রাজধানীতে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) নিয়মিত অপরাধবিরোধী অভিযানে গত ২৪ ঘণ্টায় ৪৯২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। একই সময়ে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে ৪ কেজি গাঁজা, ৪ হাজার ৫৩৩ পিস ইয়াবা, ৭৫ বোতল ফেন্সিডিল ও ১১টি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়েছে। এসব অভিযানে ২৯টি মামলা করা হয়েছে। পাশাপাশি একজন ভিকটিমকে উদ্ধার করেছে পুলিশ।
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মো. আকতার হোসেনের পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।
ডিএমপি জানায়, রাজধানীর বিভিন্ন থানা এলাকায় নিয়মিত অপরাধবিরোধী অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানের অংশ হিসেবে সন্দেহভাজন ও বিভিন্ন মামলার আসামিদের গ্রেপ্তারের পাশাপাশি মাদকদ্রব্য ও অপরাধের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন আলামত জব্দ করা হয়েছে। তবে বিজ্ঞপ্তিতে জব্দ করা অন্যান্য আলামতের বিস্তারিত বিবরণ দেওয়া হয়নি।
গ্রেপ্তারের হিসাবে সবচেয়ে বেশি ব্যক্তি ধরা পড়েছেন মিরপুর ও তেজগাঁও বিভাগে। মিরপুর বিভাগে ১০৬ জন এবং তেজগাঁও বিভাগে ১০৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অর্থাৎ এই দুই বিভাগেই মোট ২১১ জন গ্রেপ্তার হয়েছেন, যা মোট গ্রেপ্তারের বড় একটি অংশ।
এ ছাড়া ওয়ারী বিভাগে ৬৯ জন, মতিঝিল বিভাগে ৬১ জন, লালবাগ বিভাগে ৪৫ জন এবং গুলশান বিভাগে ৪২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। উত্তরা বিভাগে ৩৫ জন এবং রমনা বিভাগে ২৬ জন গ্রেপ্তার হয়েছেন। ডিএমপির গোয়েন্দা বিভাগ থেকে দুজন এবং কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) বিভাগ থেকে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
মাদক উদ্ধারের দিক থেকেও অভিযানে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ সামগ্রী জব্দ হয়েছে। পুলিশের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ৪ কেজি গাঁজা, ৪ হাজার ৫৩৩ পিস ইয়াবা এবং ৭৫ বোতল ফেন্সিডিল উদ্ধার করা হয়েছে। এর পাশাপাশি ১১টি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়েছে। এসব মাদক ও অন্যান্য আলামত কোন কোন মামলায় জব্দ করা হয়েছে, সে বিষয়ে বিজ্ঞপ্তিতে পৃথকভাবে বিস্তারিত জানানো হয়নি।
অভিযানের সময় একজন ভিকটিমকে উদ্ধার করার কথাও জানিয়েছে ডিএমপি। তবে উদ্ধার হওয়া ব্যক্তির পরিচয়, কোথা থেকে তাকে উদ্ধার করা হয়েছে কিংবা কী ধরনের ঘটনার সঙ্গে তিনি সংশ্লিষ্ট—এসব বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
ডিএমপি জানিয়েছে, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট থানায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। উদ্ধার করা মাদকদ্রব্য ও অন্যান্য আলামতও প্রয়োজন অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট মামলার তদন্তে উপস্থাপন করা হবে।
তবে পুলিশের অভিযানে কাউকে গ্রেপ্তার করা এবং আদালতে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়া এক বিষয় নয়। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ তদন্ত ও পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যাচাই হবে। আদালতের সিদ্ধান্তের আগে কাউকে দোষী হিসেবে চূড়ান্তভাবে বিবেচনা করার সুযোগ নেই।
রাজধানীর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ডিএমপি নিয়মিতভাবে বিভিন্ন এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে। এসব অভিযানে থানা পুলিশের পাশাপাশি ডিএমপির গোয়েন্দা ও অন্যান্য বিশেষায়িত ইউনিটও দায়িত্ব পালন করে। অপরাধের ধরন ও প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে অভিযানের পরিধি ও সংশ্লিষ্ট ইউনিটের ভূমিকা ভিন্ন হতে পারে।
গত ২৪ ঘণ্টার তথ্য বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, মিরপুর ও তেজগাঁও বিভাগে গ্রেপ্তারের সংখ্যা প্রায় সমান এবং অন্য বিভাগগুলোর তুলনায় বেশি। বিপরীতে গোয়েন্দা বিভাগ ও সিটিটিসি থেকে যথাক্রমে দুজন ও একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এসব বিশেষায়িত ইউনিটের অভিযান সাধারণত নির্দিষ্ট অপরাধ, গোয়েন্দা তথ্য বা বিশেষ তদন্তের ভিত্তিতে পরিচালিত হতে পারে।
ডিএমপি জানিয়েছে, রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় অপরাধ দমন, মাদকবিরোধী কার্যক্রম এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত অভিযান অব্যাহত থাকবে। গ্রেপ্তার ও উদ্ধারসংক্রান্ত পরবর্তী তথ্য তদন্ত ও আইনগত প্রক্রিয়ার অগ্রগতির সঙ্গে জানা যেতে পারে।









