বগুড়া জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি সাজেদুর রহমান শাহিনসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) রাতে চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার সদর থানা এলাকায় পৃথক অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন বগুড়া জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি ও খরনা ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান সাজেদুর রহমান শাহিন (৫২), জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সিনিয়র সহসভাপতি সৈয়দ আবু জাফর সিদ্দিক রিপন (৬০), শহর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সাব্বির হোসেন নির্জন ওরফে ভাদু (২৯) এবং সংগঠনটির কর্মী হিসেবে পরিচিত ফেরদৌস হোসেন (২৬)।
পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে সাজেদুর রহমান শাহিনের বিরুদ্ধে ১৫টির বেশি মামলা রয়েছে। সাব্বির হোসেন নির্জনের বিরুদ্ধে ১০টির বেশি মামলা এবং ফেরদৌস হোসেনের বিরুদ্ধে দুইটির বেশি মামলা থাকার কথা জানিয়েছে ডিবি। এসব মামলার ধরন ও বর্তমান আইনি অবস্থার বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে জানানো হয়নি।
বগুড়া জেলা ডিবি পুলিশের অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ইকবাল বাহার জানান, চারজনই দীর্ঘদিন ধরে আত্মগোপনে ছিলেন। গোপন তথ্যের ভিত্তিতে তাদের অবস্থান শনাক্ত করার পর চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার সদর থানা এলাকায় অভিযান চালানো হয়।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, সোমবার রাত আনুমানিক ১০টার দিকে অভিযানের মাধ্যমে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাদের বগুড়ায় নিয়ে আসার প্রক্রিয়া শুরু করা হয়। গ্রেপ্তারের সময় তাদের কাছ থেকে কোনো অস্ত্র বা অন্য কোনো সামগ্রী উদ্ধার করা হয়েছে কি না, সে বিষয়ে পুলিশ কোনো তথ্য জানায়নি।
ডিবির ওসি বলেন, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে থাকা মামলাগুলো যাচাই-বাছাই করে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। কোন মামলায় তাদের গ্রেপ্তার দেখানো হবে এবং সংশ্লিষ্ট মামলাগুলোর তদন্ত বা বিচারিক কার্যক্রম কোন পর্যায়ে রয়েছে, সেসব বিষয়ও যাচাই করছে পুলিশ।
দীর্ঘদিন আত্মগোপনে থাকার পর চারজনের গ্রেপ্তারের ঘটনায় সংশ্লিষ্ট মামলাগুলোর কার্যক্রম নতুন করে এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। তবে প্রত্যেক মামলায় অভিযোগের প্রকৃতি, প্রমাণ এবং আদালতের পূর্ববর্তী আদেশ পৃথকভাবে বিবেচিত হবে।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে থাকা মামলাগুলো যাচাই শেষে তাদের আদালতে সোপর্দ এবং প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ। মামলার বিচারিক প্রক্রিয়ায় অভিযোগের সত্যতা ও দায় নির্ধারিত হবে।









