীদের জন্য একটি নির্ভরযোগ্য অনলাইন নিউজ পোর্টাল; যা রাজনীতি, খেলাধুলা, ব্যবসা-বাণিজ্য ও আন্তর্জাতিক সংবাদের সর্বশেষ আপডেট প্রকাশ করে।

© ২০২৬ GLive24। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।